ব্রেকিং নিউজ

বিস্ময়কর অতলান্ত


১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ৭:০২ : অপরাহ্ণ

বিচিত্র এই পৃথিবী। ধরাপৃষ্টে  রহস্যঘেরা কত কিছুই না ছড়িয়ে  ছিটিয়ে আছে । সাগর, মহাসাগর, পাহাড় পর্বত আরো কতো কি! এর কতটুকুই বা আমরা জানি। রহস্যঘেরা এই বসুধার বহুল বিস্তৃত আটলান্টিক ওশান ( Atlantic Ocean) নিয়ে আমরা আলোচনা করবো।

আটলান্টিক ওশানকে  ( Atlantic Ocean) বাংলায়  অতলান্ত মহাসাগর বলে ।

আটলান্টিক পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।  এটি পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এলাকা জুড়ে অবস্থিত।এই মহাসাগরের মোট আয়তন ১০ কােটি ৬৪ লক্ষ ৬০ হাজার  বর্গকিলোমিটার। আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ এবং পূর্বে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ অবস্থিত। উত্তরে উত্তর মহাসাগর এবং দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগর।উত্তর আমেরিকা দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপ এশিয়া এবং আফ্রিকা এই পাঁচটি মহাদেশের ১৩৩ টি দেশ আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে অবস্থিত।

ধারণা করা হয়, জুরাসিক যুগ থেকে আটলান্টিক মহাসাগর এর গঠন শুরু হয়।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বিশেষ অঞ্চল । এটিকে পৃথিবীর অন্যতম রহস্যময় বলা হয়। কারণ এ পর্যন্ত এখানে যত রহস্যময় ও কারণহীন দুর্ঘটনা ঘটেছে ।অন্য কোথাও এত বেশি দুর্ঘটনা ঘটেনি। বারমুডা ট্রায়াঙ্গল যে তিনটি প্রান্ত দ্বারা সীমাবদ্ধ তার এক প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, আরেক প্রান্তে পুয়ের্তো রিকো এবং অপর প্রান্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বারমুডা দ্বীপ অবস্থিত।

ত্রিভুজাকার এ অঞ্চলটির মোট আয়তন ১ কােটি ১৪ লাখ বর্গ কিলোমিটার ।

বিভিন্ন লেখকের বর্ণনায় বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের বিস্তৃতিতে ভিন্নতা রয়েছে। এই ত্রিভুজের ওপর দিয়ে মেক্সিকো উপসাগর থেকে উষ্ণ সমুদ্র স্রোত বয়ে গেছে। এখানকার আবহাওয়া এমন যে, হঠাৎ ঝড় ওঠে আবার থেমে যায়, গ্রীষ্মে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এ অঞ্চল বিশ্বের ভারী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকারী পথগুলোর অন্যতম। জাহাজগুলো আমেরিকা, ইউরোপ ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে যাতায়াত করে। এছাড়া এটি হলো প্রমোদতরীর বিচরণক্ষেত্র। এ অঞ্চলের আকাশপথে বিভিন্ন রুটে বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত বিমান চলাচল করে।

ক্রিস্টোফার কলম্বাস সর্বপ্রথম এই ত্রিভুজ বিষয়ে অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা লিখেন। তিনি লিখেছিলেন যে তার জাহাজের নাবিকরা এ অঞ্চলের দিগন্তে আলোর নাচানাচি,আকাশে ধোঁয়া দেখেছেন। এছাড়া তিনি এখানে কম্পাসের উল্টাপাল্টা দিক-নির্দেশনার কথাও বর্ণনা করেছেন।

এখানে এখনো হারিয়ে যায় জাহাজ, সাবমেরিন কিংবা বিমান। নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় সবকিছু। এর নামই বারমুডা ট্রায়াঙ্গল।  ট্রায়াঙ্গলের অভ্যন্তরে আছে শ’তিনেক কোরাল দ্বীপ। এর বেশির ভাগই জনবসতিহীন। আর এর মধ্যে একটি দ্বীপ হচ্ছে ‘বারমুডা’। দ্বীপটি আবিষ্কৃত হয় ১৫৬৫ সালে। এক দুঃসাহসী নাবিক জুয়ান ডি বারমুডেজ দ্বীপের আবিষ্কারক। তার নামানুসারেই এই দ্বীপের নামকরণ করা হয়। এ এলাকার ধার ঘেঁষে গেলেও দেখা যায় অদ্ভুত কিছু কাণ্ড-কারখানা। মাঝে মাঝে নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ সূত্র বাতিল করে দেয়, রেডিও বিকল করে দেয়, কম্পাস ইত্যাদির বারোটা বাজিয়ে দেয়। ক্ষুদ্র আলোক শিখা, ধূমকেতুর পুচ্ছ, সবুজ রঙের কুয়াশা, বিদঘুটে জলস্তম্ভ, প্রচণ্ড ঘূর্ণিপাক, পথ ভুলে যাওয়া, হিংস্র ভাবে জাহাজ গিলতে আসা পাহাড় সমান ঢেউসহ ভয়ঙ্কর সব কাণ্ড-কারখানা। আবার এক মাস আগে যে জাহাজ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে সে জাহাজকেও ভুতুড়েভাবে ভাসতে দেখা যায় এখানে ।

বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের একটি বিখ্যাত ঘটনা হলো ১৯৪৫ সালের ৫ ডিসেম্বর অন্তর্ধান হওয়া ফ্লাইট নাইনটিন। ইউএস নেভির ফ্লাইট এটি। যেটি প্রশিক্ষণ চলাকালে ১৯৪৫ সালের ৫ ডিসেম্বর আটলান্টিক মহাসাগারে নিখোঁজ হয়। বিমানটি অনুসন্ধান এবং উদ্ধারের জন্য পাঠানো বিমানের মধ্যে একটি বিমান পিবিএম ম্যারিনার ১৩ জন ক্রুসহ নিখোঁজ হয়।

আরেকটি নিখোঁজ হওয়া বিমান হল ডগলাস ডি সি-৩(Douglas DC-3) । ১৯৪৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর একটি ডগলাস ডিসি – ৩ (ফ্লাইট নাম্বার NC16002) পুয়ের্তো রিকো থেকে মিয়ামি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। বিমান থাকা ৩২ জনসহ বিমানটির কোন হদিস পাওয়া যায়নি।

“বারমুডা ট্রায়াঙ্গল” পৃথিবীর খুব পুরনো একটি রহস্য। আজ অব্দি এই রহস্য, রহস্যই রয়ে গেছে। হলিউডে এ নিয়ে অসংখ্য মুভি তৈরি হয়েছে। বারমুডা নিয়ে মানুষের আগ্রহ কখনই কমেনি বরং, দিন দিন আরও বেড়ে চলেছে। অনেকেই অনেকরকমভাবে এর ব্যাখ্যা দেয় কিন্তু সঠিক ব্যাখ্যা আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কখনো পাওয়া যাবে কিনা, কে জানে? কারন বিজ্ঞান এখনো অনেক কিছুরই জবাব দিতে পারেনি।

বিএনএনিউজ২৪.কম/ওসমান গনী , এসজিএন

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
January 2019
F S S M T W T
« Dec    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031