ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্ব :১৪৫


৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ৭:০০ : পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশি পাটের উচ্চতর  সাদা  এবং  তোশা  গুনের  জন্য  ভারত  ও  যথেষ্ট  পরিমাণে  লাভবান  হবে

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকায় অসংখ্য নিরীহ সাধারণ বাঙালি নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পুলিশকে হত্যা করে। ওই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্ত দল আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। পরিকল্পিত গণহত্যার মুখে সারাদেশে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষ গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী। গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ চালিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে যখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। মুক্তিবাহিনীর কাছে পরাজয়ের লজ্জা এড়াতে স্বাধীনতা যুদ্ধকে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ৩ ডিসেম্বর ভারতে বিমান হামলার মাধ্যমে যুদ্ধে লিপ্ত হয় পাক বাহিনী। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের মুখে পর্যদুস্ত ও হতোদ্যম পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যুদ্ধ বিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর কোন ঘোষণা ছাড়াই ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান ৯৩,০০০ হাজার সৈন্যসহ যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে আত্মসমর্পণের দলিলে সই করে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতার সেই প্রেক্ষাপট বর্তমান প্রজন্মের কাছে অজানা। নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতেই বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ) বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ দলিলপত্র (১-১৫খন্ড) এর ভিত্তিতে ধারাবাহিক ভাবে প্রচার করছে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ’।

আজ প্রচারিত হলো  পর্ব : ১৪৫

বাংলাদেশের পাটকল ও রপ্তানির বর্তমান অবস্থান

আমেরিকারঅ্যাসোসিয়েটপ্রেসেরসংবাদদাতা মিস্টার আর্নল্ড জেইথিন যিনি ঢাকায় পাট বোর্ড পরিদর্শন করেছেনআমাকে যা জানান এবং আমাদের অফিসে তার যে নোট দেখান তা নিম্নরূপ-

সবমিলিয়ে ৬৪টি পাটকল বাংলাদেশে কাজ করছে। ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে উৎপাদিত চালানের পরিমাণ…… ২৬,৩৪৭টনযেখানে ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বর মাসের পরিমাণ ছিল … ৫২,৬২৭টন। এ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের পাটকলগুলোতে এখন উৎপাদন প্রায় ৫০% কম হচ্ছে।

 

আমেরিকার ‘এসোসিয়েটপ্রেস’ এর  নিজস্ব  প্রতিবেদকের  কাছ থেকে কাঁচা পাট বিষয়ে নিচের  পরিসংখ্যানটি  পাওয়া যায়-

বাংলাদেশ থেকে কাঁচা পাট রপ্তানি

সেপ্টেম্বর১৯৭১এ বাংলাদেশ থেকে কাঁচা পাটের চালান       ১,৬৫,০৬৬ বেল

সেপ্টেম্বর১৯৭০এ বাংলাদেশ থেকে কাঁচা পাটের চালান       ২,২৬,১৭৪  বেল

 

সামুদ্রিক জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে মুক্তিবাহিনী  সমস্যা সৃষ্টি  করার আগে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের চালান খারাপ ছিলনা।এই প্রতিবেদকের কাছ থেকে আরো জানা যায় যে মুক্তিবাহিনী কর্তৃক দুটি বিদেশি সমুদ্রগামী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত   হওয়ায় তিনি যখন গত সপ্তাহে পাটবোর্ড, পি. জে. এ. এবং  বাংলাদেশ  পাট  গবেষণা কর্তৃপক্ষের  সাথে দেখা করেন তারা তখন  উদ্বিগ্ন এবং বিপর্যস্ত হয়ে  পড়েছিল।তারা ধারনা করেছিলেন  চালানের এই ক্ষতির ফলে বৈদেশিক পাট শিল্পে মারাত্মক খারাপ প্রভাব পড়বে যার ফলে পাটজাত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কৃত্রিম আঁশ শিল্পের দিকে মোড় নিতে পারে।ইতোমধ্যে  কিছু প্রতিষ্ঠান  রূপান্তরিত  হয়েও  গেছে।আমি  জেনেছি যে বাংলাদেশ অনেক  বৈদেশিক  অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারেনি।

