ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্ব : ১৪২


৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:৫৮ : পূর্বাহ্ণ

সরবরাহকারীরা কলকাতায় বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্য মিশন থেকে বিস্তারিত ও বৈধ কাগজপত্র পাবে

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকায় অসংখ্য নিরীহ সাধারণ বাঙালি নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পুলিশকে হত্যা করে। ওই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্ত দল আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। পরিকল্পিত গণহত্যার মুখে সারাদেশে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষ গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী। গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ চালিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে যখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। মুক্তিবাহিনীর কাছে পরাজয়ের লজ্জা এড়াতে স্বাধীনতা যুদ্ধকে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ৩ ডিসেম্বর ভারতে বিমান হামলার মাধ্যমে যুদ্ধে লিপ্ত হয় পাক বাহিনী। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের মুখে পর্যদুস্ত ও হতোদ্যম পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যুদ্ধ বিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর কোন ঘোষণা ছাড়াই ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান ৯৩,০০০ হাজার সৈন্যসহ যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে আত্মসমর্পণের দলিলে সই করে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতার সেই প্রেক্ষাপট বর্তমান প্রজন্মের কাছে অজানা। নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতেই বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ) বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ দলিলপত্র (১-১৫খন্ড) এর ভিত্তিতে ধারাবাহিক ভাবে প্রচার করছে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ’।

আজ প্রচারিত হলো  পর্ব : ১৪২

শিরোনাম : বৈদেশিক বাণিজ্য মিশন কর্তৃক প্রত্যন্ত সীমান্ত ও মুক্ত এলাকায় অবস্থিত ধন-সম্পত্তির সংরক্ষণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত প্রতিবেদন 

সূত্র : বৈদেশিক বাণিজ্য মিশন  বাংলাদেশ সরকার

তারিখ  :  ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১

ব্যবসা, বাণিজ্য ও শিল্প বোর্ড

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

বাংলাদেশ ওভারসীজ ট্রেড মিশন

২২৫-সি, লোয়ার সার্কুলার রোড, ৫ম তলা

কলকাতা-২০

ক্যাবলঃ বাংলাট্রেড

ফোনঃ ৪৪-৮৮০৬ (সৌজন্যমূলক)

ডিসেম্বর ৬, ১৯৭১

মাননীয়

প্রধানমন্ত্রী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

মুজিবনগর,

প্রিয় মহোদয়,

আমি বিনীতভাবে এখানে সীমান্ত ও মুক্ত এলাকার অর্থনীতি ও বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বর্তমান অবস্থা এবং বাংলাদেশের মূল্যবান সম্পদের গবেষণার সমন্বিত বিবরণ পেশ করতে চাই। এই বিবরণটি বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণে তাদের সাথে  বৈঠকশেষে তৈরি করা হয়েছে।

এই বিবরণটি সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নীতি নির্ধারণ এবং পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক হতে পারে। আপনার অসীম দয়া হবে যদি আপনি কলকাতায় বাংলাদেশবৈদেশিকবাণিজ্যমিশন চালনার প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখেন যার মাধ্যমে বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের সাথে যোগাযোগ করার কাজও আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালনা করা হবে। অতএব, এই মিশন যা বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার্থে আয়োজন করা হয়েছে তার জন্য আমাদের সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন।

ধন্যবাদান্তে

আপনার বিশ্বস্ত

(মুস্তফা সারওয়ার)

সদস্য

ব্যবসা, বাণিজ্য ও শিল্প বোর্ড

বাংলাদেশ  বৈদেশিক বাণিজ্য  মিশন

বাংলাদেশ সরকার

চরম গোপনীয়

প্রেরকঃ মুস্তাফা সারোয়ার

সদস্যঃ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,

ব্যবসা, বাণিজ্য ও শিল্প বোর্ড, বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশ

বৈদেশিক বাণিজ্য মিশন, ২২৫/সি লোয়ার সার্কুলার রোড, কলকাতা-২০।

বিষয়ঃ বিএসএফ এর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক শেষে এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে যার বিষয়  বাংলাদেশের মূল্যবান সম্পদসমূহ যেসব কোন যথাযথ যত্ন ছাড়াই পড়ে আছে  ও  মানবিক  দুর্যোগ  ঘটাতে  পারে  এমন অননুমোদিত বাণিজ্য কার্যক্রমএবং মুনাফালোভীদের  নিয়ন্ত্রণ  করবার  পরামর্শ  সাথে বাণিজ্য, সরকারি আয় এবং প্রাদেশিক ব্যাংক।

