ব্রেকিং নিউজ

দর্শনার্থীর পদভারে মুখর সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন


৮ জুন, ২০১৯ ৩:২৪ : অপরাহ্ণ

।। সবুজ শর্মা শাকিল।।

বিএনএ, সীতাকুণ্ড(চট্টগ্রাম): সীতাকুণ্ডে ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থী ও পর্যটকের আনাগোনায় প্রানবন্ত ও উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা এখানে এসেছেন। নানা বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুদের পদচারণে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। ঢাকার একটি বেসরকারি সংস্থার প্রধান নির্বাহী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভেতরে জলপ্রপাতে বর্ষার রূপ দেখলাম। প্রবল বেগে পাথরের ওপর আছড়ে পড়ছে বৃষ্টির পানি। কী যে ভালো লাগছে।’

সরেজমিন ইকোপার্কে গিয়ে দেখা গেছে, অসংখ্য পর্যটকের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এই পর্যটন স্পটটি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কবি নজরুলের স্মৃতি বিজড়িত এই স্থানে ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন স্থাপন করলে দেশবাসীর কাছে একটি অন্যতম আকর্ষনীয় পর্যটন স্পটে পরিনত হয় এটি। সেই থেকে প্রতি বছর পর্যটন মৌসুমে দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে ইকোপার্ক।

পার্কের গাইড কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইকোপার্কের অন্যতম মূল আকর্ষন হলো প্রাকৃতিক ঝর্ণা ও হাজারো রকমের দুর্লভ প্রজাতির গাছ। তাছাড়া পার্কের চুড়া থেকে সোজা পশ্চিমে তাকালে দেখা যায় বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ। গাইডদের মতে পার্ক থেকে মাত্র কয়েক কিঃ মিঃ পশ্চিমে এই সমুদ্র হওয়ায় বিকেলে এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের বেশিরভাগই এখানে এলে সমুদ্রে সূর্যাস্ত দেখে যান। আর এক ঢিলে দুই পাখি পাহাড় ও সমুদ্র দর্শন করে আবেগে আপ্লুত হন সবাই।

পর্যটকরা উপভোগ করছেন পার্কের সামনে দুর্লভ প্রজাতির গোলাপ বাগান, অর্কিড হাউস, গ্রীণ হাউস, পদ্ম পুকুর, ভ্যালি ব্রীজ, প্রাকৃতিক লেক, নয়নাভিরাম ঝর্ণা, আর হাজারো পাখির কলতান। ভাগ্য ভালো হলে দেখা পেতে পারেন বানর, নানারকম মায়া হরিণ সহ কয়েক প্রকার বণ্য প্রাণীরও।
ঢাকার নারায়নগঞ্জ থেকে আসা ইকবাল,ইকরাম,খোকন ও তাসলিমাসহ কয়েকজনের ভাষ্য,ইকো পার্কে প্রবেশ পথে প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কে অনেক খানাখন্দ। তারপরও প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্য দেখে আমাদের মন ভরে গেছে।

চট্টগ্রাম শহর থেকে ইকোপার্ক ও বোটানিক্যাল গার্ডেন এ ঘুরতে আসা পর্যটক বাবুল মিয়া বাবলা বিএনএ নিউজকে বলেন, শহুরে একঘেঁয়ে জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এমন পাহাড়ী নির্জনতা নিঃসন্দেহে সবার কাছে আকর্ষণীয়। তিনি আরো বলেন, ‘এখানকার মূল আকর্ষণ যে ঝর্ণাটি তা দেখে তিনি মুগ্ধ। এখানে এসে তার মনে হয়েছে আসলেই এদেশে অনেক কিছুই দেখার আছে। তবে যেখানে সেখানে অবাধে ধূমপান তার ভালো লাগেনি।’

এখানে এসে মুগ্ধ হবার কথা জানিয়ে আরেক পর্যটক মানিক দাস বিএনএকে বলেন, ‘এখানকার বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে তিনি সংগ্রহ করেছেন অনেক অজানা দূর্লভ বৃক্ষের নাম পরিচয়। যা তার চলার পথে অনেক কাজে লাগবে বলে তিনি মনে করেন। আর পার্কের সৌন্দর্য্যের দারুন প্রশংসা করলেও তিনি এখানে ব্যবস্থাপনা কিছুটা দুর্বল বলে মনে করছেন। ফলে পাহাড় চূড়ার দোকানদার ২০ টাকা মূল্যের পানির বোতল ৫০ টাকা আদায় করা ছাড়াও সব কিছুর মূল্যই দুই থেকে তিনগুন পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন বলে তার অভিযোগ। এদিকে ছোটখাট এই অভিযোগগুলির কথা বাদ দিলে যারা এখানে ঈদের ছুটিতে বেড়াতে এসেছেন তারা সকলেই মুগ্ধ আকাশের বুকে পাহাড়ের হেলান দিয়ে ঘুমানোর দৃশ্য কিংবা নয়নাভিরাম ঝর্ণা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন।
ইকোপার্কের প্রবেশের প্রধান ফটকের ইজারাদার মো.সাহাবউদ্দিন জানান,ঈদে ৩০ হাজারের মতো টিকিট পর্যটকের কাছে তারা বিক্রি করেছেন। প্রচুর দর্শনার্থীর আগমন হবে ধারণা করেই আমরা ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি।
বিএনএ/এসজিএন

ট্যাগ :

সীতাকুণ্ড

আরো সংবাদ