হলি আর্টিজান হামলার তিন বছর


১ জুলাই, ২০১৯ ১০:২১ : পূর্বাহ্ণ

ঢাকা: রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তৃতীয় বার্ষিকী আজ। ২০১৬ সালের পহেলা জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরায় ভয়াবহ হামলা চালায় জঙ্গিরা।ইতিহাসে সবচেয়ে নৃশংস এ হামলায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে পুরো দেশ। সেই হামলায় প্রাণ হারান ১৭ বিদেশীসহ ২০জন । নিহত হন পুলিশের দুই সদস্যও। ১২ ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস জিম্মি দশার অবসান ঘটে পরের দিন ভোরে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে।

এ ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা হয়।ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে চলছে এই মামলার বিচার কাজ।  তদন্ত শেষে গত বছরের ২৩ জুলাই ২১ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এতে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে আসে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর নাম। ২১ আসামির মধ্যে ঘটনার দিন বেকারির মধ্যেই কমান্ডো অভিযানে মারা যায়৫ জন।বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তামিমসহ নিহত হয় আরও আট জঙ্গি। বাকি আটজন গ্রেফতার হয়ে এখন কারাগারে আছে।

ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গত ২৬ নভেম্বর শুরু হয় মামলার বিচার কাজ। ৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ। ২১১ সাক্ষীর মধ্যে ৬০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

আগামী তিন মাসের মধ্যে বিচার কাজ শেষ হবে এবং অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।তবে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের ধীর গতি বিচারে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ বলেছেন, এই ঘটনায় সরাসরি যারা জড়িত ছিলো তারা সবাই বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। যাদের বিচার চলছে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখন পর্যন্ত কোনো সাক্ষীর বক্তব্যে উঠে আসেনি।

মামলার তদন্ত সংস্থার প্রধান মনিরুল ইসলাম জানালেন, হলি আর্টিজানের মত আরও কয়েকটি বড় ধরণের হামলার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের।হলি আর্টিজান হামলার পরবর্তী সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় জঙ্গি সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। জঙ্গিরা আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলেও বড় ধরণের হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের নেই বলেও জানান মনিরুল ইসলাম।

আর করিম চৌধুরী/এস জি নবী

 

 

আরো সংবাদ