রাষ্ট্রীয় খরচে হজ্বে যাচ্ছেন হেফাজত নেতারা!


১০ জুলাই, ২০১৯ ১২:০৫ : অপরাহ্ণ

।।ওসমান গণি।।

রাষ্ট্রীয় খরচে এবার পবিত্র হজ্ব পালন করতে যাচ্ছেন হেফাজতে ইসলাম ও চরমোনাই পীরের অনুসারীসহ ৫৫ জন ওলামা মাশায়েখ। ধর্ম মন্ত্রণালয় তাদের খরচ বহন করবেন। এ বিষয়ে গত ৯ জুলাই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ৪ ও ৫ আগস্ট ফ্লাইট পাওয়া সাপেক্ষে ওলামা মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরব যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন।  এটি রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। তাদের ভ্রমণ ব্যয় এ বছর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশের বাহিরে হজ বাবদ ব্যয়’ খাতে বরাদ্দ রাখা  অর্থ থেকে বহন করা হবে।

৫৫ সদস্যবিশিষ্ট ওলামা মাশায়েখ টিমের  তালিকায় রয়েছে হেফাজত আমির আহমদ শফীর ছেলে চট্টগ্রাম মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আনাস মাদানী, হেফাজত নেতা ও  বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, হেফাজত নেতা ও  আল হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যা’র  কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী, পটিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল হালিম বোখারী, হেফাজত নেতা ও বড় কাটারা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি সাইফুল ইসলাম, হেফাজত নেতা ও আকবর কমপ্লেক্সের প্রধান মুফতি মাওলানা দিলাওয়ার হুসাইন।

হেফাজত ইসলাম নেতা, কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড গওহরডাঙ্গার চেয়ারম্যান  গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা রুহুল আমীন ও তার ছেলে মাওলানা ওসামা আমিন, সিলেটের গওহরপুর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মোসলেউদ্দীন রাজু, ইকরা বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, মাওলানা আবদুর রাজ্জাক, মাওলানা ওসমান গনি,  পটিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা রেজাউল করীম, মাওলানা আবুল কাশেম ফজলুল হক, ঢাকার গেন্ডারিয়ার মাদ্রাসা বায়তুল উলুমের প্রিন্সিপাল মাওলানা জাফর আহমাদ, কিশোরগঞ্জের চকমপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিটেন্ডেট মাওলানা ইয়াকুব আলী খন্দকার, চট্টগ্রামের জিরি মাদ্রাসার মাওলানা শাহ মো তৈয়্যব,  শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম ফরীদ ঊদ্দীন মাসঊদ,  মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী,  শায়াখ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্স সেন্টার কুড়িলের মুহতামিম মুফতি মীযানুর রহমান সাঈদ, বনশ্রীর দারুল উলুম রামপুরা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ইয়াহইয়া, মুফতি মোহাম্মদ আলী, জামিয়া কুরআনিয়া লালবাগ মাদ্রাসার মুফতি মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, মাওলানা নিয়ামত উল্লাহ ফরিদী, মাওলানা শামছুল হুদা খান, চরমোনাই পীরের ভাই ও চরমোনাই কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুসাদ্দিক বিল্লাহ মাদানী, পিরোজপুরের শার্ষিনা দারুস সুন্নাত আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ শরাফত আলীপ্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজত ইসলাম  নবী ও রসুল হয়রত মুহাম্মদ সম্পর্কে অপ্রীতিকর মন্তব্যকারী “নাস্তিক ব্লগার”দের ফাসি কার্যকর করার জন্য একটি ব্লাসফেমি আইন প্রনয়ন এবং জনসম্মুখে “নারী পুরুষের মেলামেশা” নিষিদ্ধকরণসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচীর ডাক দেয়। বিএনপি ও জাতীয় পার্টি হেফাজতের এ কর্মসূচীর প্রতি সমর্থন দেয়। ওইদিন সকাল থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বরে এক সমাবেশ শুরু হয়। দুপুরের আগেই পুলিশের সঙ্গে সংর্ঘষে জড়ায়। পরে মতিঝিল, পল্টন, বায়তুল মোকারম এলাকায় ব্যাপক তান্ডব চালায় হেফাজত কর্মীরা। পরে তারা সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ ও সরকার বিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়। তাদের বিতাড়িত করার জন্য সরকার পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি সমন্বিত বাহিনী ওই দিন দিবাগত রাতে ‌‌‌‌অপারেশন সিকিউর শাপলা’ পরিচালনা করে।সমন্বিত অভিযানের শাপলা চত্বর ছাড়তে বাধ্য হয় হেফাজত-নেতাকর্মীরা।এ ঘটনায় পর অনেক হেফাজত নেতা গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে যায়। অনেকে আত্মগোপনে চলে যায়।

সম্প্রতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং বিরোধের অবসান হয়। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে হেফাজত ইসলাম সহায়তা করছে।সরকারের অনেক মন্ত্রী ও এমপি বিভিন্ন সময়ে হেফাজত আমীরের সাথে সৌজন্যে সাক্ষাত করেছেন।

২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে গিয়ে ঢাকায় এক আলেম সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের নেতা আহমদ শফী লিখিত বক্তব্যে অপপ্রচারের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানান।

আহমদ শফীর সভাপতিত্বে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ ‘শোকরানা মাহফিলে’ কওমি মাদ্রাসাগুলোর হাজার হাজার শিক্ষক ও শিক্ষার্থী যোগ দেন। কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড গওহরডাঙ্গার চেয়ারম্যান ও গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি রুহুল আমীন প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনাকে কওমী জননী উপাধী দেন।

সম্পাদনায়: ইয়াসীন হীরা

আরো সংবাদ