বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্ব : ১৯০


৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১২:৪২ : অপরাহ্ণ

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকায় অসংখ্য নিরীহ সাধারণ বাঙালি নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পুলিশকে হত্যা করে। ওই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্ত দল আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। পরিকল্পিত গণহত্যার মুখে সারাদেশে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষ গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী। গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ চালিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে যখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। মুক্তিবাহিনীর কাছে পরাজয়ের লজ্জা এড়াতে স্বাধীনতা যুদ্ধকে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ৩ ডিসেম্বর ভারতে বিমান হামলার মাধ্যমে যুদ্ধে লিপ্ত হয় পাক বাহিনী। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের মুখে পর্যদুস্ত ও হতোদ্যম পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যুদ্ধ বিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর কোন ঘোষণা ছাড়াই ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান ৯৩,০০০ হাজার সৈন্যসহ যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে আত্মসমর্পণের দলিলে সই করে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতার সেই প্রেক্ষাপট বর্তমান প্রজন্মের কাছে অজানা। নতুন প্রজন্মের কাছে  স্বাধীনতার সঠিক  ইতিহাস তুলে ধরতেই বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ) বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ দলিলপত্র (১-১৫ খণ্ড) এর ভিত্তিতে ধারাবাহিক ভাবে প্রচার করছে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ’।

আজ প্রচারিত হলো  পর্ব : ১৯০

তাদের বেতন এবং জীবন যাত্রার মান হতে হবে তাদের যোগ্যতা, গুরুত্ব এবং আজকের এবং আগামীর প্রশাসনে তাদের প্রয়োজনীয়তার সমতূল্য। তাদের মধ্যকার তিক্ততা এবং বিরক্তভাব উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি করছে। উদাহরণ দিয়ে বললে, একজন বিজ্ঞানী অথবা একজন ইঞ্জিনিয়ার অথবা একজন ডাক্তার কে তার স্ব স্ব ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, সহকারী সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া উচিৎ। জনপ্রশাসনের আর্ট এন্ড সাইন্স সম্পর্কে তাকে তার ক্যারিয়ারের যথাযথ সময়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিৎ।

বৈজ্ঞানিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত যেসকল সুবিধাদি বর্তমানে রয়েছে

১) বৈজ্ঞানিক বেসামরিক প্রশাসন

২) ইঞ্জিনিয়ারিং প্রশাসন

৩) চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য প্রশাসন

৪) বন অধিদপ্তর

৫) প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ

৬) ভূতাত্ত্বিক বিভাগ

এই সকল বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও অনেক চাকরির সুযোগ বাড়বে এবং তাদেরকে তাদের দক্ষতা এবং দায়িত্ব অনুযায়ী একটি একক গ্রেডিং পদ্ধতিতে তাদের পে-লেভেলকে ভাগ করতে হবে এবং সঠিক গ্রেড সেই সকল বিভাগের বিশ্লেষকরা নির্ধারণ করবেন। তারা যেকোন একটি বৈজ্ঞানিক প্রশাসনের সাথে যুক্ত থাকবে যা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হবে এবং একটি গ্রেডের অধীনে থাকবে যা বাংলাদেশ বৈজ্ঞানিক প্রশাসন নামে পরিচিত। তাদের বেতন হবে বাংলাদেশ জনপ্রশাসনে তাদের সমপদের সমান। এই দুই শ্রেণীর পে-স্কেলের কোন তফাত থাকবে না। এখানে ফুলটন কমিটির  কথা উল্লেখ্য যারা ব্রিটেনের জনপ্রশাসনের জন্য একই প্রস্তাব করেছিলেন। কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে – আমরা বৈজ্ঞানিক অফিসার, প্রযুক্তিবিদ এবং বৈজ্ঞানিক সহযোগী এবং এই কাজে দক্ষ, ইঞ্জিনিয়ার এবং তদসংশ্লিষ্ট এওং আর্কিটেক্ট এবং নকশাকারদের এতে যুক্ত করার প্রস্তাব জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ শিক্ষা প্রশাসন