বিএসএফ এর ঊচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আলাদা আলাদা নিমন্ত্রণের ভিত্তিতে অধ্যক্ষ মোজাফফর আহমেদ, চেয়ারম্যান, পরিকল্পনা কমিশন এবংনিম্নসাক্ষরকারীতাদের অফিসে গিয়েছিলেন এবং সীমান্ত এলাকায় বেআইনি বাণিজ্য বিষয়ে মতামত আদানপ্রদান করেছেন।

যেহেতু বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বাংলাদেশ ও তার প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের স্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ তাই  নিম্নসাক্ষরকারী তথ্য উন্মোচন এবং সরকারের প্রয়োজনীয় নীতিসমূহ পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। বাংলাদেশে সৃষ্ট দুর্যোগ এবং বাংলাদেশের প্রতি তার প্রতিবেশি রাষ্ট্রের আন্তরিক ঔদার্যের সুযোগ নিয়ে যেসব মুনাফালোভীরা এবং কালোবাজারীরা অর্থের পাহাড় বানাবার অভ্যাস সৃষ্টি করেছেন তাদের নির্মূলের উদ্দেশ্যে নীতি প্রণয়ন করা উচিত।

সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ এর চলমান বাংলাদেশের পণ্যদ্রব্য দখলের অভিযান সম্পর্কে

প্রতিবেদন মোতাবেক দেখা গেছে যে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ অথবা শুল্ক বিভাগের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের মাধ্যমে আনীত পণ্যদ্রব্যের দখল নেয়া হচ্ছে। আরো  জানা গেছে যে এইসব পণ্যদ্রব্যের উপর শুল্ক এবং কর সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের বিশাল পরিমাণ পণ্য এসব কারণে অপব্যবহারের স্বীকার হচ্ছে। পণ্যসমূহ বাংলাদেশের সরকারের নিকট বিমুক্ত করা উচিত।

প্রতিবেদন এবং পরামর্শ

(১) যেহেতু বাংলাদেশের বড় সংখ্যক জনগণ সীমান্তের এই প্রান্ত অতিক্রম করছে সুতরাং ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া উচিত যেন তারা যেন বাংলাদেশিদের যেকোন বাংলাদেশি পণ্যদ্রব্য যেমন পাট, চা, চামড়া ওচর্মজাত দ্রব্য, সবজি, তামাক, যন্ত্রপাতি, মাছ, চলচ্চিত্র, নিয়মিত ব্যবহার্য জিনিসপত্র, খাদ্য-শস্য, গবাদিপশু ইত্যাদি কোন ধরনের আপত্তি এবং অসুবিধা ছাড়া বহন করতে অনুমতি দেয়। এই বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা পারষ্পরিক বাণিজ্যের ওপর আয়োজিত বৈঠকের সময়েও নিশ্চিত করা হয়েছে।

(২) বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের বাণিজ্যবোর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্যদ্রব্যের বিদ্যমান ব্যবসায়ীদের জন্য বৈধ নথি প্রণয়নের মাধ্যমে একটি আইনগত বৈধ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে যেন বাংলাদেশ সরকারের কর্তৃত্ব মেনেই বাংলাদেশের সকল রপ্তানী পণ্যদ্রব্য আইনানুগভাবে রপ্তানী হতে পারে। এই ব্যাপারটি অনুমোদিত ব্যবসায়ীদের আলাদা করবে এবং অননুমোদিত ব্যবসায়ী ও গুপ্তচরদের চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে।গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত অননুমোদিত ডিলার এবং ব্যক্তিদের অপসারিত করতে সাহায্য করবে।

(৩) বাংলাদেশ সরকারের লাইসেন্সধারীদের সম্মান দিতে এবং তাদের উক্ত সরবরাহ প্রদান, বাধা অথবা বাধা এবং বাধাহীনভাবে করমুক্তিতে হোয়াটসএভার বি. এস. এফ কর্মকর্তাগণদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

