ব্রেকিং নিউজ


বিষয় :

যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ-প্রধানমন্ত্রী


১৯ জুন, ২০১৯ ৬:৫৫ : অপরাহ্ণ

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকার হেলথ কেয়ার ফিন্যান্সিং স্ট্র্যাটেজি ২০১২-২০৩২ প্রণয়ন করেছে। এর অধীনে প্রাথমিকভাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার লক্ষ্যে ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (এসএসকে)’ শীর্ষক পাইলট প্রকল্প কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার(১৯ জুন) একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা আরও বলেন, পাইলট এলাকায় দরিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের সদস্যদের ৭৮টি ভর্তিযোগ্য রোগের বিনামূল্যে সেবা দেয়া হচ্ছে। পাইলট প্রকল্প ৩টি উপজেলা থেকে সংশ্লিষ্ট জেলার বাকি ৯টি উপজেলায় সম্প্রসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, কালিহাতীতে ২৭ হাজার ৮৪১টি, ঘাটাইলে ২৭ হাজার ২৩২টি ও মধুপুরে ২৬ হাজার ৪৫৫টি দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এখন পর্যন্ত কালিহাতী উপজেলায় ২৭ হাজার ৮৪১টি, মধুপুরে ২৬ হাজার ২১৮টি এবং ঘাটাইলে ২৭ হাজার ১১৮টি এসএসকে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।বেনিফিট প্যাকেজে রোগীর সংখ্যা ৫০ থেকে ৭৮ করা হয়েছে। এসএসকের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে সংসদকে জানান তিনি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত গণকবরগুলো সংরক্ষণ করার বিষয়ে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে স্বাধীনতা যুদ্ধে সারাদেশে ত্রিশ লাখ শহীদদের চিহ্নিত করা এখনও সম্ভব হয়নি।সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিতকরণে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও পরবর্তী সময়ে পরলোকগত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ২০ হাজার সমাধিস্থল সংরক্ষণ করা হবে। ৪৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের গৃহীত এ প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশের ২৮১টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা হবে।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিলের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন,মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেইজ তৈরি করে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ তালিকার বাইরে কোনো মুক্তিযোদ্ধা থেকে থাকলে তাদের চিহ্নিত করে তালিকায় অন্ত:র্ভূক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম শেষ হলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

শেখ হাসিনা সংসদকে জানান, এ তালিকার অংশ হিসেবে ৫ হাজার ৭৯৫ জন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম ও ঠিকানাসম্বলিত পূর্ণাঙ্গ তথ্যও মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেসামরিক শহীদ ২ হাজার ৯২২ জন, গেজেটভূক্ত সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ ১ হাজার ৬২৮ জন, গেজেটভূক্ত বিজিবি শহীদ ৮৩২ জন এবং গেজেটভুক্ত শহীদ পুলিশ ৪১৩ জন।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদের আরেক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে তার সরকার পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যমআয়ের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষে ‘রূপকল্প-২০২১’ ঘোষণা করেছিল। এ রূপকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামীণ দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ‘নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮, সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’-এ প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। যার স্লোগান হচ্ছে ‘আমার গ্রাম- আমার শহর’। এ লক্ষ্য পূরণে সরকার গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করছে। গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।ধনী ও গরীবের মধ্যে বৈষম্য হ্রাস এবং প্রান্তিক জনগণের সুরক্ষয় সরকার ব্যপক কার্যক্রম নিয়েছে। সরকারের উন্নয়ন ভাবনা হচ্ছে, ‘সবাইকে নিয়ে উন্নয়ন এবং সবার উন্নয়ন’। এ আদর্শ সামনে রেখে সরকার দারিদ্র্য বিমোচন ও ধনী-গরীবের মধ্যে বৈষম্য কমাতে ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র, ২০১৫’ প্রণয়ন করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

আর করিম চৌধুরী/এস জি নবী

Print Friendly and PDF

ট্যাগ :

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
June 2019
F S S M T W T
« May   Jul »
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031