ব্রেকিং নিউজ

যুবলীগ চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক নিরুদ্দেশ !


11 October, 2019 5:39 : PM

সাম্প্রতিক ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ওপর দিয়ে টর্নেডো বয়ে গেছে। সরকারের দুর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযানের প্রথম আইনী শিকার যুবলীগের নেতারা।  সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে বেসামাল হয়ে পড়েছে ক্যাসিনো ও জুয়া কাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে  ছোট- বড় দুর্নীতিবাজরা। যুবলীগের  রুই-কাতলাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আঁচড় পড়েছে যুবলীগ চেয়ারম্যান এর গায়েও। তাঁর ব্যাংক হিসাব তলব ও অনুমতি ছাড়া বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২১ দিন ধরে যুবলীগের কার্যালয় কিংবা কোন সভা সমাবেশে যাচ্ছেন না তিনি । এমনকি টেলিফোনও তুলছেন না। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর  বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সভায় তিনি  উপস্থিত হননি।

সূত্র জানায়,  যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর উত্তরায় সংগঠনের একটি ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলনে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে ২১ দিন ধরে তাঁর দেখা পাচ্ছেন না নেতা-কর্মীরা।এমনকি গণমাধ্যমকেও এড়িয়ে চলছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৯ অক্টেবর) যুবলীগের সম্মেলনের তারিখ (২৩ নভেম্বর) চূড়ান্ত করা হয়। নেতা-কর্মীদের অনেকে ধারণা করেছিলেন, তিনি সংগঠনের কার্যালয়ে আসবেন। এ উদ্দেশ্যে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অসংখ্য নেতা-কর্মী দু’দিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন। ফোনেও তাঁকে পাচ্ছেন না তাঁরা। চেয়ারম্যান কোথায় আছেন তা সংগঠনের নেতারা কেউ জানেন না।  শুক্রবার অনুষ্ঠিত যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সভায় উপস্থিত না হওয়ার গুজবের ডাল-পালা বড় হচ্ছে।

উপস্থিত প্রেসিডিয়াম সদস্যরা তাঁর জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষাও করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি আসবেন না  এমন বার্তা পেয়ে সভা শুরু হয়। তার অনুপস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। অথচ  সভা ডাকার অনুমতি দিয়েছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান নিজেই। তাঁর নির্দেশেই এই সভা ডাকা হয়েছে।

শুক্রবার (১১অক্টোবর) প্রেসিডিয়াম সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসকে দুর্নীতি ও ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।

উল্লেখ্য, যুবলীগের দফতর সম্পাদক  কাজী আনিস কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যালয়ে পিয়ন হিসেবে যোগ দেন ২০০৫ সালে। বেতন ছিল মাসে ৫ হাজার টাকা। সাত বছর পর কেন্দ্রীয় যুবলীগের দফতর সম্পাদক হিসাবে কমিটিতে স্থান দিয়েছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান।  দুর্নীতি-মাদক-ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হলে তিনি দেশের বাইরে চলে যান বলে সূত্রে প্রকাশ।

যুবলীগের শুক্রবারের সভায় প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন শহিদ সেরনিয়াবাত, শেখ শামসুল আবেদীন, আলতাফ হোসেন বাচ্চু , সৈয়দ মাহমুদুল হক চৌধুরী, মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মো. ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, আবদুস সাত্তার মাসুদ, মো. আতাউর রহমান, অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন, আবুল বাশার, মোহাম্মদ আলী খোকন, আনোয়ারুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার নিখিল গুহ, শাহজাহান ভুইয়া মাখন, ডা. মোখলেছুজ্জামান হিরু।

যুবলীগের আগামী সম্মেলনে সভাপতিত্ব কে করবেন? এ নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে  প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক এ বি এম আমজাদ হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বলবেন সেভাবেই হবে। আজকের সভায় সাধারণ সম্পাদক সভাপতিত্ব করেছেন। চেয়ারম্যান একটি বড় পদ, এর জন্য প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা তাই করবো।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছেন, যুবলীগ চেয়ারম্যানকে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে বহিস্কার না করলেও তার (প্রধানমন্ত্রীর) মনোভাব জানিয়ে দিয়েছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মধ্য দিয়ে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর জীবনের রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান হতে চলেছে। তিনি কী নিশ্চিত হয়েছেন আগামীতে শুধু যুবলীগ নয়,- আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও তিনি স্থান পাচ্ছেন না?

এক সময়  এরশাদের যুব সংহতির সঙ্গে চট্টগ্রামে জড়িত ছিলেন  ওমর ফারুক। পরে যুবলীগের সদস্য হন।  কোন রাজনৈতিক যোগ্যতা না থাকা সত্বেও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে যুবলীগের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। ওমর ফারুক চৌধুরী যখন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান, তখন তাঁর বয়স ৬৪ বছর। সাত বছর ধরে চেয়ারম্যানের পদে রয়েছেন তিনি। এখন তার বয়স ৭১। অনেকে রসিকতা করে তাকে বুড়ো যুবক বলেও অভিহিত করেন। যুবলীগের ইতিহাসে ৫০ বছরের বেশি বয়সী কেউ চেয়ারম্যান হননি। ১৯৭২ সালের নভেম্বরে শেখ ফজুলল হক মণি যখন যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ৩২ বছর।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক সময় তামাকের বিকল্প ‘টেন্ডু পাতা’ বিক্রির মাধ্যমে তাঁর পেশাগত জীবন শুরু হয়। বিড়ি শ্রমিক লীগ, জাতীয় পার্টির অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুব সংহতির রাজনীতি করে আসা ওমর ফারুক ২০০৯ সালে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। ২০১২ সালে যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটি নয়, সব বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্তই শেষ কথা হয়ে দাঁড়ায়।

অভিযোগে প্রকাশ, গত ৬/৭ বছর ধরে কেন্দ্রীয় যুবলীগ থেকে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের কাছে নগদ লাখ লাখ টাকায় পদ-পদবি বিকিকিনি হয়েছে। সরকারি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, এই সময়টায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজরা যুবলীগে বেশি স্থান পেয়েছে। ওদের হাত ধরে প্রসারিত হয়েছে কেসিনো ও জুয়া।

সম্পাদনায় : এ এইচ/এহক।

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
অক্টোবর ২০১৯
শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
« সেপ্টেম্বর   নভেম্বর »
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১