বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ব্রেকিং নিউজ


বিষয় :

নিজেকে নাজমুল হিন্দি সিমেনার নায়ক ভাবতেন


২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ১০:৩৪ : অপরাহ্ণ

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলীর বাড়িতে চাকরি করার সময় বৈষম্যর শিকার হন নাজমুল। সে ক্ষোভ থেকেই তার বাড়িতে ডাকাতি করতে যান নাজমুল। হিন্দি সিনেমার ভক্ত নাজমুল হিন্দি স্টাইলে ডাকাতির ঘটাতে যান জানালেন এ ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইভেস্টিগেশন- পিবিআই।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে  পিবিআইর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, নাজমুল হিন্দি সিনেমার ভক্ত। ২০১৭ সালের জুন মাসে আসামি শেখ নাজমুল চালক হিসেবে ডা. সারওয়ারের বাড়িতে কাজ নেয়। সেখানে ৯/১০ মাস কাজ করার পর সে অনুভব করে গরিব মানুষ হিসেবে  ডা. সারওয়ারের স্ত্রী ডা. মাহদুমা নার্গিসের কাছ থেকে প্রাপ্য সঠিক ব্যবহার পাচ্ছে না। তাই সে রাগ করে চাকরি ছেড়ে দেয়।

হিন্দি সিনেমার একনিষ্ঠ ভক্ত হওয়ায় নাজমুল নিজেকে হিন্দি সিনেমার একজন প্রতিবাদী নায়ক হিসেবে সবসময় কল্পনা করতেন। সেই কল্পনার বশবর্তী হয়ে ডা. সারওয়ারের পরিবারকে শিক্ষা দিতেই তারা সেই বাসায় ডাকাতির পরিকল্পনা করে। তার সহযোগিদের মনে সাহস যোগাতে সিনেমার মতো কাল্পনিক অফিসের কথা সে জানায়। যেখানে তার সঙ্গে কাজ করে পুলিশ, সাংবাদিক, উকিল ও ডাক্তার। সে জানায়, পুলিশ তাকে অস্ত্র দিবে, সাংবাদিক ক্যামেরা,  উকিল স্ট্যাম্প ও আহত হলে ডা. তাদেরকে চিকিৎসা দিবে।

নজমুল ভাবতেন, গরিব হওয়া অপরাধ না। গরিব হওয়ায় সারওয়ার আলীর স্ত্রীর কাছে তিনি সঠিক ব্যবহার পাননি। এজন্য চাকরি ছেড়ে পরিকল্পনা করেন প্রতিবাদের। সারওয়ারের পরিবারকে উচিত শিক্ষা দেয়া ও ভয় দেখিয়ে হত্যা ডাকাতির পরিকল্পনা করেন নাজমুল। যা বাস্তবায়নে সহযোগী হিসেবে চাচাতো ভাই রনিকে রাজি করান তিনি। এবং ভগ্নিপতি আসামি আল-আমিন, নুর মোহাম্মদ ও ফয়সালকে ডাকাতির কাজে নিয়োগ করেন। রাজধানীর আজমপুর লেবার মার্কেট থেকে মনির ও ফরহাদকে দৈনিক ৫০০ টাকা ভিত্তিতে ডাকাতির কাজে নিয়োগ করেন।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পিবিআই প্রধান জানান, পরিচয় আড়ালের জন্য নাজমুল ২ মাস ধরে দাড়ি-গোঁফ বড় করেন। গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে আশকোনার হোটেল রোজ ভ্যালির ৩০৩ নম্বর কক্ষে ৭ ডাকাতের সঙ্গে চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন নাজমুল। বাসার পরিবেশ, কক্ষ, পার্কিং প্লেস সম্পর্কে সকলকে অবগত করেন এবং ডাকাতির সময় কার কী ভূমিকা হবে তা বুঝিয়ে দেন। সারোয়ার আলীর বাড়িতে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অংশ হিসেবে ডাকাতির পরিকল্পনা হলেও ক্ষোভের বিষয়টি গোপন করেন নাজমুল।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় হোটেল থেকে নাজমুল একটি ব্যাগে ৭টি চাপাতি ও ৫টি সুইচ গিয়ার ছুরি নিয়ে প্রথমে একা বেরিয়ে ঘটনাস্থল এলাকায় এসে রনির হাতে ছুরিগুলো দেন। রনি ঘটনাস্থলে থাকা আসামিদেরকে ছুরিগুলো বিতরণ করেন। নাজমুল রাত ৯টায় পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪ প্যাকেট বিরিয়ানি নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে দারোয়ান হাসানকে দেন এবং কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। পরে চাপাতিসহ ব্যাগটি গ্যারেজের পাশে রেখে দেন। নাজমুল ও ফয়সাল ২য় তলায় তাদের সেন্ডেল খুলে রেখে ৩য় তলায় গিয়ে সারওয়ার আলীর মেয়ে ড. সায়মা আলীর বাসায় নক করেন। দরজা খুললে তাকে ধাক্কা দিয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন নাজমুল ও ফয়সাল। এরপর সায়মা আলী, তার স্বামী হুমায়ুন কবির ও মেয়ে অহনা কবিরকে ছুঁরির ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রাখেন। রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ফয়সালকে ৩য় তলায় রেখে ৪র্থ তলায় ডা. সারওয়ার আলীর ফ্ল্যাটে এসে নক করেন নাজমুল। দরজা খুলে দিতেই জোর করে ভেতরে ঢুকে তাকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে মেঝেতে ফেলে গলায় ছুরি ধরেন এবং ওই সময় তার স্ত্রী ডা. মাখদুমা নার্গিস চিৎকার শুরু করলে নাজমুল বাইরে অপেক্ষারত সহযোগীদের ফোনে ভেতরে আসতে বলেন। তাদের অনবরত চিৎকার চেচামেচি শুনে ২য় তলার ভাড়াটিয়া মেজর (অব.) সাহাবুদ্দিন চাকলাদার ও তার ছেলে মোবাশ্বের চাকলাদার ৪র্থ তলায় আসেন। দারোয়ান ঘুমিয়ে না পড়ায় বাইরে অবস্থানরত নাজমুলের সহযোগীরা ভেতরে ঢুকতে পারছিল না। এতে নাজমুল হতাশ হয়ে ভয় পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। পরে অন্যান্যরাও দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থলের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং আসামিদের ফেলে যাওয়া যাবতীয় আলামত উদ্ধার করে।

পিবিআই প্রধান বলেন, এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামি আল আমিন মল্লিক ও নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বিএনএনিউজ২৪.কম/এসকেকে/এইচ.এম।

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
January 2019
FSSMTWT
« Dec Feb »
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031