ব্রেকিং নিউজ

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ১০২


২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ৭:০০ : পূর্বাহ্ণ

গভর্নর জেনারেল রাজনীতিবিদ নন,  তিনি রাষ্ট্রপ্রধান

নিজ হাতে লিখা পান্ডুলিপি। চারখানা খাতা। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খাতাগুলো নাড়াচাড়া করতে হয়েছে। খাতাগুলোর পাতা হলুদ,জীর্ণ,ও খুব নরম হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় লেখাগুলো এতো ঝাপসা যে পড়া খুবই কঠিন।পাঠোদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন। তবুও কাজটি শেষ করতে পারা গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এ বইটি নতুন প্রজন্মের পাঠকের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনএ নিউজ ২৪ ডটকম। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী-শেখ মুজিবুর রহমান’ বইটির প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লি. ঢাকা। গ্রন্থস্বত্ব: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ২০১২।

প্রচারিত পর্ব : ১০২ 

তিনি গোপালগঞ্জে এসেই আমাকে খবর দিলেন। তাঁর সাথে দেখা করতে যেয়ে দেখি, জেলার পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্টও উপস্থিত আছেন। আমি তাঁকে সকল বিষয় বললাম এবং আমাদের দাবিগুলি পেশ করলাম।তিনি আমাকে বললেন “গভর্নর জেনারেল রাজনীতিবিদ নন,  তিনি রাষ্ট্রপ্রধান। কোন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সাথেও জড়িত নয়। তিনি তো অতিথি, তাঁকে অসম্মান করা কি উচিত হবে?” আমি বললাম “কে বলেছে আপনাকে, যে তাঁকে অসম্মান করতে চাই! তাঁকে সকলেই অভ্যর্থনা করবে, শুধু এটুকু কথা তাঁর সাথে আলোচনা করে আমাকে জানিয়ে দেন যে, তিনি হুকুম দিবেন এই অত্যাচার করে টাকা তোলার ব্যাপারে তদন্ত করবেন এবং দোষীকে শাস্তি দিবেন।দ্বীতিয়ত, টাকা তাঁকেই দেওয়া হবে, আমরা কোন দাবি করবনা; শুধু তিনি টাকাটা কলেজ করতে দিয়ে দিবেন। তিনিই আমাদের কলেজ করে দিবেন”। কবির সাহেব আমাকে বললেন, “তুমি কথা দাও, কোন গোলমাল হবেনা”। আমি বললাম, কবির ভাই, আপনি পাগল হয়েছেন! আমি জানিনা যে তিনি প্রধানমন্ত্রী নন, এখন বড় লাট হয়েছেন। কোন গোলমাল হবেনা, আমাদের পক্ষ থেকে। আপনি তাঁর সাথে পরামর্শ করে আমাকে জানিয়ে দিবেন সকাল দশটার মধ্যে, যাতে সকলে মিলে ভাল ভাবে তাঁকে অভ্যর্থনা করতে পারা যায়”।

পরেরদিন সকালবেলা খাজা সাহেবের বজরা গোপালগঞ্জে এল এগারটার সময়। আমাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হল তাঁর বজরায়। খাজা সাহেব পাশের রুমে বসে ছিলেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কবির সাহেব তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে বললেন, আমার দাবিগুলি ন্যায়সঙ্গত। তিনি নিশ্চয় বিবেচনা করে দেখবেন। গোপালগঞ্জ শহরে কলেজ নাই। একটা কলেজ হওয়া দরকার, তিনি স্বীকার করলেন।

এর মধ্যে আরেকটা ঘটনা ঘটে গেল। জনসাধারণ মনে করেছে আমাকে গ্রেফতার করে নিয়া গিয়েছে, কারন পুলিশ কর্মচারী তার সরকারি কাপড় পরে আমাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। কর্মীরা শ্লোগান দিতে শুরু করে এবং পুলিশ কর্ডন ভেঙ্গে অগ্রসর হতে থাকে। পুলিশ লাঠি চার্জ করে বসেছে, ভীষণ গোলমাল শুরু হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবকে খবর দিল, আমাকে ঘটনাস্থলে পাঠাতে। আমি দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে সেখানে উপস্থিত হলাম এবং সকলকে বললাম, “আমাকে গ্রেফতার করে নাই। খাজা সাহেব আমাদের দাবি গুলি বিশেষ ভাবে বিবেচনা করে দেখবেন”। আমি খাজা সাহেবকে দাওয়ালদের অসুবিধার কথা বলবার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটকে অনুরোধ করেছিলাম। কবির সাহেব নিজেও খুব চিন্তিত ছিলেন দাওয়ালদের ব্যাপার নিয়ে। কারণ ফরিদপুরে যে দুর্ভিক্ষ হবে সে সন্মন্ধে কোন সন্দেহ ছিলনা।

বিরাট সভা হল, সকলেই গভর্নর জেনারেলকে অভ্যর্থনা করলেন। তিনি মসজিদটার দ্বার উদঘাটনও করেছিলেন। খাজা সাহেব তদন্ত করেছেন কিনা জানি না, তবে টাকা তিনি নেন নাই। কলেজ করার জন্য দিয়ে গিয়েছিলেন।‘জিন্নাহ ফান্ডে’র জন্য টাকা তোলা হয়েছিল বলে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নামেই কলেজ করা হয়েছিল। আজও কলেজটা আছে, ভাল ভাবে চলছে।

পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা

গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী

সম্পাদনায় : আবির হাসান

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
December 2019
F S S M T W T
« Nov    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930