বিভিন্নস্থানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি


১১ জুলাই, ২০১৯ ৯:৩৪ : অপরাহ্ণ

বিএনএ: সারাদেশে আরও দুই থেকে তিনদিন বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ের শেষের দিকে বৃষ্টিপাত কমার সম্ভাবনা আছে।

পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাবাসে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমী বায়ু বয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।সেইসঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সীতাকুন্ডে ১৬৫ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ১৪৫ এবং কুতুবদিয়া ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে, বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল আবারও প্লাবিত হয়েছে। বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়ায় পানি ওঠায় সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ আছে। অনেকে নৌকায় করে পানি পার হচ্ছেন। রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে পাঁচ শতাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

অন্যদিকে, টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এতে পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, লালনিরহাট সদর এবং নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নিম্নাঞ্চল ডুবে পনিবন্দি হয়ে পড়েছে ১৫ গ্রামের লাখো মানুষ। তলিয়ে গেছে ভূট্টা ক্ষেত, আমন ধানের বীজতলা ও সবজি ক্ষেত। খুলে দেয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট।জেলার ডিমলা উপজেলায় ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমর ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টে নদীর পানি ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চর ও চর বেষ্টিত গ্রামে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বলেছে প্রশাসন।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যাপূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। এ সময় বিপদসীমার দুই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও দুপুর ১২টায় বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে চলে যায়। এরপর বিকেল ৩টায় পানি বেড়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার, বিকেল ৬টায় আরও ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।

তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী বানপাড়ায় ডান তীর গ্রামরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে।এতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে ওই এলাকায় বসবাসরত লোকজন।অন্যদিকে,টানা বৃষ্টির কারণে গাইবান্ধায়ও  নদ-নদীর পানি বাড়ছে।

সিলেট অঞ্চলে সুরমা, জাদুকাটা ও খেয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরইমধ্যে সদর উপজেলা, বিশ্বম্ভরপুরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ছোট বড় ১০টি স্থাপনা নদীতে তলিয়ে গেছে।  পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এছাড়া, পদ্মা ও যমুনার পানি বেড়ে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর, শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলায় তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ভিটে-মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। চরকাটারী, আরিচা ঘাট, বাহাদুরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার নদী তীরবর্তী অন্তত ২ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজারসহ ফসলি জমি।

অপরিবর্তিত রয়েছে ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি। অনেক জায়গায় বানভাসি মানুষের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।

আর করিম চৌধুরী/এস জি নবী

ট্যাগ :

বন্যা

আরো সংবাদ