মুক্তাঞ্চলএবং সীমান্ত  দিয়ে  নিয়ে  আসা  কাঁচা পাটের আনুমানিক পরিমাণ

আমরা আশা করছি এই অংশে কমপক্ষে ৭/৮ লাখ বেল পাওয়া যাবে।এর মধ্যে থেকে যদি ৫০ হাজার থেকে ১লাখ বেল রপ্তানি করা যায় তাহলে ভারত এবং বাংলাদেশ  সরকার  সর্বনিম্নমূল্য  মাত্রা  বজায়  রাখতে  পারবে।তা না হলে মারাত্মক  আশঙ্কা রয়েছে যে সর্বনিম্নমূল্য আরও কমে যাবে এবং আন্তর্জাতিক পাটশিল্পগুলো  কৃত্রিম আঁশ শিল্পে রূপান্তরিত  হওয়া সহ নানাবিধ  সমস্যা  তৈরি  হবে যা  আলাদাভাবে উল্ল্যেখ করা  হয়েছে।

ভারতের পাট রপ্তানি

ভারত সরকারের  বিনিময়  এবং লাইসেন্সের অধীনে রাশিয়ায় অল্পপরিমানে রপ্তানি করা ছাড়া আর কোন আন্তর্জাতিক বাজারে ভারত কাঁচা পাট রপ্তানি  করে না। বাংলাদেশি পাটের উচ্চতর  সাদা  এবং  তোশা  গুনের  জন্য  ভারত  ও  যথেষ্ট  পরিমানে  লাভবান  হবে।  ভারত এমনকি ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের সময়ও ২-৩ লাখ বেল বাংলাদেশি পাট পেত।

 

ভারতের পরিমাণ

১৯৪৭  সালে  ভারতের  ফসল   ১৬ লাখ  বেল

১৯৭১ সালে  ভারতের  ফসল   ৭০/৭৫ লাখ বেল

বিশ্ববাজারে কাঁচাপাটের চাহিদা ও যোগান    প্রথম, পাটকলগুলোতে ভারতের উৎপাদন   ৭০/৭৫ লাখ বেল, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাদ দিয়ে

 

দ্বিতীয়, বাংলাদেশ                                                                                                ৩০ লাখ বেল

তৃতীয়, ইউকে                                                                                                       ৮ লাখ বেল

চতুর্থ, বেলজিয়াম                                                                                                  ৭ লাখ বেল

পঞ্চম, ফ্রান্স                                                                                                           ৬লাখবেল

অন্যান্যদেশ                                                                                                         ৮০ লাখ বেল

 

বৈদেশিক চুক্তির ব্যাপারে দখল হওয়া দেশের অবস্থান

২৫শে মার্চের পরে  বাংলাদেশের পাট রপ্তানিকারক ও মিল  মালিকেরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।অনেক পুরাতন চুক্তি এখনো অনিষ্পত্তি অবস্থায় রয়েছে এবং কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারনামা রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। প্রায় সকল রপ্তানীমুখি পাটকল অনেকদিন পুরোপুরি বন্ধ ছিল। সেনাবাহিনীর নির্দেশনায় বর্তমানে ৪০%থেকে ৫০% উৎপাদন ক্ষমতায় সেগুলো চালু করা হয়েছে।

অধিকাংশ দক্ষ শ্রমিকেরা ছিল নোয়াখালী অঞ্চলের যাদের সংখ্যা এখন অতি নগণ্য। উৎপাদন কমে যাওয়ায় সব রপ্তানীমুখি পাটকল ৫০%-৬০% লোকসানের মুখে পড়ে কারণ উৎপাদন খরচ হিসেব করা হয়   তিন শিফটের উৎপাদন ও পণ্য বিক্রির উপর অতিরিক্ত অর্থ প্রদানকে একত্রে ধরে। এই অতিরিক্ত অর্থের ভাউচার বিদেশী ক্রেতাদের কাছ থেকে চালান এবং মূল্য   পরিশোধের কেবল ৪৫ দিনের মধ্যেই পাওয়া যায়। তাই প্রায় ৪০% খরচ সর্বদা হিসেবের বাইরে খরচ হিসাবে থাকে যতক্ষণ না পর্যন্ত রপ্তানিকারকেরা মূল্য পরিশোধের ও লভ্যাংশের রশিদ পাচ্ছেন।

প্রায় ৫০% খরচ অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে এবং লভ্যাংশের রশিদ পাবার আগ পর্যন্ত তাদের মেটানো সম্ভব নয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ পাটকলগুলো ব্যাংক থেকে মূলধন পাচ্ছে না।বেশিরভাগই ক্যাশ ক্রেডিট লিমিট কমানোর জন্য চাপের মধ্যে রয়েছে। একই সময়ে পশ্চিম পাকিস্তানি ব্যাংকগুলো তাদের বিনিয়োগের টাকা উঠানোর জন্য যে কোন মূল্যে তাদের মজুত মাল বিক্রি করে দিচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে কোন কাঁচা পাট রপ্তানিকারক বা মিলমালিক নতুন চুক্তি করতে সাহস করছে না। (ক) ব্যবস্থাপনা (খ) ব্যাংক মূলধন (গ) শ্রমিক (ঘ) উৎপাদন নেমে যাওয়া (ঙ) যোগাযোগ এবং (চ) কাঁচা পাটের অভাবে তারা কোন নতুন চুক্তিতে আগ্রহী হচ্ছে না।