যেহেতু শিক্ষা সরকারের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, তাই বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে করে যাতে করে বর্তমানের চৌকস ছেলে এবং মেয়ে এর প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাদের পে-স্কেল এবং অন্যান্য সুবিধাদি এমন হতে হবে যাতে করে তারা জাতিকে তাদের সর্বোচ্চটা দিতে পারে। নিশ্চয় বলে দিতে হবে না যে জাতির ভবিষ্যৎ তাদের হাতে। উপরে বর্ণিত বেসামরিক কর্মচারী, সাধারণ এবং বিশেষজ্ঞদের পে-স্কেলের সাথে তাদের মিল থাকতে হবে।

(গ) প্রতিরক্ষা কেন্দ্রীয় সদরের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

(২) অস্ত্র-কারখানার সাধারণ পরিচালকের দপ্তর।

অস্ত্র-কারখানার প্রধান পরিচালক দ্বারা অস্ত্র-কারখানা পরিচালিত হবে।

(৩)  বাংলাদেশ বিদ্যুৎ।প্রতিরক্ষা সচিব পরিচালকমণ্ডলীর সভাপতি নির্বাচিত হবেন।প্রতি দিনকার প্রশাসন পরিচালনার জন্য একজন সার্বক্ষণিক পরিচালন অধিকর্তা থাকবেন।এই কারখানা সরকারের প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক বিভাগের জন্য তারবিহীন এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরি করবে।

 (৪) প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সংস্থা

এই পরিচালনা অধিদপ্তরের দায়িত্ব হবে প্রযুক্তিগত গবেষণা,নকশা উন্নয়ন,পরিদর্শন, সকল অস্ত্রের প্রযুক্তিগত পথানুসরন ও পরিবর্তন,বারুদ,A & B  যানবাহন,প্রকৌশল গুদাম,ইলেকট্রনিক্স,সাধারন গুদাম ও বস্ত্র এবং নির্দিষ্ট ঔষধের দোকান।প্রধান ব্যবসায় হবে অস্ত্র ও সরঞ্জাম উৎপাদনের যাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা যায়।

 (৫) বিজ্ঞান প্রতিরক্ষা সংস্থা।

বাংলাদেশ সরকার কে জাতীয় শারীরিক পরীক্ষাগার,বাংলাদেশ নৌ রাসায়নিক ও ধাতুবিদ গবেষণাগার,এবং মানসিক গবেষণা ইউনিট এর-ও উন্নয়ন করতে হবে।

(৬) জাতীয় রণশৈক্ষবাহিনী পরিদপ্তর।এই পরিদপ্তর ঢাকায় অবস্থিত হবে এবং সামরিক সেনাপতি এর পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।

(৭) সামরিক ভূমি ও সেনাবাহিনীর দায়িত্ব

(ক) সামরিক ভূমি ও সেনাবাহিনীর পরিচালক,বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রশাসন এবং সেনাবাহিনীর সকল ভিতর ও বাইরের সামরিক ভূমির দায়িত্বের প্রধান হবেন। প্রতিরক্ষা কাজের জমি ও ভবনের লিখিত ফরমাশ ও অধিনিগ্রহণের জন্য তিনি দায়বদ্ধ থাকবেন।

(খ) ভূমি,মজুরি ও নিষ্পত্তি

এই কাজের-ও দায়িত্বে থাকবে সামরিক ভূমি ও সেনাবাহিনী পরিচালক।এ কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে যুদ্ধকালীন লিখিত ফরমাশ করা জমি ও ভবনের অধিগ্রহণ,যুদ্ধকালীন জমি ও ভবনের মত নির্মিত সম্পদের নিষ্পত্তি এবং এসব সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ ব্যয়।

