শিশু রাইফা: বিচারের বাণী নীরবে ও নিভৃতে কাঁদে


২৭ জুন, ২০১৯ ১০:৩২ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম : রবীন্দ্রনাথ বিচারের দীর্ঘসূত্রিতায় মর্মাহত হয়ে প্রশ্ন কবিতায় লিখেছেন, বিচারের বাণী নিভৃতে কাদেঁ। তাঁর মৃত্যুর আশি বছর পরও আড়াই বছরের শিশুকন্যা রাইফার অনাকাংখিত মৃত্যুতে বর্তমান সভ্য সমাজ এ কথাটা বেশী করে অনুভব করছে। গত বছর ২৯ জুন চট্টগ্রামের মেহেদীবাগে অবস্থিত ম্যাক্স হাসপাতাল লিমিটেডে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায়  শিশু রাইফার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে ।এক বছর পেরিয়ে গেলেও শিশু রাইফার  মৃত্যুর অভিযোগের কোনো সুরাহা হয়নি।

রাইফার বাবা সাংবাদিক রুবেল খান জানান, গলায় ব্যাথা নিয়ে গত বছর ২৮ জুন ভর্তির পর রাতে তাকে স্যালাইনের মাধ্যমে এন্টিবায়োটিক দেয়া হয়। এতে সে প্রচণ্ড ঘেমে যায়। স্যালাইন টেনে খুলে ফেলতে চায় সে। সঙ্গে সঙ্গে জানানোর পরও চিকিৎসক কোনো গুরুত্ব দেননি।এরপর শুক্রবার রাত ৯টার দিকে তাকে ঘুমের ওষুধ দেয়া হয়। পরদিন দুপুরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিধান বড়ুয়া আগের ওষুধগুলো বহাল রেখে নতুন ইনজেকশন দিয়ে চলে যান। শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় দফা এন্টিবায়োটিক দেয়ার পর রাইফার প্রচণ্ড খিঁচুনি শুরু হয়।তীব্র ব্যথায় সে দাঁত ও ঠোঁট কামড়াতে থাকে। একপর্যায়ে দাঁত ভেঙে রক্ত বের হতে থাকে। ডা. বিধানকে ফোন করে পরামর্শ চাইলে তিনি সেডিল নামে ঘুমের ইনজেকশন দিতে বলেন।এর দুই ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে রাইফা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

তার মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতেই চট্টগ্রামের সাংবাদিক নেতারা ম্যাক্স হাসপাতালে ছুটে যান। অভিযোগ পেয়ে রাতেই অভিযুক্ত চিকিৎসকসহ তিনজনকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়।কিন্তু বিএমএ নেতারা থানায় গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেন। এ সময় বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল সাংবাদিকদের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন।

রাইফার বাবা সাংবাদিক রুবেল খান বলেন, এ মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের তদন্ত কমিটি ম্যাক্স হাসপাতালের ১১টি ত্রুটি চিহ্নিত করেছে। তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা যদি সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদন দুটির সহায়তা নেন তাহলে মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা সহজ হবে।

রুবেল খান অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বাঁচাতে চট্টগ্রামের বিএমএ নেতাদের একটি অংশ ও ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নানা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ক্ষমতা ও টাকার জোরে সবকিছু নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে।তিনি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য, গতবছরের ১৮ জুলাই ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসায় অবহেলায় মেয়ের মৃত্যুর অভিযোগ এনে চার চিকিৎসকের বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় এজাহার দায়ের করেন রাইফার বাবা সাংবাদিক রুবেল খান। দু’দিন পর এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। মামলায় ডা. বিধান রায় চৌধুরী, ডা. দেবাশীষ সেনগুপ্ত, ডা. শুভ্র দেব ও ম্যাক্স হাসাপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী খানকে আসামি করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন চকবাজার থানার ওসি (তদন্ত) রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী। এ মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে ।

বিএনএ/ওসমান গনী,এসজিএন

 

 

আরো সংবাদ