বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ব্রেকিং নিউজ

নির্বাচনী সংস্কৃতির কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন, শুভবুদ্ধিকে সাধুবাদ


১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ৮:০৬ : অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ জুলফিকার হোসেন: ধন্যবাদে শুরুর সংস্কৃতি নেই। তবু তাই দিয়ে শুরু করতে চাই। ইশরাক হোসেন ও তাবিথ আউয়াল, বিএনপির তারুণ্যের দুই প্রতিনিধি, আপনাদের সাধুবাদ। প্রশংসায় যুক্ত করতে হয় ঢাকা সিটি নির্বাচনে অন্য মেয়র প্রার্থীদেরও। একইসঙ্গে সাধুবাদ বিএনপি হাইকমান্ডকে, দীর্ঘদিনের নির্বাচনী সংস্কৃতির শেকল ভাঙার জন্য। বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও।

প্রতীকী ভূমিকার এখানেই ইতি। এবার বিশ্লেষণে আসা যাক। প্রশংসা এদেশে সবসময় পক্ষের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তবু সাহস করে লেখা।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা অভিনন্দন পেতেই পারেন। একদিনের এই নির্বাচনে ভেঙেছে অনেকদিনের অনাকাঙ্ক্ষিত নির্বাচনী সংস্কৃতির ধারা।

সন্ধ্যায় যখন এ লেখার গাঁথুনি চলছে তখন শুরু হয়েছে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের ভোটগণনা। টিভিপর্দা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে আসতে শুরু করেছে একের পর এক ভোটকেন্দ্রের ফলাফল। স্বস্তির বিষয় হলো, বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীরা অনেকদিন পর নির্বাচনের মাঝপথে ভোট বর্জন করেননি। শুধু তাই নয়, ভোট বর্জনের ঘোষণা আসেনি অন্য কোনো মেয়র প্রার্থীর পক্ষ থেকেও। বরাবরের মতোই অভিযোগ ছিল অনেক। তবে মাঝপথে নির্বাচনের মাঠ ছাড়েননি প্রার্থীরা। দেশের রাজনীতিতে, বিশেষ করে নির্বাচনী সংস্কৃতিতে যা অবশ্যই ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা।

সাম্প্রতিক সময়ে ভোটের দিন সকাল বা দুপুরে বিএনপি ও অন্য দলগুলোর প্রার্থীদের বর্জনের ঘোষণা নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। স্থানীয় কিংবা জাতীয় পর্যায়, এ চিত্র স্বাভাবিক ছিল প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই। শনিবারের ঢাকা সিটি নির্বাচন তাই নির্বাচনী সংস্কৃতিতে নতুন দিনের সুবাতাস নিয়ে এসেছে।

বরাবরের মতো দিনভর মিলেছে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর। এরমধ্যেই বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের হাল না ছাড়ার ঘোষণা কিংবা ইশরাক হোসেনের শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার প্রত্যয়, সচেতন নাগরিক সমাজের মনে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

নির্বাচনের মাঝপথে সরে যাওয়া নিয়ে বিএনপির তৃণমূলে দীর্ঘদিন ধরে বাসা বেঁধেছিল অসন্তোষের কালো ছায়া। এবার প্রচারণার সময় থেকেই তাই ভোটের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত থাকার ঘোষণা দিয়ে আসছিলেন বিএনপি নেতারা। যার প্রতিধ্বনি শোনা গেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যেও। ভোটের দিন ঘটেছেও তাই। শুধু তাবিথ বা ইশরাকই নয়, দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাসও বলেছেন একইকথা, কিছুতেই ছাড়ব না মাঠ।

বিএনপির দফতরও অন্যান্য নির্বাচনের মতো এবার সরগরম ছিল না একের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে। দলের দুই শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও ভাষ্যকার, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভী আহমেদের অভিযোগের তীর এবার ছোটেনি সেভাবে। একইসঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও ছিলেন যথেষ্ট সংযত।

দুই পক্ষের কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি হয়েছে। কিন্তু অন্যসময়ের চেয়ে অনেক কম। বরং শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকায় বিএনপি প্রার্থীদের প্রশংসা করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও শীর্ষ নেতারা।

তবে এত আলোর মাঝেও ছিল অন্ধকারের ছায়া। দিনভর ঘটেছে অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে সবার আগে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাতে চাই। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সংবাদ সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক। সংবাদকর্মীদের রক্তাক্ত সেই ছবি আতংকিত করবে যে কাউকে। আমরা এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ চাই।

শুধু সংবাদকর্মীরাই নন। আক্রান্ত হয়েছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরাও। প্রতিপক্ষের হামলায় জখম হয়েছেন অনেকে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, কেন্দ্র দখলের চেষ্টা, ভোট দিতে বাধা, কেন্দ্রের বাইরে শোডাউনের খবর মিলেছে বরাবরের মতোই।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ভোটের দিনের এসব সহিংসতার শেষ দেখাটা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের নীরব ভূমিকা সহিংসতার আগুনে জ্বালানি যোগ করে। স্বাধীন, শক্তিশালী ও তৎপর নির্বাচন কমিশনের তাই বিকল্প নেই।

আজকের ভোটে আরেকটি হতাশার বিষয় হয়ে এসেছে ভোটার উপস্থিতি। সকাল থেকে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল হাতেগোনা। দিনশেষে সার্বিক ভোটার উপস্থিতিকে কোনোভাবেই আশাব্যাঞ্জক বলা যাবে না।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়েও ছিল অনেক অভিযোগ। খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আঙুলের ছাপ না মেলায় জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোট দিতে হয়েছে! প্রায় একই সমস্যায় পড়েছেন অনেকেই। জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন অভিযোগ করেছেন ভোটাররা তার প্রতীক লাঙল টিপলেও অনেকক্ষেত্রে কনফার্মেশন আসেনি। মেশিনে সমস্যা থাকায় মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের মাকে ভোট দিতে অপেক্ষা করতে হয় ৪০ মিনিট।

তবে একথা স্বীকার করতেই হবে, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় এবারের ঢাকা সিটি নির্বাচন বড় ধরনের আশার আলো নিয়ে এসেছে। সামনের দিনগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে, এমন আশা করতে দোষ কোথায়?

লেখক: সংবাদকর্মী

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
February 2020
FSSMTWT
« Jan  
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031