 (৮)বিদেশী ভাষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।এই প্রতিষ্ঠান ফ্রেঞ্চ,রাশিয়ান,জার্মান,চাইনিজ, জাপানিজ,পার্সিয়ান,আরবি,বার্মিজ এবং স্প্যানিশ ভাষার ট্রেনিং প্রদান করবে।

 (৯)প্রধান পরিচালক,এই সংস্থা সশস্ত্রবাহিনীর প্রধান পরিচালকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী,নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে।

(১০)মিলিত ঐতিহাসিক আন্তঃ সেবা অধ্যায়।

(১১) ইতিহাস সেকশন (বাংলাদেশ) : এই সেকশন বাংলাদেশ এর স্বাধীনতা সংগ্রাম এর ইতিহাস সংরক্ষণ করবে।

(১২)আর্মড ফোর্স ইনফরমেশন অফিসারঃ অফিস টি আর্মড ফোর্স অফিসার এর পরিচালনায়য় থাকবে এবং এর প্রধান কাজ হবে প্রেস, রেডিও,টেলিভিশন, ফিল্ম এর মাধ্যমে জনগণ কে কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত রাখা

(১৩) আর্মড ফোর্স ফিল্ম এন্ড ফটো ডিভিশন এই অংশ তিন বাহিনীর ফিল্ম এবং ফটোগ্রাফি সংরক্ষণন করবে

(১৪)অগ্নি পরামর্শক অফিস অফিসার অগ্নি নির্বাপণ সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান করবেন

(১৫) মিলিটারি কার্যনির্বাহী পরিচালক মিলিটারি কার্যনির্বাহী পরিচালক ১) প্রিন্টিং,পাব্লিকেশন২)স্টেশনারি,অফিস মেশিনারি সরবরাহ ৩) এবং যোগ্য ব্যাক্তিকে মেডেল প্রদানের দ্বায়িতে থাকবেন

(১৬) বাংলাদেশ পদাতিক সৈন্য, নাবিক এবং আকাশ পথ বোর্ড এই বোর্ড এক্স সার্ভিস ম্যান দের পারিবারিক ভরণপোষণ করবেন (১৭)রি সেটেলমেন্ট সেকশন পুনর্বাসন সেকশন এইই সেকশন সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং বেসরকারী সংস্থা এর সম্পর্ক স্থাপন করবে। এই সব প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন সদস্য দের পুনর্বাসন করবে

(১৮) বাংলাদেশ রাইফেলস. তারা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রানালয় নিম্ন লিখিত কাজ করবেন – (1) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ প্রশাসন পরিচালনা এবং সমগ্র দেশের অর্থনৈতিক পরিচালনা (2) প্রশাসন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব উত্থাপন এবং সরকারের কর ও ঋণ নীতি নিয়ন্ত্রণ

(৩) ব্যাংক, মুদ্রা সংক্রান্ত প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান এবং এ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় পরিচালনা। সেই সাথে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ

(৫) অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংশ্লিষঠতার মাধ্যমে সমগ্র সরকারের ব্যায় নিয়ন্ত্রন মন্ত্রণালয় এ সচিবালয়, সংযুক্ত অফিস এবং সাব অর্ডিনেট অফিস থাকবে। মন্ত্রণালয়ের একজন মন্ত্রী দ্বারা পরিচালিত হবে। যার সহায়তায় দুইজন অর্থ উপ-মন্ত্রী ও চার সংসদীয় সচিব থাকবেন।মন্ত্রণালয় অবশ্যইপর্যাপ্ত দক্ষ হবে এবং সকল ব্যবসায়ী কার্য পরিচালনার যোগ্য হবে মন্ত্রণালয় নিম্নলিখিত চারটি বিভাগে বিভক্ত হবে,তারমধ্যে তিন ডিভিশন আরো শাখা প্রশাখায় বিভক্ত হবে (ক) রাজস্ব বিভাগ (খ) ব্যয় বিভাগে (গ) অর্থনৈতিক বিষয়ক অধিদপ্তর (ঘ) কম্পানি ল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগ প্রতিটি বিভাগে অতিরিক্ত সচিব কতৃক পরিচালিত হবে কিন্তু সামগ্রিক বিষয় প্রধান সচিবের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে অর্থমন্ত্রী-উপমন্ত্রী-সচিব অতিরিক্তসচিব-অতিরিক্ত সচিব, ইকোনমিক এফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট-অতিরিক্ত সচিব, সম্প্রসারণডিপার্টমেন্ট- অতিরিক্ত সচিব,কোম্পানি ল ডিপার্টমেন্ট রাজস্ব বিভাগেরপ্রশাসন অতিরিক্ত সচিব:১ যুগ্ম-সচিব:৩ উপসচিব :৭ আন্ডার সেক্রেটারি : ১৪ সেকশন অফিসার : ৩৬