(৪) সীমান্ত বলয়ে শুধুমাত্র অনুমোদিত ডিলার যাদের বাংলাদেশ সরকার দ্বারা লাইসেন্স ইস্যুকৃত হবে তারা এম. বি./বি.এস.এফ এবং অন্যান্য সকল সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠান দ্বারা ব্যবসা চালানোর অনুমিত দেওয়া হবে।লাইসেন্সের নমুনা কপি প্রত্যেক সীমান্ত চেক পোস্টের সম্পর্কিত তথ্য ও পথ প্রদর্শনের জন্য রাখা হবে।

(৫) সেখানে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক লেনদেনের লাইসেন্স এবংবৈধ কাগজপত্র প্রবর্তনের সাথে পণ্যের নিয়মতান্ত্রিক এবং বৈধ লেনদেন থাকবেশুধুমাত্র সেই মানুষজনের যারা সীমান্ত এলাকায় এমন লেনদেন কার্যক্রমে জড়িত আছে। এমন লাইসেন্স কঠোরভাবে বিশ্লেষণ করে এবং তদারকি করে স্থানীয় বাংলাদেশের ককর্মকর্তা, এমএনএ/এমপিএ অঅথবা জননেতাগণ যারা বি.এস.এফ এবং নিজনিজ সীমান্ত এলাকায় নিযুক্ত কর্তৃপক্ষের সাথে সংযুক্ত তাদের দ্বারা ইস্যু হবে। বিদ্যমান নেতা ব্যতীত অন্যান্য ব্যক্তি এমন বৈধ কাগজপত্র/লাইসেন্স দিয়ে ইস্যু হবেন না। প্রত্যেক সীমান্ত এলাকায় সকল বাংলাদেশী পণ্য এক জায়গায় রাখা হবে(যদি সহজলভ্য থাকে) এবং সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মী দ্বারা প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর বাণিজ্যিক পণ্য যেমন পাট, খাদ্যশস্য, ওষুধ, তামাক, চামড়া হতে সামান্য কর রেখে  বিন্যস্ত করা যেতে পারে। সীমান্ত এলাকায় সহজলভ্য এমএনএ/এমপিএ এবং কর্মীদের মধ্যে ২ ব্যক্তিকে উক্ত কাজ তদারকি করার জন্য নির্বাচিত করা যেতে পারে যারা কঠোরভাবে তত্ত্বাবধান করবে এবং সততা এবং নিষ্ঠার সাথে তাদের কাজ সম্পাদন করবে যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে লোকবলের রোল মডেল হবে।

(৬) অস্বাভাবিক উপায়ে লাভ করা, সরবরাহ ধরে রাখা, কালোবাজারি এবং যে কোনো অন্য কার্যক্রম at the cost of বাংলাদেশ tragedy and due to sincere feelings over this side by any person or persons সরকার এবং জনগণ দ্বারা অপসারিত করতে হবে। রিপোর্ট করা হয়েছে যে কিছু পাচারকারী ভাল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে বিদেশী পেটেন্টের ওষুধ এবং অন্যান্য পণ্য নিয়ে আসতেছে। ভারতের অনেক অভ্যন্তরে যেমন মাদ্রাজ, মহারাষ্ট্র প্রভৃতিতে স্থানীয় পাচারকারী দ্বারা এসব পণ্যের সরবরাহ সম্পর্কে আরো রিপোর্ট রয়েছে যা ভারতের স্বার্থবিরোধী।প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য।সেখানে কে.তেল, ম্যাচ, চিনি, লবণ, ডাল, আটা, ময়দা, সাবান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের অসাধারণ চাহিদা রয়েছে যা ভারতের সরবরাহকারীদের হতে আমদানি করার অনুমিত দেওয়া হবে। এই সরবরাহকারীরা কলকাতায় বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্য মিশন থেকে বিস্তারিত ও বৈধ কাগজপত্র পাবে। সকল বাণিজ্যিক পণ্যের রপ্তানি যেমন পাট, চামড়া ও চামড়াজাত, খাদ্যশস্য(যদি থাকে), তামাক, চা, যন্ত্রপাতি & catties রপ্তানিতে বাংলাদেশ সরকার royalty অনুভব করেছে। বাংলাদেশ সরকার পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পণ্য আমদানিতে কর অথবা royalty ধার্য করতে পারে।

