ব্রেকিং নিউজ


বিষয় :

‘বুলবুল’ এ লন্ডভন্ডের শঙ্কা ১১ লাখ রোহিঙ্গার আবাস


8 November, 2019 8:28 : PM

কক্সবাজার: ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে কক্সবাজারের উপকূলে রোহিঙ্গা আবাসগুলোতে । বুলবুলের তীব্রতা শুরু হলে উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গাদের ঝুপড়ি ঘরগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাতাসের গতিবেগ বাড়তে শুরু করলেই প্রথম দমকাতে লন্ডভন্ড হয়ে যেতে পারে । সে সঙ্গে ভারি বৃষ্টিপাত হলেই হতে পারে ভূমিধস। এমনটা আশঙ্কা করছে স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপ্রধান জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান,  ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তীব্রতা শুরু হলে আশ্রিত ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার আবাসস্থলে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটতে পারে।ঝুপড়িগুলো উপড়ে যেতে পারে । সেসব মোকাবেলায় ক্যাম্পে কাজ করা আইএনজি, এনজিও এবং জিও গুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারী ভোলান্টিয়াররা নিজ নিজ ভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের সবাইকে সমন্বয় করতে প্রস্তুতি নিয়ে আছে সেনাবাহিনীর বিশেষ টীম। এ বিষয়ে দুপুরে ক্যাম্প এলাকায় বৈঠকও করেছে সংশ্লিষ্টরা।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভায় জেলা প্রশাসনের সকল বিভাগের কর্মকর্তা, এনজিও, আইএনজিও, শৃংখলা বাহিনীর প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকলে উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার ৮ উপজেলায় ৫৩৮টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বহুতল ভবনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোও। উপকূল হিসেবে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সদরের পোকখালী, চৌফলদন্ডী, খরুশকুল, টেকনাফের সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

জেলা দুর্যোগ ফান্ডে ২ লাখ ৬৩ হাজার নগদ টাকা, ২০৬ মেট্রিকটন চাউল, ৩৪৬ বান ঢেউটিন, ২৫০০ পিস কম্বল এবং ৩৭৬ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে। কক্সবাজারের ৮ উপজেলার মাঝে সিংহভাগই উপকূলীয় হওয়ায় এসব মজুদ অপ্রতুল। তাই জরুরী ভিত্তিতে ১০ লাখ নগদ টাকা, ২শ’ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, সিপিসির ৬৪০০ স্বেচ্ছাসেবক ৪৩০টি ইউনিটের মাধ্যমে প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে থাকা মেগাফোন দিয়ে সংকেত বাড়ার সাথে সাথে দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় তা প্রচার করে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তুত রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ৮০০ ভলান্টিয়ারও। প্রস্তুত রাখা হয়েছে দমকল বাহিনী, পর্যাপ্ত যানবাহন, আনসার ভিডিপি ও স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলায় ইউএনওদের সতর্ক নজর রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ০১৭১৫-৫৬০৬৮৮ নাম্বার সচল রেখে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। দুর্যোগ সংক্রান্ত সকল তথ্য এখানে সরবরাহ ও পাওয়া যাবে।

কক্সবাজার জেলা বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল’র কারণে সাগর উত্তাল থাকায় গভীর সাগরে মৎস্য আহরণে যাওয়া মাছ ধরার ট্রলারগুলো ফিরতে শুরু করেছে। তবে এখনো অনেক ট্রলার সাগরে রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কক্সবাজারে থেকে থেকে গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। কক্সবাজারের উপকূলীয় নাজিরারটেক, পেকুয়ার মগনামা, কুতুবদিয়ার ভাঙ্গা বেড়িবাধ এলাকা, মহেশখালীর নিচু এলাকা, সদরের পোকখালীসহ নিম্নঞ্চাল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসব এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।

বিএনএনিউজ২৪ডটকম/ওজি

 

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
নভেম্বর ২০১৯
শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
« অক্টোবর    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০