ব্যয় বিভাগ

অতিরিক্ত সম্পাদক                        :   ১

যৌথ সম্পাদকগণ                         :   ২

সহকারী সম্পাদকগণ                   :   ৬

অধীনস্থ সহকারীগণ                     :  ১২

অধ্যায় কর্মকর্তাগণ                     :   ৩৬

অর্থনৈতিক বিষয়াবলী বিভাগ অতিরিক্ত সম্পাদক        :   ১

যৌথ সম্পাদকগণ                        :   ৬

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা          :   ১

সহকারী সম্পাদকগণ                  : ১২

সহকারী অর্থনৈতিক উপদেষ্টা     :   ১

সহায়ক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা        :  ১

অধীনস্থ সহকারীগণ                    : ২৪

অধ্যায় কর্মকর্তাগণ                     :  ৪৮

কোম্পানি আইন ও প্রশাসন বিভাগ

অতিরিক্ত সম্পাদক                     :   ১

যৌথ সম্পাদক                            :   ১

সহকারী সম্পাদকগণ                 :   ১

অধীনস্থ সহকারীগণ                    :   ৩

অধ্যায় কর্মকর্তাগণ                       :   ৯

রাজস্ব বিভাগ

রাজস্ব বিভাগ,যা রাজস্ববোর্ড হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে,

নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর লেনদেন করে :

আয়কর,ব্যয়-কর,সম্পদ  কর,সংস্থা কর,শুল্কবিভাগ,আবগারি শুল্ক,আফিম ও চেতনানাশক,বাণিজ্যিক কর,বিক্রয়কর,ভূমি রাজস্ব,ডাকটিকিট,নিবন্ধন ও অন্যসব কর এবং দায়িত্বসমূহ।

রাজস্ববোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ  প্রতিষ্ঠান,যার কেন্দ্রীয় সমিতি রাজস্ব আইন,১৯২৪ দ্বারা গঠিত। শুল্কবিভাগ ও আবগারি শুল্ক আইন মোতাবেক এর শুনানি ও আবেদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।বাংলাদেশ সরকারের সম্পাদক দ্বারা এই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হবে,যিনি পদসূত্রে রাজস্ববোর্ড এর-ও সভাপতি এবং বাংলাদেশ সরকারের ৩জন যৌথ সম্পাদক-ও সহায়তা করবেন।এটা ভূমি রাজস্ব অনুযায়ী আবেদনের কাজ করবে।

রাজস্ববোর্ড অনুযায়ী পরিদর্শনের জন্য দুইটি পরিচালকের দপ্তর থাকবে, একটি আয়কর পরিদর্শন ও তদন্তের জন্য এবং অন্যটি শুল্কবিভাগ ও আবগারি শুল্কের জন্য। আয়কর পরিদর্শন ও তদন্ত পরিচালক দপ্তরের দু’টি শাখা থাকবে-(ক) পরিদর্শন এবং (খ) তদন্ত।একটি পৃথক সতর্ক শাখা নির্মিত হতে পারে।

