প্রতিদিন ইঁদুর বিড়ালের খেলা চলে যেখানে


১৯ জুন, ২০১৯ ১১:৫৬ : পূর্বাহ্ণ

।।আবির হাসান।।

চট্টগ্রাম : ‘প্রতিদিন ইঁদুর বিড়ালের খেলা আর ভাল লাগে না- সকাল ১১টা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট বসেন। কোথায় বসেন আমরা খবর পেয়ে যাই। লাইনম্যানগুলো হেব্বি চালু। মুহূর্তের খবর আপডেট হয়ে যায়।ব্যস আমরা আর ওপথ মাড়াইনা। যতটুকু নিরাপদ ততটুকু যাই। যাত্রীদের নামিয়ে দেই। যাত্রীদের জন্য কষ্ট লাগে। কিন্তু কি করবো। যাত্রীদের জন্য মায়া বাড়িয়ে মামলা আর জরিমানাতো আর খাইতে পারবো না’।

টেম্পো চালক নিপু এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে শেষ করলেন।প্রতিদিনের নিয়মিত অফিসযাত্রী সলিম শেখ । তিনি উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন। মূলত আপনাদের সমস্যাটা কোথায়। কেন আপনারা পালিয়ে বেড়ান।

চালক নিপু বললেন, সমস্যা আমাদের না। সমস্যা টেম্পো মালিকের। ট্রাফিক বিভাগ বলেছে, টেম্পোর সামনে যাত্রী বসতে পারবে না। সিট তুলে ফেলতে হবে। নয়তো জরিমানা করা হবে। ভিতরে ১০ আসনবিশিষ্ট আসন হতে হবে। গাদাগাদি করে যাত্রী নেওয়া চলবে না।বাইরে যাত্রী ঝুলতে পারবে না। এ সব সমস্যার জন্য ম্যাজিস্ট্রটের মোবাইল কোর্টের মুখোমুখি তারা হতে চান না চালকরা। কারণ জরিমানার টাকা মালিক দেবেন না। আবার মালিক জমাও কমাবেন না। অতিরিক্ত সিটগুলোও তুলে ফেলবেন না।

চালকরা অতিরিক্ত আসন তুলে ফেলার পক্ষে। যদি মালিকরা তাদের জমা কমিয়ে দেয়।তা নাহলে তারা ১১০০ টাকা দৈনিক আমদানি কোত্থেকে দেবেন। যা আয় তাই যদি মালিক নিয়ে যায়, কিংবা জরিমানার দণ্ড  দিতে হয়, তাহলে সংসার চলবে না। উপোসে মরতে হবে স্ত্রী পুত্র কন্যা মা বাবা নিয়ে।

ম্যাজিস্ট্রেট বলেছেন, প্রথমে আসনগুলো ঠিক করে আসো, পরের সমস্যাগুলো  সমাধান হয়ে যাবে।

নগরীতে সিস্টেম দাঁড় করিয়ে নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে চায় ট্রাফিক প্রশাসন। নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলা তো চালকদের একার পক্ষে বা ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে  সম্ভব নয়।জনসচেতনতার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়াটি দাঁড় করাতে হবে।

প্রথমে জোর করে চাপিয়ে দিলে ধীরে ধীরে এতেই অভ্যস্ত হয়ে যাবে জনগণ। অনেকদিন ধরে অনিয়মের ধারায় চলতে চলতে অনিয়মই তাদের জন্য নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে। এখন নিয়মটাই তাদের জন্য অনিয়ম মনে হচ্ছে।

সলিম শেখ ভাবলেন, পুলিশ কেন ক্লিয়ার মেসেজ দিচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যেই চলবে সব টেম্পোগুলো। আধাআধি যাবে এমন  কোন গাড়ি রোডে নামার প্রয়োজন নেই। হয়তো ভাবতে পারেন, যাত্রীদের যাতে অসুবিধা না হয় সে কথা ভেবেই হয়তো গাড়িগুলো বন্ধ করা হচ্ছে না। তা না হয় হলো। তবে প্রশাসন কঠোর হলে  প্রতিদিন বিড়ম্বনায় না ভোগে টেম্পোচালকরা ইঁদুর বিড়াল খেলার হাত থেকেতো বেঁচে যেতো।

উঠানামা ১০  :  এ সুযোগটি নিচ্ছে  এক শ্রেণির লোভী চালক। যানবাহন সঙ্কট দেখা দিলে তারা বলতে থাকে উঠানামা ১০ টাকা, উঠানামা ১০ টাকা।  দেশটি কি মগের রাজ্য। যা ইচ্ছে করা যাবে। প্রশাসনের কর্তাদের  জনসম্পৃক্ততা নেই।  নিশ্চয়  নেই।নয়তো সড়কের হালচাল সবকিছুই তাদের নজরে থাকতো।কোন অসঙ্গতি দেখা দিলে আগে প্রস্তুতির সুযোগ থাকতো। এখন এমন অবস্থা। ঘটনা ঘটে গেলেই তাদের টনক নড়ে। ওনারা রোগ সারাতে আসেন রোগী মারা যাওয়ার পর।

প্রতিদিন ১ নং সড়কে গুলজার টু বারেক বিল্ডিং রোডে টেম্পো রুটটিতে যাত্রীরা নাজেহাল হচ্ছেন। বেকায়দায় পড়ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে গাড়ির জন্য, প্রশাসন নির্লিপ্ত। এ সমস্যাগুলো কেন জিইয়ে রাখা হচ্ছে জানি না। শ্রমিক সংগঠনগুলোর সাথে বসে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ডেকে সমস্যার সমাধানে সোচ্চার হবেন, তবেই তো সমাধান হবে। কি সমস্যা, কেন সমস্যাগুলো হচ্ছে, এটার সমাধানই বা কী। বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে। গুটিকয় যানবাহন ব্যবসায়ীর কথা না ভেবে জনগণের সুবিধা অসুবিধা চিহ্নিত করে নিয়মগুলো প্রতিষ্ঠিত করুন। তাহলেই শৃঙ্খলা ফিরবে।এর ফলে মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হবে না। অর্থের অপচয় হবে না।

আরো সংবাদ