বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০

ব্রেকিং নিউজ

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ : এই আছে এই নেই


১৭ মে, ২০২০ ১২:৫৩ : অপরাহ্ণ

।। ওসমান গনী ।।

করোনা মহামারীর এই সময়ে তীব্র গরমে কাহিল জনজীবন।চাঁদিফাটা গরমে ওষ্ঠাগত প্রাণ। রোজার মধ্যে প্রচণ্ড গরমে পুড়ছে মানুষ। এ ছাড়া বিদ্যুৎ এর ভেলকিবাজিতো আছেই।লকডাউন পরিস্থিতিতে গৃহবন্দী মানুষ হাসফাস করছে। অস্বস্তি বেশি বাড়ছে দুপুরের দিকেই।রাস্তায় হাঁটাচলা দায়।ঘামে ভিজে যাচ্ছে শরীর।ঘরেও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকা অসহনীয়।

এ দিকে করোনা সংকটরে মধ্যেও লোডশেডিং যন্ত্রণা থকেে মুক্তি পাচ্ছে না চট্টগ্রামের মানুষ। দিনে তো ২/৩ বার লোডশেডিংতো আছেই। সামান্য বাতাসে বিদ্যুৎ চলে যায়। লোকজনের অভিযোগ , করোনায় সব ধরনের অফিস -আদালত বন্ধ থাকা সত্বেও বিদ্যুৎ এর ভেলকিবাজিতে তারা বিরক্ত। আগ্রাবাদ এলাকার রায়হান আজাদ জানান, একদিকে করোনার কারণে লোকজন ঘরবন্দী হয়ে আছেন। সেখানে বিদ্যুৎ এর যাওয়া-আসা ঘরবন্দি মানুষকে বেকায়দায়  ফেলেছে।

আগ্রাবাদ এলাকার রিক্সা চালক গোপাল দাশ জানান, যানজটে দাঁড়িয়ে আছি। মাথার ওপর তীব্র গরম।চাঁদি ফেটে যাচ্ছে। পানি খেয়েও কুল পাচ্ছি না। রোজাদারদের অবস্থা কি তারাই ভাল জানেন।

এনায়েত বাজার এলাকার বাসিন্দা ইমরান জানান, করোনার কারণে বাসায় বন্দি আছি কখনো সকাল কখনো বিকাল কিংবা রাতে রাতে লোডশেডিং হচ্ছে, তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিং হলে বাসায় থাকা কষ্টকর।

পিডিবি বলছে, চট্টগ্রামে কোনো লোডশেডিং নেই। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বাধ্য হয়ে বন্ধ করতে হয়।
পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী শামছুল আলম বিএনএকে জানান, এখন লোডশেডিং নেই। তবে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে অনেক সময় আমাদের মেরামতের কাজ করতে হয় ।
তিনি জানান, গতকাল (১৬ মে) চট্টগ্রামে ১১০০ মেগাওয়াটের মতো চাহিদা ছিল। এর মধ্যে পুরোটাই সরবরাহ ছিল। শিকলবাহা থেকে ২২৫ মেগাওযাট, কাপ্তাই ১৫ টি ইউনিটের মধ্যে ১ ১ টি থেকে  ৩৮ মেগাওয়াট, , জুলধা থেকে ২০০ ্ও দোহাজারী থেকে ১০০ মেগ্ওায়াট বিদ্যুৎ প্ওয়া যায়। এ ছাড়া রাউজান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি বন্ধ রয়েছে । আরেকটি থেকে ৯০ মেগাওয়াট মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া হাটহাজারী পিকিং বিদ্যুৎ কেন্দ্র আপাতত বন্ধ রয়েছে।রোববারও (১৭ মে) চট্টগ্রামে চাহিদার পরিমাণ ১১ ০০ মেগাওয়াট বলে তিনি জানান।

করোনার এই সময়ে কিছু কিছু পাওয়ার প্লান্ট বন্ধ রাখা হয়েছে
পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংকটে সরকারি সাধারণ ছুটির মধ্যে কলকারখানা বন্ধ থাকলেও চট্টগ্রামে বর্তমানে ১১শ থেকে ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকে। চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি ২০ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। বর্তমানে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পিক আওয়ারে ২ হাজার ২৬৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে চাহিদা কম থাকার কারণে বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

এদিকে প্রচন্ড গরমের মধ্যে করোনার মহামারীর সাথে  এবার যোগ হয়েছে আরেক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে ও তৎসংলগ্ন ওড়িশ্যা ও বাংলাদেশের  উপকূল। সে কারণে ঘূর্ণিঝড়টি ঠিক কোথায় আছড়ে পড়তে পারে তা এখনো নিশ্চিত নয়। আবহাওয়াবিদরা জানান, গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ৮০ শতাংশ। বর্তমানে নিম্নচাপটির যে গতিমুখ রয়েছে, তা পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে ঢোকার পথ নির্দেশ করছে। তবে গতিপথ যে কোনো সময় পরিবর্তন করতে পারে। আর যে গতিতে এগোচ্ছে সেই গতি ধরে রাখলে ১৯ কিংবা ২০ মের দিকে বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে।

বিএনএ/এসজিএন

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
May 2020
F S S M T W T
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30