ব্রেকিং নিউজ

পুরস্কা‌রের সেই ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসী কে ? কোথায়?


৪ অক্টোবর, ২০১৯ ২:৩৪ : অপরাহ্ণ

।।ওসমান গনী।।

২০০১ সালের ২৬ শে ডিসেম্বর চারদলীয় জোট সরকার শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর নামের তালিকা প্রকাশ করে । এদের মধ্যে ৮ জনকে ধরিয়ে দিতে  ১ লাখ টাকা এবং ১৫ জনকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়।

আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা হলো- ১.সুব্রত বাইন,২.খোরশেদ আলম রাসু ৩.মোল্লা মাসুদ ৪. আব্বাস ওরফে কিলার আব্বাস,৫. আরমান ৬.হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল ৭.কালা জাহাঙ্গির, ৮.আব্দুল জব্বার মুন্না,  ৯.শামীম আহম্মেদ ওরফে আগা শামীম, ১০.জাফর আহম্মেদ মানিক ওরফে মানিক ১১. খন্দকার তানভীরুল ইসলাম জয় ১২.সোহেল রানা চৌধুরী ওরফে ফ্রিডম সোহেল, ১৩.খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন, ১৪. ইমাম হোসেন,১৫.প্রকাশ কুমার বিশ্বাস, ১৬.সাগর ওরফে টোকাই সাগর,১৭. মশিউর রহমান কচি, ১৮.কামরুল হাসান হান্নান ওরফে ছোট হান্নান, ১৯.সানজিদুল ইসলাম ইমন, ২০.জিসান ওরফে মন্টি কচি ও ২১. মশিউর রহমান।এ ছাড়া পিচ্চি হান্নান আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। আর গণপিটুনিতে নিহত হন আরেক সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন ।

শীর্ষ সন্ত্রাসীর ২৩ জনের মধ্যে পলাতক ছিলেন জিসানসহ এতদিন  ১৩ জন  । এদের নামে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি রয়েছে। এছাড়া কেউ জেলে আছে। ভারতেও অনেকে অবস্থা করছে বলে গোয়েন্দা সুত্র থেকে জানা গেছে।

ডিএমপি সুত্রে জানা গেছে, আন্ডার ওয়ার্ল্ডের এই শীর্ষ সন্ত্রাসীরা অনেকটা আড়ালে থেকে তারা তাদের  নিজস্ব এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। বাইরে থেকে তাদের গ্যাং পরিচালনা  করছে।কেউ জামিনে মুক্ত হয়ে বিদেশেে পাড়ি দিয়েছে।

সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে ১ জন বন্দুক যুদ্ধে নিহত ও একজন গণপিটুনিতে মারা গেছে। ৮ জন বাংলাদেশের কারাগারে রয়েছে। বাকি ১২জন  বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। আর জিসান দুবাইয়ে গ্রেফতার হলো ।

১৯৯৭ সালে মিরপুরের  শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ২০০৯ সালের জুনে কাশিমপুর কারাগার-২ থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরপরই ওই সময় জেলগেটের সামনেই  তাকে  গ্রেফতার করে গাজীপুর জয়দেবপুর থানা পুলিশ।  ২০১২ সালের ১৪ই ডিসেম্বর কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পায় বিকাশ। ।তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতা জরিফ, আগারগাঁওয়ে জোড়া খুনসহ পাঁচটি হত্যা মামলাসহ ১৬টি মামলা রয়েছে।তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে বলে গোয়েন্দা সুত্রে জানা যায়।বিকাশের ভাই  শীর্ষ সন্ত্রাসী প্রকাশ  দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সপরিবারে  ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বসবাস করছে।প্রকাশের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের কালিহাতী এলাকায়।

আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীরুল ইসলাম জয় বহুদিন থেকেই প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছে। কলকাতা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে  জামিনে ছাড়া পায়। জয়ের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে।  সানজিদুল ইসলাম ইমন রয়েছে কানাডায়। সেখানে সে মোবাইলের ব্যবসা করেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,২০০৮ সালের ১১ই অক্টোবর কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় সুব্রত বাইন। পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে নেপালে পালায়।সুব্রত বাইনের গ্রামের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়ায়।ঢাকায় মগবাজারে থাকতেন তিনি। পুরস্কার ঘোষিত আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী আমিন রসুল সাগর টোকাই সাগর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান  করছে বলে গোয়েন্দা সুত্র জানায়।টোকাই সাগর সন্দ্বীপ থানার বাউরিয়া গ্রামের আবুবকর সিদ্দিকের ছেলে।তার বর্তমান ঠিকানা ঢাকার গুলশানে । জাফর আহমেদ ওরফে মানিক ও ইমাম হোসেন কলকাতায় অবস্থান করছে দীর্ঘদিন ধরে। মানিক রাজধানীর  উত্তর শাহাজানপুরের  বাসিন্দা ।ইমাম হোসেন ঢাকার মহাখালীর বাসিন্দা।