বিদেশী ক্রেতারা পণ্যের চালানের পর আগ্রহ দেখায়। পণ্যের দাম ৪০%-৫০% বেড়ে যায় যখন পণ্য সামুদ্রিক মালবাহী জাহাজে থাকে। এসব অবস্থায় বিদেশী ক্রেতারাউদ্বেগের সাথে বাংলাদেশ থেকে কাঁচা পাট রপ্তানির দিকে চেয়ে আছে। কিছু বিদেশী ক্রেতারা বাংলাদেশের সাথে এমনকি ১/২ লক্ষ বেলের চুক্তির জন্যও প্রস্তুত। তার ইতোমধ্যে অধিকৃত দেশ থেকে আমদানি কমিয়ে দিয়েছে এবং বাংলাদেশি পাট আমদানীর জন্য যেকোনো সহায়তা দিতে আগ্রহী।

 

সীমান্তে পাটের বাণিজ্যের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাব

বিষয়টা সমাধানের জন্য অর্থ সচিব ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন। সরাসরি ক্রয়ের জন্য অর্থ সচিবকে একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু টাকা লেনদেনের ব্যাপারে আমরা জড়াতে চাচ্ছিলাম না বলেযতক্ষণনারপ্তানিরবিষয়েপরিস্কারসিদ্ধান্তহচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্তসরাসরি বাণিজ্যে আমরা আগ্রহী ছিলাম না।কিছু সত্যিকারের আন্তরিক পক্ষ ক্যাশ টাকা দিয়ে আমাদের পাট কেনার প্রস্তাব দিয়েছে। তারা এমনকি বাংলাদেশ সরকারকে সম্মানী হিসেবে লভ্যাংশ বা কমিশনও দিবে। তারা তাদের নিজস্ব চুক্তি, মূলধন, গুদামঘর, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি নিয়ে সীমান্তে তাদের ক্রয় শুরু করবে। বাংলাদেশের পাট আহরণের জন্য তারা শুধুমাত্র আমাদের সম্মানী পরিশোধ করবে। অনুমতি প্রাপ্তরা আমাদের অর্থ মন্ত্রণালয়কে জড়িত না করেই তাদের সরাসরি পাট বিক্রি করতে পারবে। পাটের এ বাণিজ্য সহজ করার লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকাকে ৬/৭টি বিশেষ অঞ্চলে ভাগ করা যেতে পারে। সম্মানীর ভিত্তিতে তাদের ক্রয়কারী   দালাল হিসেবে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে।তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালানোর আগে অগ্রিম হিসেবে কিছু টাকা ব্যাংকে জমা রাখতে বলা যেতে পারে।

পাট রপ্তানির ব্যাপারে প্রস্তাবনা এবং জনাব ডি. পি. ধরের সাথে সাক্ষাৎ

ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ বাণিজ্য মিশনের নামেইংল্যান্ড ও জার্মানীতে আমরা প্রায়৪,৫০,০০০  পাউন্ডের  অফিসিয়াল  চুক্তি  করি যার ভবিষ্যৎএখন কর্তৃপক্ষের অনুমতির উপর নির্ভরশীল। রপ্তানির জন্য ৫০/৭৫,০০০ বেল পাট বাংলাদেশ সরকারের জন্য সবসময়েই প্রাপ্য যা আসবে বর্তমানে কর্মরত দালালদের মাধ্যমে। দিল্লিতে জনাব ডি. পি. ধরের সাথে সাক্ষাতে  জনাব ধর বাণিজ্য পরিষদের সভাপতিকে জোর দিয়ে বলেন অতিদ্রুত ভারতের প্রাদেশিক বাণিজ্য সমিতির সাথে লভ্যাংশ বিনিময়ের ভিত্তিতে স্থানীয় ব্যবসা শুরু করতে। তিনি রপ্তানির জন্য কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলেন।ভবিষ্যতে উনাদের সরকার কর্তৃক কাচাঁ পাট রপ্তানির সম্ভাবনাও তিনি মাথায় রাখতে বলেন। জনাব ডি. পি. ধরের অনুরোধে আমরা জনাব স্বামি নাথান আই. সি. এস. এর সাথে দেখা করি যিনি  প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে অর্থনৈতিক দিকে সহায়তা প্রদান করে থাকেন। জনাব স্বামি নাথান খুব সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং তিনি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কাচাঁ পাট রপ্তানির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। সম্প্রতি ‘স্টেটসম্যান’ সহ কিছু ভারতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশ পায় – রপ্তানির জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে পাট আসছে। প্রায় ৬/৭ লক্ষ বেল পাট ভারতে চলে আসবে। ভারতীয় পাটকলগুলোর ৬ লক্ষ বেল উৎপাদনের স্বার্থের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মোট পরিমানের শুধু মাত্র ১০% অথবা ৫০,০০০ বেলের একটি ছোট চালান রপ্তানির জন্য আমরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করতে পারি।ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করতে আমাদের হাতে নিম্নে লিখিত রাজনৈতিক ও যুক্তিবাদী বিষয়গুলো আছে-