শুল্ক, কর,আবগারি ও তদন্ত  অধিদপ্তরের কাজ হচ্ছে শুল্ক ও আবগারি আদায়ে কোন প্রকার  দূর্নীতি বা কর ফাঁকি হচ্ছে

কিনা তার দিকে নজর  রাখা।

এই  প্রতিষ্ঠানটি  সরাসরি  রাজস্ব  বোর্ডের কাছে   দায়বদ্ধ। এই প্রতিষ্ঠানের  দায়িত্বে  আরোও একটি  সংগঠন পরিসংখ্যান বিভাগ   থাকবে।যার কাজ হবে শুল্ক ও কর সম্পর্কিত  সকল পরিসংখ্যান  গত  হিসাব   রাখা।

অর্থব্যয় বিভাগ

ব্যয় বিভাগকে নিম্নোক্ত উপবিভাগে ভাগ করা যেতে পারে।

(১) সংস্থাপন অধিদপ্তর

(২) বেসামরিক ব্যয়

(৩) প্রতিরক্ষা ব্যয় বিভাগ

 

 সংস্থাপন অধিদপ্তর

এই বিভাগটি মূলত সেসব ব্যাপারে জন্য দায়ী যা অর্থনৈতিক নীতিমালা ব্যাখ্যা করে, পাশাপাশি যেসব ন্যায়-নীতি পারিশ্রমিক, ভাতা, ছুটি, পেনশন ইত্যাদির সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে। তাছাড়া এটি সংস্থাপন সংক্রান্ত সকল বিভাগ এবং সরকারি চাকুরেদের বেতন কাঠামো সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্নের সমাধানের লক্ষ্যে একটি সমন্বয়কারী ইউনিট হিসেবে কাজ করে। উপরন্তু উক্ত বিভাগটি এই মন্ত্রণালয়ের নানান বিভাগের নির্দিষ্ট কিছু  প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বেসামরিক ব্যয়

এই বিভাগের প্রধান কাজ হচ্ছে বিভিন্ন প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে আর্থিক তদন্ত সস্পন্ন  করা। সাধারণত যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার আর্থিক উপদেষ্টা এই দায়্ত্বি বহন করবেন যাদের জিম্মাদারিত্ব বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত। অতিরিক্ত অর্থ উপদেষ্টা পদমর্যাদার ডেপুটি সচিব এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রণালয় শাখা অর্থ উপদেষ্টা সহযোগিতা লাভ করবেন। মূলধন ব্যয় সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব এবং জটিল নীতি, যদিওবা অর্থ উপদেষ্টা কর্তৃক প্রাথমিকভাবে যাচাইকৃত যারা কিনা ব্যয় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সভাপতিত্বে অর্থব্যয় কমিটিতে আছেন, যেখানে প্রত্যেক আমলা তদবর্তমান বর্তমান প্রস্তাবের সাথে সংযুক্ত। ব্যবসার ত্বরিত নিষ্পত্তি জন্য এটি দরকার হবে।

প্রতিরক্ষা ব্যয় বিভাগ

প্রতিরক্ষা ব্যয় বিভাগ অর্থ উপদেষ্টার অধীনে থাকবে।  প্রতিরক্ষা সেবা বাংলাদেশ সরকারের অধীনস্থ একজন যুগ্ম সচিবের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।  তার কাছে প্রতিরক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ প্রবেশাধিকার থাকবে এবং সে নিজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থ উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর প্রধান এবং  প্রতিরক্ষা সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর  সভাপতিত্বে তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কমিটিতে সদস্য হবেন এবং পাশাপাশি তিনি মন্ত্রিসভার প্রতিরক্ষা কমিটির মিটিংয়ে উপস্থিত থাকবেন। এই বিভাগটি তদন্ত, অনুমোদন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের হিসাব-নিকাশের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে এবং প্রতিরক্ষা হিসাব বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করবে।

