ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্ব : ১৪৩


১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১২:০৪ : অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ সীমান্ত পার হয়ে এই পাশে চলে এসেছে

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকায় অসংখ্য নিরীহ সাধারণ বাঙালি নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পুলিশকে হত্যা করে। ওই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্ত দল আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। পরিকল্পিত গণহত্যার মুখে সারাদেশে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষ গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী। গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ চালিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে যখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। মুক্তিবাহিনীর কাছে পরাজয়ের লজ্জা এড়াতে স্বাধীনতা যুদ্ধকে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ৩ ডিসেম্বর ভারতে বিমান হামলার মাধ্যমে যুদ্ধে লিপ্ত হয় পাক বাহিনী। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের মুখে পর্যদুস্ত ও হতোদ্যম পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যুদ্ধ বিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর কোন ঘোষণা ছাড়াই ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান ৯৩,০০০ হাজার সৈন্যসহ যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে আত্মসমর্পণের দলিলে সই করে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতার সেই প্রেক্ষাপট বর্তমান প্রজন্মের কাছে অজানা। নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতেই বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ) বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ দলিলপত্র (১-১৫খন্ড) এর ভিত্তিতে ধারাবাহিক ভাবে প্রচার করছে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ’।

আজ প্রচারিত হলো  পর্ব : ১৪৩

বাংলাদেশের মূল্যবান সম্পদসমূহ যা ইতোমধ্যেই আমাদের দখলে রয়েছে

বাংলাদেশের বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ সীমান্ত পার হয়ে এই পাশে চলে এসেছে। নীচে এদের কিছু অংশ তালিকাভুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের এ সকল সম্পদ সঠিক যত্ন এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা আবশ্যক।কিন্তু সরকার থেকে কোনো দায়িত্ব বা উদ্বেগ নেই এইসব মূল্যবান সম্পদ সম্পর্কে। বাণিজ্য বোর্ডের কোনো প্রচেষ্টাই গ্রহণ করছে না, যদিও আমরা মন্ত্রণালয় দ্বারা এর দায়িত্বপ্রাপ্ত। এই নীতি বন্ধ করা  অথবা অন্য কোন নীতি গ্রহণ করার ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে। অন্যথায় এসব সম্পদায়ের অনেক অংশই ক্ষতিগ্রস্ত, নষ্ট বা চুরির স্বীকার হবে। সমন্বয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভাবে এসব সম্পদ পড়ে আছে। এসব সম্পত্তিরমূল্যমান প্রায় ৩ কোটি রূপি হবে। এ ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন।

মোটর গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন

বাংলাদেশের অনেক যানবাহন অযত্নে অলসভাবে পরে আছে। পরিবহন পুল সব অঞ্চল এবং সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের সকল যানবাহনের সমন্বিত তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা করতে পারে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচিৎ বাংলাদেশের প্রতিটি যানবাহনের হিসাব রাখা কারণ সেসব বাংলাদেশ সরকারেরই সম্পত্তি। সকল যানবাহনের যথাযথ মূল্য নির্ধারণ এবং তাদের সঠিক বীমার ব্যবস্থা করা উচিত। জানা যায় ৫০/৬০টি  যানবাহন কৃষ্ণনগর এলাকায় পড়ে রয়েছে।সম্ভব হলে সরকারী আয় বৃদ্ধির জন্য বাণিজ্যিক যানবাহন বাংলাদেশ পরিবহন পুল কর্তৃক ভাড়ায় খাটানো যেতে পারে ।

কিছু সম্পত্তির বিবরণ

চুনাপাথর মেশিনারিজ প্ল্যান্ট, টাকেরঘাট : একটি বৃহৎ চুনাপাথর খনির মেশিনারি প্ল্যান্ট বিদেশী বংশোদ্ভুত খোলা বাক্সে এই পাশে এসেছে। এমন যন্ত্রপাতির তালিকা আলাদা আলাদাভাবে পাওয়া যায়।

সমগ্র প্ল্যান্ট এর মূল্যমান ২ কোটি  রুপি এরও অধিক বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্মকর্তার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।  যেহেতু প্ল্যান্টটি একটি মূল্যস্ফীতি বিহীন মুদ্রায়, অর্থাৎ১১.৪০ রূপিতে ১ পাউন্ড হিসেবে আমদানি করা হয়েছিল অতএব এর স্থানীয় বাজার মূল্য এর থেকে অনেক বেশিই হবে।ব্যারিস্টার মুন্তাকিম চৌধুরী,এম.এন.এ এবং জনাব শহীদ আলী খান,এম.পি.এ. বর্ণনামূলক তালিকার বিস্তারিত আদায় করতে  ঘটনাস্থলে অনেক দিন ব্যয় করে খুবই উচুঁদরের কাজ করেছেন। অন্যথায় এতটা বিস্তারিত বিবরণ প্রাপ্তি অসম্ভব হত। ব্যারিস্টার চৌধুরী সেখানে খুবই প্রভাবশালী এবং বিএসএফের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। অতএব, ব্যারিস্টার চৌধুরী এবং জনাব খানের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা কাজে লাগানো যেতে পারে। এটা লক্ষনীয় যে অর্থ মন্ত্রণালয়  শহীদ আলী খানের কাজের ফলে  উপকৃত  হয়েছে যিনি  হীরার  সরঞ্জামের একটি বাক্স এবং এক প্রকার মেশিন, সাথে মেশিনারি প্ল্যান্টের বিস্তারিত বিবরণ সঙ্গে এনেছেন।

