ব্রেকিং নিউজ

কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন আজ


১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:৫৭ : পূর্বাহ্ণ

প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। হুমায়ুন আহমেদের বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি।

ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন এবং নর্থ ডাকোটা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিমার রসায়ন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন এই কথাসাহিত্যিক।

হুমায়ূন আহমেদ বিংশ শতাব্দীর বাঙালি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। তাঁকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রেষ্ঠ লেখক গণ্য করা হয়। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার। আধুনিক বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের  পথিকৃৎ তিনি। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও  সমাদৃত ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত।

সত্তর দশকের শেষভাগে থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। এই কালপর্বে তাঁর গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনাহীন। তাঁর সৃষ্ট হিমু ও মিসির আলি চরিত্রগুলি বাংলাদেশের যুবকশ্রেণীকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রসমূহ পেয়েছে অসামান্য দর্শকপ্রিয়তা। তবে তাঁর টেলিভিশন নাটকগুলি ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয়। সংখ্যায় বেশী না হলেও তাঁর রচিত গানগুলোও সবিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে।

১৯৭২ সালে প্রকাশিত হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ পাঠকমহলে এতটাই নন্দিত হয়েছিল যে এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে৷ ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মারণব্যাধি ক্যান্সারের কাছে হার মানের এই কথা সাহিত্যিক।

১৯৯০-এর গোড়ার দিকে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন হুমায়ূন আহমেদ। তার পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’ ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় ।

১৯৮৩ সালে তার প্রথম টিভি কাহিনীচিত্র ‘প্রথম প্রহর’ বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার শুরু হলে বেশ জনপ্রিয়তা পায়৷ তাঁর টেলিভিশন ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে ‘বহুব্রীহি,‘এইসব দিনরাত্রি, ‘কোথাও কেউ নেই, ‘নক্ষত্রের রাত, ‘অয়োময়, ‘আজ রবিবার,‘তারা তিনজন,  ‘নিমফুল, ‘মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম, ‘সবুজ সাথী, ‘এই মেঘ এই রৌদ্র,  ‘উড়ে যায় বকপঙ্খী উল্লেখযোগ্য।

বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন তিনি৷ পাশাপাশি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ূন কাদিও স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কারসহ (১৯৮৮) অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন নন্দিত এই কথাসাহিত্যিক।

বিএনএনিউজ২৪.কম/আর করিম চৌধুরী,এস জি নবী, এহক।

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
November 2019
F S S M T W T
« Oct   Dec »
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031