এরূপে প্রাপ্ত রয়্যালটি বা করের সবটুকুই বাংলাদেশের আওতায় আসবে। বর্তমানে বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্য মিশন বৈদেশিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে স্বার্থ ও অন্যান্য সকল সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনা করছে। বাংলাদেশ বৈদেশিক বাণিজ্য মিশন এর প্রয়োজনীয়তা  ইউ.এস.এস. আর, রোমানিয়া প্রভৃতির মত  ভারত ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে দীর্ঘ বাণিজ্য সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, এবং বিশেষভাবে জরুরি সময়েএই ধরনের একটি মিশন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত স্বার্থ দেখাশোনা করার জন্য জরুরিভাবে প্রয়োজন হয় :

১/ যেহেতু আমাদের সরকার মুজিবনগর থেকে বৈদেশিক পক্ষগুলোর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে এবং কোনো বাণিজ্য চুক্তি বা ক্রয়-বিক্রয় চূড়ান্ত করতে যতক্ষণ না পর্যন্ত ওইসব দেশের সরকার কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত পারছে না, এই বাণিজ্য মিশন বিদেশে বাংলাদেশের ব্যবসা ও বাণিজ্যের বিষয়গুলো দেখভাল করতে পারে।

২/ যেহেতু ভারত সরকার পূর্ণ কূটনৈতিক মর্যাদার সঙ্গে আমাদের বাংলাদেশ মিশনের কাজ করার অনুমতি দিয়েছেন , এই বাণিজ্য মিশন ভারত এবং অন্যান্য সব বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে তাদের বাণিজ্যিক  স্বীকৃতিপ্রাপ্তিরজন্যও কাজ করতে পারে।

৩/ বাণিজ্যিক চিঠিপত্রের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে খোঁজখবর প্রাপ্তির জন্য । বিদেশে পাট, চা, তামাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যদ্রব্য, যন্ত্রপাতি বিক্রির জন্য প্রস্তাব প্রাপ্তির মাধ্যমে বিদেশে সরকারের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকস্বার্থ দেখাশোনার জন্যে; যেখানে সমন্বয়, যোগাযোগ, সঠিক ব্যবহার ও দরদামের অভাবে এদের অনেকগুলোই সঠিক বাজার মূল্য পেতে পারত না ।

৪/ পাট এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য সম্পর্কে সময়ে সময়ে আগ্রহী দেশগুলোর কাছে তথ্য প্রদান যেহেতুএই ধরনের তথ্যের অভাবে তাদের কেউ কেউ আস্থা হারাচ্ছে। তাদের অনেকেইবাংলাদেশের অস্তিত্ব ও উন্নয়ন সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছে। অন্যথায় এমনকোন প্রচার সম্ভব নয় যা জরুরি অবস্থায় রাজনৈতিক স্বীকৃতি পেতেও সহায়ক হতে পারে। যদি আমরা বিদেশী দেশগুলোর এই ধরনের আস্থা হারিয়ে ফেলি তবেস্বাধীনতারপরঅর্থনীতিমারাত্মকসমস্যারমোকাবেলাকরবে।

৫/ বিদ্যমান বাণিজ্য কার্যক্রম ওচাহিদার প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য কর্মসূচি চালু করতে এবং স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন এবং স্বাধীনতাপরবর্তী ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক কর্মসূচির পরিকল্পনা প্রণয়নে, যা আমাদের পরিকল্পনা সেলের কার্যক্রমে সাহায্য করবে। কারণ তারা এই বাণিজ্য মিশন কর্তৃক কৃত সুনির্দিষ্ট তারিখভিত্তিক সংগ্রহ লাভ করবে।

৬/ এই বাণিজ্য মিশন ঢাকা/কলকাতায় “ইউএসএসআর এবং রোমানিয়া , চেকোস্লোভাকিয়া ইত্যাদির বাণিজ্য চিত্র” এর মত অথবা ঢাকায় “যুগোস্লোভিয়ার  আন্তঃরপ্তানি”এরমত কাজ করতে পারে। এখানে আরো উল্লেখ করা যায় যে পূর্ব জার্মানি, চীন, কিউবা, উত্তর ভিয়েতনাম স্বীকৃতি ছাড়াই  স্বীকৃতি  লাভের  জন্যে পরিচিতিদের মধ্যে নিজেদের  অবস্থান  তৈরির  লক্ষ্যে  তাদের বাণিজ্য সম্পর্ক শুরু করে।

পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা

গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী

সম্পাদনায় : আবির হাসান

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
November 2019
F S S M T W T
« Oct   Dec »
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031