ব্রেকিং নিউজ


বিষয় :

ধর্ষককে ক্রসফায়ারের দাবি সংসদে


১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ১০:১৩ : অপরাহ্ণ

ধর্ষককে ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে।জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় দেশে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ‘ধর্ষকদের’ বিচার ছাড়াই হত্যার ওই প্রস্তাব করেন। তার দলের এক নেতার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতাও তাতে সমর্থন জানিয়েছেন।

তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি বলেছেন, এদের ক্রসফায়ার করলে ‘বেহেস্তে যাওয়া যাবে’।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু  বলেন, গেল বছর ১৭ হাজার ৯০০টি নারী নির্যাতনের মামলা হয়। এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫ হাজার ৪০০ জন। ১৮৫ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ২০১৮ সালে ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ৭২৭। গেল বছর ধর্ষণের পর ১২ শিশু মারা যায়। নারী মৃত্যু হয় ২৬ জনের। এ বছর ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যায় ১৪টি শিশু। তার মানে বিগত বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০১৯ সালে ধর্ষণ হয়েছে।

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করার দাবি জানিয়ে  মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, আপনার সরকার, মন্ত্রণালয় এত ঘটনা ঘটছে মাদকের জন্য এত ক্রসফায়ার হচ্ছে সমানে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ, জঘন্য ঘটনার জন্য কেন একটা বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় নাই, আমি জানি না। সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, এই বিষয়টা সরকার যদি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে কোনোক্রমেই এটা কন্ট্রোল হবে না।

মুজিবুল হক চুন্নুর এই প্রস্তাব সমর্থন করে তার পক্ষে যুক্তি হিসেবে বাংলাদেশে বিচারে দীর্ঘ সময় লাগার কথা তুলে ধরেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ।

তিনি বলেন, “সাম্প্রতিকালে ধর্ষণ মহামারি রূপ নিয়েছে। ছাত্রী, শিশু, নারী শ্রমিক প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। কেউ রক্ষা পাচ্ছেন না।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ‘ধর্ষক’সহ বিভিন্ন জায়গায় আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার কথা তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য প্রশ্ন করেন, “তাহলে বিচার হচ্ছে না কেন? বিচার কিন্তু যখন হয় তখন দেশের মানুষ মনে রাখতে পারে না। ১৫ বছর ২০ বছর পর একটা বিচার হয়।”

এই বক্তব্যের পক্ষে দৃষ্টান্ত হিসেবে শাজনীন হত্যাকাণ্ডের বিচারের কথা তুলে ধরেন ফিরোজ রশিদ: “১৬ বছর লেগেছে সেই একটি বিচার করতে এবং তার পিতা এদেশের স্বনামধন্য একজন শিল্পপতি। তার মেয়ের এই ধর্ষণ- হত্যার বিচার নিয়ে কোর্ট কাচারি করতে করতে ১৬ বছর পার করছে, আট কোটি টাকা খরচ হয়েছে। একজনের মাত্র ফাঁসি হয়েছে।

আমাদের কিছু লোক আছে, মাননীয় স্পিকার বলতে বাধা নেই, মানবাধিকার সংগঠন। তারা বলে গণতন্ত্র, আইনের শাসন- এই ধর্ষকদের কী আইন আপনি করবেন? তার কোনো ফাঁসি হবে না, জেলও হবে না এক সময় এক বছর পর বেরিয়ে যাবে, কেউ খবরও রাখবে না। একমাত্র এই মুহূর্তে যদি এই সমাজকে ধর্ষণমুক্ত করতে চান, তাহলে ‘এনকাউন্টার মাস্ট’। তাকে গুলি করে মারতে হবে।”

ধর্ষণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পক্ষে বললেন আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদও।তিনি বলেন, “মাদকের ব্যাপারে যদি সাথে সাথে শেষ করে দেয়, তাহলে মাদকের থেকেও খারাপ জিনিস বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, গার্মেন্ট শ্রমিককে ধর্ষণ করেছে । ভারতে একজন ডাক্তার মেয়ে বাস থেকে নামার পর চারজনে তাকে নিয়ে গণধর্ষণ করেছে। দুদিন পর ক্রসফায়ার দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ভারতে আর কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি ফিরোজের সঙ্গে একমত। আইন কানুনতো আছেই, তারমধ্যেও একটা চিহ্নিত লোক, ওয়ারির একটা বাচ্চা মেয়ে ছয় বছর বয়স তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে। আমাদেরও ছোট নাতি- নাতনি আছে। এটা হতে পারে না।“

তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি বলেন, “চুন্নু ও কাজী ফিরোজ রশীদ যে কথা বলেছেন, আমি টুপি দাঁড়ি মাথায় নিয়ে আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে বলছি, এদের ক্রসফায়ার করলে বেহেস্তে যাওয়া যাবে কোনো অসুবিধা নাই।

বিএনএনিউজ২৪.কম/ ওজি, এসজিএন

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
January 2019
F S S M T W T
« Dec    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031