ব্রেকিং নিউজ

বাজেটে সিগেরেটের দাম ডাবল!


১৩ জুন, ২০১৯ ১:৫৯ : অপরাহ্ণ

সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের এই শিরোনামে উপস্থাপন করা হবে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের নতুন বাজেট আজ বৃহস্পতিবার(১৩জুন)। ৫ লাখ ২৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকার মত নতুন বাজেটের আকার হবে।নতুন বাজেট সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী বাড়ছে যা  সুসংবাদ আবার লোকসানী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সঞ্চয়পত্র ব্যবহারকারী ও ধূমপায়ীদের জন্য থাকছে দুঃসংবাদ।

বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী মানুষদের গুরুত্ব আরোপ করছে সরকার।তাই এ খাতে গত বাজেটের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে বরাদ্ধ পরিমাণ।৭৪ লাখ থেকে ১৩ লাখ বাড়িয়ে ৮৭ লাখে উন্নীত করতে চায় সুবিধাভোগীদের সংখ্যা। বর্তমানে ৭৪ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরণের ভাতা পেয়ে থাকেন।

চলতি অর্থ বছরে (২০১৮-১৯)সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে বরাদ্ধ রাখা হয়েছে ৬৪ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা।২০১৭-১৮ অর্থবছরের ছিল ৫৪ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, ২০১৬-১৭ সালে এ খাতে বরাদ্ধ ছিল ১৯ হাজার ২৯১ কোটি টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বরাদ্ধের  পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ৮০ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে মুক্তিযোদ্ধাদের বরাদ্ধ বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।চলতি অর্থবছরে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্ধ রয়েছে।২ লাখ মুক্তিযোদ্ধা সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় ভাতা পাচ্ছে। বয়স্ক ভাতা ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা থেকে ২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা করা হয়েছে। বাজেটে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতার ভাতার পরিধি ৮৪০ কোটি টাকা থেকে বরাদ্ধ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ১ হাজার ২০ কোটি টাকা। অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা বাবদ বরাদ্ধ ছিল আগে ৮৪০ কোটি টাকা। এখন বাড়িয়ে রাখা হয়েছে ১ হাজার ৯০ কোটি টাকা। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় বরাদ্ধ ছিল ৮০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।এখন বাড়িয়ে রাখা হয়েছে ৯৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখে নেয়া হবে। অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কার্যক্রমের আওতায় তহবিলের আকার ও উপকারভোগীর সংখ্যা ।এ খাতে বরাদ্ধরাখা ছিল আগে ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। পরিবর্তন হয়নি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতেও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্ধ রাখা হয়েছে ২ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা।

বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেয় জন্য বরাদ্ধ বাড়িয়ে ৫০ কোটি ৩ লাখ টাকা থেকে ৬৭ কোটি ১০ লাখ টাকা রাখা হচ্ছে। বাজেটে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় ভাতাভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৬৪৭ থেকে ৫ হাজার ৭৬৭ বাড়ানো হয়েছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্ধ আছে ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। লিভার সিরোসিস, ক্যান্সার, কিডনি, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীদের উপভোগকারীর সংখ্যা ১৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজারে করা হচ্ছে। এবং ৭৫ কোটি টাকা থেকের বরাদ্ধ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ১৫০ কোটি টাকা। চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এ খাতে বরাদ্ধ বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে ২৫ কোটি টাকা।আগে বরাদ্ধ রাখা হয়েছে ২০ কোটি টাকা।

গ্রামীণ দুস্থ মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর বরাদ্ধ রাখা হচ্ছে ৭৩৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগে বরাদ্ধের পরিমাণ ছিল ৬৭২ কোটি টাকা। শ্রমজীবী মায়েদের সহায়তা জন্য বরাদ্ধ রাখা হচ্ছে ২৪০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৬৪ কোটি টাকা। ভিজিডি কার্যক্রম তহবিলের বরাদ্ধের পরিমাণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এ খাতে বরাদ্ধ ছিল ১ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭০ হাজার টাকা।

এছাড়া নতুন বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হতে পারে এবং সরকার ২০১৯-২০ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে ২৭ হাজার কোটি টাকা তহবিলে জমা করার টার্গেট নিয়েছে।

নতুনভাবে লোকসানি প্রতিষ্ঠানসমূহকে উৎসে কর প্রদান করতে হবে। লোকসান দেখিয়ে কর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ বাতিল করছে প্রতিষ্ঠানগুলোর এবং যেকোন ধরণের ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

যারা ধূমপান করে তাদের জন্য নতুন বাজেটে ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। বেনসন, গোল্ডলিফ ও তার সমমান অন্যান্য ব্র্যান্ডের প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম ৮ টাকা করে বৃদ্ধি পাবে। এক শলাকা গোল্ডলিফ ১৬ টাকা এবং বেনসন ২০ টাকা ধরে বিক্রি হবে। বর্তমানে সিগারেট প্রতি শলাকা ৮ টাকা থেকে শুরু করে ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বাজারে।

বিএনএ/এমএফ/এসজিএন

ট্যাগ :

আরো সংবাদ