ব্রেকিং নিউজ

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ১০০


২০ নভেম্বর, ২০১৯ ৭:১৫ : পূর্বাহ্ণ

এই সময় আরেকটা অত্যাচার মহামারির মত শুরু হয়েছিল

নিজ হাতে লিখা পান্ডুলিপি। চারখানা খাতা। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খাতাগুলো নাড়াচাড়া করতে হয়েছে। খাতাগুলোর পাতা হলুদ,জীর্ণ,ও খুব নরম হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় লেখাগুলো এতো ঝাপসা যে পড়া খুবই কঠিন।পাঠোদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন। তবুও কাজটি শেষ করতে পারা গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এ বইটি নতুন প্রজন্মের পাঠকের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনএ নিউজ ২৪ ডটকম। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী-শেখ মুজিবুর রহমান’ বইটির প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লি. ঢাকা। গ্রন্থস্বত্ব: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ২০১২।

আজ প্রচারিত হলো পর্ব ১০০

 ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ ধ্বনি দিয়ে নৌকা ছেড়ে দিল ধান নিয়ে। দশ-পনের মাইল চলার পরে পুলিশ বাহিনী লন্ঞ্চ নিয়ে তাদের ধাওয়া করে বাধা দিল, শেষ পর্যন্ত গুলি করে তাদের থামানো হল। দাওয়ালরাও বাধা দিয়েছিল, কিন্তু পারে নাই। জোর করে নদীর পারের এক মাঠের ভিতর সমস্ত ধান নামান হয়ছিল এবং লোকদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। যদিও সরকারি গুদামে সে ধান উঠে নাই। পরের দিন ভীষন ভাবে বৃষ্টি হয়ে সে ধান ভেসে যায়। আমি খবর পেয়ে খুলনা এলাম, তখনও অনেক নৌকা আটক রয়েছে ধান সহ। এই সমসয় দাওয়ালদের নিয়ে সভা করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের বাড়িতে শোভাযাত্রা সহকারে উপস্থিত হলাম।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন প্রফেসর মুনীর চৌধুরীর জনাব আব্দুল হালিম চৌধুরী। তিনি আমার সাথে আলাপ করলেন এবং বললেন তাঁর কিছুই করার নেই, সরকারের হুকুম। তবে তিনি ওয়াদা করলেন, সরকারের কাছে টেলিগ্রাম করবেন সমস্ত অবস্থা জানিয়ে। আমি দাওয়ালদের নিয়ে ফিরে আসলাম। আমি নিজেও টেলিগ্রাম করলাম। দাওয়ালদের বললাম, ভবিষ্যতে তারা যেন এভাবে ধান কাটতে না আসে, একটা বোঝাপড়া না হওয়া পর্যন্ত। খাজা নাজিমউদ্দিন সাহেব তখন বড়লাট।কারন জিন্নাহ মারা যাবার পরে তাঁকে গভর্নর জেনারেল করা হয়েছিল।

এই সময় আরেকটা অত্যাচার মহামারির মত শুরু হয়েছিল। ‘জিন্নাহ ফান্ড’ নামে সরকার একটা ফান্ড খোলে।যে যা পারে তাই তাই দান করবে এই হল হুকুম। জিন্নাহ ফান্ডে টাকা দিতে কেউই আপত্তি করেছে বলে আমার জানা নেই। যাদের অর্থ আছে তারা খুশী হয়েই দান করেছে। অনেক গরিবও জিন্নাহ ফান্ডে টাকা দিয়াছে। কিন্তু কিছু সংখ্যক অফিসার সরকারকে খুশি করার জন্য জোরজুলুম করে টাকা তুলতে শুরু করেছিল।যে মহকুমা অফিসার বেশি তুলতে পারবেন, তিনি ভেবেছেন তাড়াতাড়ি প্রমোশন পাবেন।

আমার মহকুমায় এটা ভীষন রূপ ধারন করেছিল। খাজা সাহেব গোপালগন্ঞ্জ আসবেন ঠিক হয়েছে। তখনকার মহকুমা হাকিম সভা করে এক অভ্যর্থনা কমিটি গঠন করেছেন।যেখানে ঠিক করেছে যে গোপালগন্ঞ্জ মহকুমায় প্রায় ছয় লক্ষ লোকের বাস, মাথা প্রতি এক টাকা করে দিতে হবে, তাতে ছয়লক্ষ টাকা উঠবে। আর যাদের বন্দুক আছে, তাদের আলাদা ভাবে দিতে হবে। ব্যবসায়ীদের তো কথাই নাই। বড় নৌকা প্রতিও প্রত্যককে দিতে হবে।

তিনি সমস্ত ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টদের হুকুম দিয়েছিন, যে না দিবে তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।চারিদিকে জোরজুলুম শুরু হয়েছে। চৌকিদার,দফাদার নেমে পড়েছে। কারও গরু, কারও বদনা, থালা, ঘটিবাটি কেড়ে আনা হচ্ছে। এক ত্রাসের রাজত্ব।জনাব ওয়াহিদুজ্জামান সাহেবই নাজিমউদ্দিন সাহেবকে দাওয়াত করে এনেছেন। এখন তিনি মুসলিম লীগে আছেন। গোপালগন্ঞ্জ মুসলিম লীগ ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত করেছেন, এখন আর তারা নাই। এডহক কমিটি করা হয়েছে। মহকুমা হাকিম সাহেবের সাথে যোগসাজসে তারা কাজ করেছে।

পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা

গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী

সম্পাদনায় : একরামুল হক

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
November 2019
F S S M T W T
« Oct   Dec »
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031