আব্দুল জব্বার মুন্না অবস্থান করছে জার্মানিতে।  মিরপুর এলাকার আরেক সন্ত্রাসী শাহাদাত হোসেনও এখন ভারতে অবস্থান করছে। ২০১৬ সালের ২৭শে অক্টোবর তানভীর মুক্তি  জেল থেকে পায়। এরপর থেকে তানভীরও  থাকেন কলকাতার বনগাঁও এলাকায়। ২০০৪ সালের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকা থেকে ফ্রিডম সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে সে কারাগারে রয়েছে।ফ্রিডম সোহেল ফেনীর দাগনভূঁইযা এলাকার বাসিন্দা।

সূত্র জানায়, হারিস আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে আছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে। সে বৃহত্তর মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকার আন্ডার ওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করতো। এছাড়াও সুইডেন আসলামও জেলে রয়েছে। ২০০৩ সালে ৩রা জুন মোহাম্মদপুর থানার একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করার পর পিচ্চি হেলালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পিচ্ছি হেলাল মতলব উত্তর থানার বাসিন্দা ।

২০০৪ সালে ফ্রিডম রাসুকে ধানমণ্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।তিনি রমনা এলাকার মনসুরের ছেলে।  ২০০৫ সালের ৩রা জুন ধানমণ্ডি এলাকা থেকে আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।আরমান বড় মগবাজার এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ সুত্র জানা গেছে,  কিলার আব্বাস জেলখানায় বন্দী আছে। তার  বিরুদ্ধে ছয়টি হত্যাসহ ১০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।কিলার আব্বাস ঢাকার কাফরুল এলাকায় থাকতেন পুলিশ সুত্রে জানা যায়। অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটনকে ঢাকা মহানগর পুলিশ ২০০৪ সালে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।টিটন ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার বাসিন্দা।  একই বছরের ১৫ই ফেব্রুয়ারি অ্যাডভোকেট বাবর এলাহী হত্যা মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়।

এদিকে  ২০০৪ সালের ২৬শে জুন র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হান্নান মারা যায়। ২০০৩ সালের মার্চে হাতিরঝিল এলাকায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যার পর পালাতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত হয় সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন। শীর্ষ কালা জাহাঙ্গির জব্বার মুন্নাও ভারতে পালিয়ে আছে বলে জানা যায়।কালা জাহাঙ্গীর গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার ধুনট থানায়।  কামরুল হাসান হান্নান জার্মানি ও জাফর আহম্মেদ মানিক ওরফে মানিক ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।জব্বার মুন্নার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণায়।

ঢাকার রমনা থানার বাসিন্দা মোল্লা  মাসুদ কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হয়ে কলকতায় আছে বলে জানা যায়।  শীর্ষ সন্ত্রাসী আমিন রসুল সাগর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। শামীম আহমেদ কানাডায় আছে কয়েক বছর ধরে। শামীম রাজধানীর কোতোয়ালী থানাধীন ড. শামসুউদ্দিনের ছেলে।

প্রসঙ্গত:  শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর পলাতক আসামি জিসান আহমেদ ওরফে মন্টিকে বুধবার(২ অক্টোবর) রাতে দুবাই থেকে  গ্রেফতার করা হয় ।ইন্টারপোল বাংলাদেশ  শাখার ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম  তাকে গ্রেফতার করে ।  গ্রেফতারকৃত  জিসানের বিরুদ্ধে  ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ রয়েছে। তার নামে রেড অ্যালার্ট জারি করে রেখেছে ইন্টারপোলও । সংস্থাটির ওয়েবসাইটে জিসান সম্পর্কে লেখা আছে, তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ঘটানো এবং বিস্ফোরক বহনের অভিযোগ আছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে  বলে গোয়েন্দা সুত্র জানায় ।

বিএনএনিউজ২৪ডটকম/আর করিম চৌধুরী

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
October 2019
F S S M T W T
« Sep   Oct »
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930