(ক) ভারতের মাধ্যমে পাট রপ্তানিতে ট্রানজিট সুবিধা নিয়ে যে সমস্যা তা তারা ভেবে দেখবে যেহেতু ইতোমধ্যে তারা উদ্বাস্তুদের দায়িত্ব নিয়েছে এবং সকল প্রকার বস্তুগত সহায়তা প্রদান করছে। বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করতে জাতিসংঘ ও অন্যান্য দেশে বাংলাদেশের পত্থ থেকে সরকারী ভ্রমণসমূহও তাদের সাহায্যে পরিচালিত হচ্ছে।

(খ) সঠিক মূল্য পেলে বাংলাদেশের পাট চাষিরা প্রচণ্ড উৎসাহী হবে এদিকে আরো পাট আনতে। তারা একই সাথে পাকিস্তানী অর্থনীতিকে চালান দেয়া বন্ধ রাখবে।

(গ) বাংলাদেশের নামে পাট রপ্তানির মাধ্যমে গোটা বিশ্বে বাংলাদেশ সরকারের অস্তিত্ব এক স্বীকৃত বিষয় হবে।

(ঘ) কাচাঁ পাট রপ্তানির ফলে বিশ্বের পাট আমদানীকারকেরা পাকিস্তান থেকে আমদানি কমাতে পারবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য বাণিজ্য সমঝোতায় এগিয়ে আসবে।

(ঙ) আমরা যদি সরবরাহের অভাবে এসব বড় প্রতিষ্ঠিত বাজার হারাই তবে  বাংলাদেশ সরকার এমনকি স্বাধীনতার পরেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চরম সমস্যার সম্মুখীন হবে। এই বিশ্বাস   অল্প পরিমাণ সরবরাহের মাধ্যমেই সৃষ্টি করা যাবে।

(চ) যতক্ষণ পর্যন্ত না কিছু বাংলাদেশের পাট রপ্তানি হচ্ছে ভারতের পাটকলগুলো পর্যাপ্ত যোগান ও কম উৎপাদনের জন্য পাটের সর্বনিম্ন দাম বজায় রাখতে পারবে না। এ বিষয়ে ভারতীয় দৈনিকগুলোর মন্তব্য সমূহ দ্রষ্টব্য।

(ছ) যখন ভালো মানের কাঁচা পাটের সরবরাহের অভাবে অন্যান্য দেশের পাটকলগুলো সমস্যায় পড়বে,উন্নতমানের কাঁচা পাটের অভাবে পাটজাত পণ্যের বিশ্ববাজারে মন্দা নামবে ।

(জ) পাট শিল্পগুলোর পরিবর্তিত হয়ে কৃত্রিম পণ্যমুখী হবার ঝোঁক সৃষ্টির মারাত্নক সম্ভবনা আছে যা ভারতসহ বিশ্বব্যাপী পাটশিল্পের জন্য সহায়ক হবে না ।

(ঝ) ভারতের আন্তরিকতা ও সততা পাকিস্তানসহ বিশ্বব্যাপি প্রতিষ্ঠিত হবে যে, সোনালি আঁশ হস্তগত করার কোনো ইচ্ছেই ভারতের নেই। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সম্মত করার জন্য আমাদের আলোচনা হবে উভয়পক্ষের স্বার্থ ও লাভের উদ্দেশ্যে।

পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা

গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী

সম্পাদনায় : আবির হাসান

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
December 2019
F S S M T W T
« Nov    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930