ব্রেকিং নিউজ

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ১০৬


৫ জানুয়ারি, ২০২০ ৬:২৭ : অপরাহ্ণ

নিজ হাতে লিখা পান্ডুলিপি। চারখানা খাতা। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খাতাগুলো নাড়াচাড়া করতে হয়েছে। খাতাগুলোর পাতা হলুদ,জীর্ণ,ও খুব নরম হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় লেখাগুলো এতো ঝাপসা যে পড়া খুবই কঠিন।পাঠোদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন। তবুও কাজটি শেষ করতে পারা গেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এ বইটি নতুন প্রজন্মের পাঠকের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনএ নিউজ ২৪ ডটকম। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী-শেখ মুজিবুর রহমান’ বইটির প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ, দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লি. ঢাকা। গ্রন্থস্বত্ব: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ২০১২।

প্রচারিত পর্ব : ১০৬

কিছুদিন পরে ডা. মালেকও মন্ত্রিত্ব পাবেন বলে ঠিক হল। শেষ পর্যন্ত তোফাজ্জল আলী সাহেব বাকি ছিলেন। তিনি একদিন আমাকে বললেন, “মুজিব দেখলে তো, মোহাম্মদ আলী সাহেব চলে গেলেন, ডা. মালেকও মন্ত্রী হয়ে যাচ্ছে, আমাকেও ডেকেছে মন্ত্রিত্ব নিতে।কি করি বলতো? একলা তো আর বাইরে থেকে কিছু করা যাবেনা। তোমার মত আমার নেওয়া দরকার”। আমি দেখলাম, তাঁকে বাধা দিয়ে আর কি হবে? সকলেই তো নাজিমুদ্দিন সাহেবের দলে মিলে গেছে। আমি তাঁকে বললাম, “তবুও তো আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আর কেউ তো জিজ্ঞাসাও করল না। কি আর আপনি একলা করতে পারবেন, মন্ত্রিত্ব নিয়ে নেন, আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাব। যে আদর্শ ও পাকিস্তানের জন্য সংগ্রাম করেছি, সে আদর্শ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালাব”। তিনি যে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এই ভদ্রতার জন্য তাঁকে আমি শ্রদ্ধা করেছি এবং তাঁর সাথে আমার সম্বন্ধ কোনোদিন নষ্ট হয় নাই।তিনিও আমাকে সকল সময়ই ছোট ভাইয়ের মত দেখেছেন।যদিও পরে আমরা দুইজন দুই রাজনৈতিক দলে ছিলাম।

মওলানা আকরম খাঁ সাহেবের বিবৃতির পরে আর আমরা মুসলিম লীগের সদস্য থাকলাম না। অর্থাৎ আমাদের মুসলীগ লীগ থেকে খেদিয়ে দেয়া হল।আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, মুসলিম লীগকে একটা প্রগতিশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। টাঙ্গাইলে দুইটা আইনসভার আসন খালি হয়েছিল। আমাদের ইচ্ছা ছিল, নাজিমুদ্দিন সাহেবের বিরুদ্ধে লোক দেওয়া যায় কি না? মওলানা ভাসানী আসাম থেকে চলে এসে টাঙ্গাইলের কাগমারীতে বাস করছিলেন। তাঁর শরণাপন্ন হলাম। কিন্তু মওলানা সাহেব এক সিট নিজে এবং এক সিট নাজিমুদ্দিন সাহবেকে দিয়ে নির্বাচন করে এমএলএ হলেন।পরে নির্বাচনী হিসাব দাখিল না করার জন্য মওলানা সাহেবের নির্বাচন বেআইনি ঘোষণা হয়েছিল।

আমাদের ভাষা আন্দোলনের সময় মওলানা সাহেব সমর্থন করেছিলেন। টাঙ্গাইলে মুসলিম লীগ কর্মীদের এক সভা ডাকা হল, কি করা যায় ভবিষ্যতে! আলোচনা হবার পরে ঠিক হল, আরেকটা সভা করা হবে নারায়ণগঞ্জে।সেখানে ভবিষ্যৎ কর্মপস্থা নির্ধারণ করা হবে। মওলানা ভাসানী, আবদুস সালাম খান, আতাউর রহমান খান, শামসুল হক সাহেব আরও অনেক মুসলিম লীগ কর্মী ও নেতা যোগদান করবেন বলে ঠিক হল। সভার আয়োজন করেছিল সালমান আলী, আবদুল আউয়াল, শামুসুজ্জোহা ও আরও অনেকে।খান সাহেব ওসমান আলী এমএলএও সমর্থন দিয়েছিলেন।সভার পূর্বে ১৪৪ ধারা জারি করা হল। আমরা পাইকপাড়া ক্লাবে সভা করলাম। বিভিন্ন জেলার অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত হয়েছিলেন। এই সময় শামসুজ্জোহার উপর মুসলিম লীগের ভাড়াটিয়া গুণ্ডারা আক্রমণ করেছিল। দুঃখের বিষয়, এই কর্মীরাই নারায়ণগঞ্জে মুসলিম লীগ গঠন করেছিল এবং পাকিস্তান আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিল। এখন যারা এদের উপর আক্রমণ করেছিল তাদের প্রায় সকলেই পাকিস্তান ও মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে ছিল। প্রত্যেক জেলা ও মহকুমায় মুসলিম লীগ ভেঙে দিয়ে এডহক কমিটি গঠন করেছিল। প্রায় সমস্ত জায়গায় মুসলিম লীগ কমিটিতে শহীদ সাহেবের সমর্থক বেশি ছিল বলে অনেক লীগ ও পাকিস্তানবিরোধী লোকদের এডহক কমিটিতে নিতে হয়েছিল। কিন্তু জনসাধারণ মুসলিম লীগ বলতে শুধু পুরানা লীগ কর্মীদেরই বুঝত।

পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা

গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী

সম্পাদনায় : জুয়েল বড়ুয়া

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
January 2019
F S S M T W T
« Dec    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031