ব্রেকিং নিউজ

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ১০১


১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১:০৩ : অপরাহ্ণ

আমার পৌঁছার সাথে সাথে জনসাধারণের সাহস বেড়ে গেল

নিজ হাতে লিখা পান্ডুলিপি। চারখানা খাতা। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খাতাগুলো নাড়াচাড়া করতে হয়েছে। খাতাগুলোর পাতা হলুদ,জীর্ণ,ও খুব নরম হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় লেখাগুলো এতো ঝাপসা যে পড়া খুবই কঠিন।পাঠোদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন। তবুও কাজটি শেষ করতে পারা গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এ বইটি নতুন প্রজন্মের পাঠকের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনএ নিউজ ২৪ ডটকম। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী-শেখ মুজিবুর রহমান’ বইটির প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লি. ঢাকা। গ্রন্থস্বত্ব: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ২০১২।

আজ প্রচারিত হলো পর্ব ১০১

আমি খুলনা থেকে গোপালগঞ্জ পৌঁছলাম। গোপালগঞ্জ শহরে স্টিমার যায়না। দুই মাইল দুরে হরিদাসপুর নামে একটা ছোট্ট স্টেশন পর্যন্ত আসে। হরিদাসপুর থেকে নৌকায় গোপালগঞ্জ যেতে হয়। আমি একটা নৌকায় উঠলাম।মাঝি আমাকে চিনতে পেরেছে। নৌকা ছেড়ে দিয়ে আমাকে বলে, “ভাইজান আপনি এখন এসেছেন, আমার সর্বনাশ হয়ে  গেছে। পাঁচজন লোক আমরা, হুকুম এসেছে পাঁচ টাকা দিতে হবে।দিনভর কোনদিন দুইটাকা, কোনদিন আরও কম টাকা অর্জন করি, বলেনতো পাঁচ টাকা কোথায় পাই? গতকাল আমার বাবার আমলের একটা পিতলা বদনা ছিল, তা চৌকিদার টাকার দায়ে কেড়ে নিয়ে গেছে”।এই কথা  বলে কেঁদে ফেলল।সমস্ত ঘটনা আমাকে আস্তে আস্তে বলল।মাঝির বাড়ি টাউনের কাছেই।সে চালাক চতুরও আছে।শেষে বলে, “পাকিস্তানের কথা তো আপনার কাছ থেকেই শুনেছিলাম, এই পাকিস্তান আনলেন!”আমি শুধু বললাম “এটা পাকিস্তানের দোষ না”।

গোপালগঞ্জ নেমে আমার বাসায় পৌঁছার সাথে সাথে অনেক লোক এসে জমা হতে লাগল, আর সকলের মুখে একই কথা।ব্যবসায়ীরা এল বিকালে কয়েকজন, পুরানা মুসলিম লীগের নেতারা এলেন।আমি বিকেলেই সমস্ত মহকুমায় আমার পুরানা সহকর্মীদের খবর দিলাম, পরেরদিন প্রায় সকলে এসে হাজির হল।এক আলোচনা সভা করলাম।আমি বললাম, আমাদের বাধা দিতে হবে।এটা সরকারের ট্যাক্স না। লোকে ট্যাক্স দিতে বাধ্য, কিন্তু কোন আইনে চাঁদা জোর করে তুলতে পারে?” আমি পৌঁছাবার পূর্বেই বোধহয় তিন লাখ টাকার মত তুলে ফেলেছে।সঠিক হিসাব হয়তো দিতে পারব না। মহকুমা হাকিম ও মুসলিম এডহক কমিটি ঠিক করেছে যে টাকা অভ্যর্থনায় খরচ হবে তা বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত টাকা খাজা সাহেবকে তোড়ায় করে দেয়া হবে ‘জিন্নাহ ফান্ডের জন্য।যদি সম্ভব হয় কিছু টাকা মসজিদের জন্য রাখা হবে। গোপালগঞ্জে একটা ভাল মসজিদ করা হচ্ছিল।

আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, এ টাকা নিতে দেওয়া হবে না। তাঁর অভ্যর্থনায় যা ব্যয় হয়, তা বাদে বাকি টাকা মসজিদ আর গোপালগঞ্জে কলেজ করার জন্য রেখে দিতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে আমরা বাধা দেব। দরকার হয় সভায় গোলমাল হবে। এ খবর চলে গেল সমস্ত মহকুমায়। টাকা তোলা প্রায় বন্ধ হয়ে গেল।

আমার পৌঁছার সাথে সাথে জনসাধারণের সাহস বেড়ে গেল। গোপালগঞ্জের জনসাধারণ আমাকেই দেখেছে পাকিস্তান আন্দোলন করতে। এরা আমাকে ভালবাসে। আমার সাথে এক যুবক কর্মীবাহিনী ছিল, যারা আমার হুকুম পেলে আগুনেও ঝাঁপ দিতে পারত।

খাজা সাহেব পৌঁছাবার দুইদিন পূর্বে মহকুমা হাকিম জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের সাথে পরামর্শ করলেন এবং আমাকে গ্রেফতার করা যায় কিনা অনুমতি চাইলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিষেধ করে বলে দিলেন, তিনি একদিন পূর্বেই উপস্থিত হবেন এবং আমার সাথে আলাপ করবেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন মি.গোলাম কবির। তিনি খুবই বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ  ছিলেন, কলকাতা থেকে আমাকে চিনতেন। আমাকে ‘তুমি’ বলে কথা বলতেন,আর আমিও ‘কবির ভাই’ বলতাম।

পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা

গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী

সম্পাদনায় : আবির হাসান

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
December 2019
F S S M T W T
« Nov    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930