মন্তব্য :     আমরা যদি এসব মেশিনারিজ এর সর্বোচ্চ মূল্য পেতে চাই তাহলে আমার মনে হয় আমাদের উচিৎ একটি প্রকৌশল কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ করা। তারা এসব মেশিনারিজ মূল্যায়ন করে তাদের প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে আমাদের অবহিত করবে। তারপরেই কেবল  আমরা আগ্রহী দল/পক্ষগুলোর  সঙ্গে দর কষাকষি শুরু করতে পারব। কিন্তু “যুদ্ধের গন্ধ” যেহেতু বিরাজমান তাই আমরা “যেমনভাবে যেখানে আছে” এটার উপর ভিত্তি করে অনতিবিলম্বে তাদের বিক্রি করে দিতে পারি। পরিস্থিতিওসেই একইইঙ্গিত দিচ্ছে।  সিদ্ধান্ত নেবার আগে সর্বোচ্চ মূল্য পাবার আশায় প্রকৃত আগ্রহী পক্ষগুলোর সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করা যেতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তেমনটাই মনে করেন। যদি এখানে এইসব মেশিনারিজ আনা সম্ভব হয় বা পরিদর্শন দল পাঠানো যায় তবে তাদের যুক্তিসঙ্গত মূল্যায়ন করা সম্ভব। প্ল্যান্টের পণ্যসামগ্রীর তালিকা ১০ রুপীর বিনিময়ে বোর্ড কার্যালয়ে পাওয়া যাচ্ছে। জনাব জহিরুল কাইয়ুম এম.এন.এ,অধ্যক্ষ হামিদুর রহমান এম.পি.এ., ব্যারিস্টার এম চৌধুরী, এম.এন.এ., জনাব শহীদ আলী খান, এম.পি.এ. এবং জনাব আকরাম সিদ্দিকী প্রমুখ তাদের পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করতে পারেন।

এপাশে নিয়ে আসা অন্যান্য জিনিসের বিস্তারিত তালিকাসমূহ  সাথে চুনাপাথর মাইনিং প্ল্যান্টের যন্ত্রপাতি

অন্যান্য বিবিধ ইস্পাতের উপকরণ যা ইতিমধ্যে সীমান্ত পাড় করে এই দিকে নিয়ে আসা হয়েছে তাদের নীচে তালিকাভুক্ত করা  হলো:

ক্রমিক নং                  পণ্যের নাম                            পণ্যের বিবরণ                                                       পরিমাণ

১                               রেল                                        ৪০পাউন্ড, ৩০পাউন্ড, ২০পাউন্ড, ১৫পাউন্ড  ৫০,০০০ আর.এফ.টি.

২                              সিআই শিট                             নতুন ৮’ দৈর্ঘ্য                                                       ১,৫৪৩আর.এফ.টি.

২২গেজ ইউ.এস. মেইড                                        ১২৫০আর.এফ.টি.

৩                            জিআই পাইপ                          ২.৫”, ১.৫”, ১” এবং০.৫”                                      ৬০০০আর.এফ.টি.

৪                             সিলিং ফ্যান                           ৪৮”জিইসি                                                            ৮০টি

৫                             টেবিল ফ্যান                          ডিলাক্স                                                                   ১৬টি

৬                            আয়রন শিট                          গডরি এর তৈরী, মাঝারি আকারের                             ১টি

৭                              এমএস রড                            বিভিন্ন আকার এমএস রড                                 ১৭০ হতে ১৭৫ (আনুমানিক)

 

ভালো দাম পাওয়া সম্ভব হবে যদি সব পণ্য একটি নামকরা পরিবহন ঠিকাদারের মাধ্যমে কলকাতায় এনে  গুদামের মধ্যে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করা হয়। কিছু ক্রেতা এখানে পণ্যের প্রাপ্তিতে নগদ অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব করেছেন।

টাকের  ঘাটের চুনাপাথর খনি প্রকল্পের ট্রাক্টর ও যানবাহনের বিশদ তালিকা

 

ক্রমিক নং                              পণ্যের নাম                            পণ্যের বিবরণ                                                       পরিমাণ

১                                               ইস্যুজু                      ৫ টনের ডিজেল ট্রাক, মডেল ডিএ

৭২০, ৬সিলিন্ডার, জাপানে তৈরি                                ২টি

২                                        শেভ্রোলেট                         ৫টনের ডিজেল ট্রাক , ৩ সিলিন্ডার,

মডেল নং ৬০                                                       ১টি

৩                            টয়োটা                                    ৪ হুইল জীপমডেল ৪০৩,

৬সিলিন্ডার, ১৩৫ টাইপ                                     ১টি

৪                             মসি ফার্গুসন                         ট্রাক্টর এফএফ ৩৫, মডেল এইচপি, এইচপি ৩৫,        —৩ সিলিন্ডার।

 

 

পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা

গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী

সম্পাদনায় : আবির হাসান

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
December 2019
F S S M T W T
« Nov    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930