আর্থিক বিষয় বিভাগ

আর্থিক বিষয় বিভাগকে নিম্নোক্ত শাখায় ভাগ করা যেতে পারে, প্রতিটি শাখা একজন যুগ্ম সচিবের অধীনে থাকবে। আর্থিক বিষয় বিভাগটি প্রধান অর্থ উপদেষ্টার অধীনে থাকবে।

১. বাজেট বিভাগ

২. পরিকল্পনা বিভাগ

৩. অভ্যন্তরীণ অর্থ বিভাগ

৪. বহি:স্থ অর্থ বিভাগ

৫. অর্থনীতি বিভাগ

৬. বীমা বিভাগ

এগুলো ছাড়াও, যুগ্ম সচিবের অধীনে রাজধানী নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়ের জন্য আরো আলাদা শাখা থাকতে পারে। শেয়ার বাজার এবং অর্থ দুর্নীতি, এছাড়া, বিক্রয় কর সংশ্লিষ সমস্যা সমাধানের জন্য বিভাগে একটি বিক্রয় কর ইউনিট চালু করা যেতে পারে।

(১) বাজেট বিভাগ। এই বিভাগটি প্রথমত রেলওয়ে ছাড়া বাজেট প্রস্তুতের জন্য দায়বদ্ধ। প্রতিরক্ষা সেবার জন্য প্রাপ্ত অনুদান যাচাই করা এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ কর্তৃক তা সংকলন করা, যেথায় ডাক ও টেলিগ্রাফ বিভাগের জন্য নির্ধারিত অনুদান ডাক ও টেলিগ্রাফ ডিরেক্টর জেনারেল কর্তৃক রচনা করা হবে। অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সরকারের বিভাগ সংক্রান্ত অনুদান সংযুক্ত অর্থ বিভাগের সহযোগিতায় বাজেট  বিভাগ তা রচনা করবে। সমগ্র বাজেটের একত্রীকরণ করার চূড়ান্ত দায়িত্ব এবং এর সমর্থনকারী নথি প্রস্তুতি বাজেট বিভাগের উপর ন্যস্ত হবে।

নিম্নোক্ত কাজের জন্যেও এই বিভাগটি দায়বদ্ধ থাকবে।

(ক) সারাবছর ব্যাপী জাতীয় সংসদের প্রতিটি সেশনে সম্পূরক অনুদান এবং অধিকৃত অর্থের সংগ্রহ করা হবে।

(খ) পথ ও উপায় এর প্রস্তুতিতে নির্ধারিত অনুদান, জনসাধারণের ঋণের বোঝা, ক্ষুদ্র সঞ্চয় আন্দোলনের প্রচার, নারীদের সঞ্চয়ী প্রচারণা, জনগণের ঋণের প্রশাসন এবং সরকারের ধার-দেনা এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক আকস্মিক ব্যয় তহবিলের নিয়মাবলী, নগদ অর্থগ্রহণের  নিয়ম  এবং  ক্ষতিপূরণ  এর  তহবিল।

(গ) অডিট সংক্রান্ত প্রশ্ন, হিসাব কার্যপদ্ধতি, সরকারি হিসাবের লেনদেন শ্রেণীবিন্যাস এবং কাঠামোবদ্ধ করা এবং  কোষাগারের নিয়ম-নীতির প্রয়োগ।

(ঘ) সুদের ঋণ হার পরিশোধ সংক্রান্ত কাজ, উৎপাদনশীলতা পরীক্ষা হার, সরকার কর্তৃক ঋণের উপর  নির্ধারিত সুদের হার, বাণিজ্যিক বিভাগসমূহ এবং অন্যান্য পার্টি এবং নিয়ন্ত্রণকর্তার হিসাব ও অডিট রিপোর্ট এবংমহাহিসাবনিরীক্ষকসংসদেরপূর্বেরাষ্ট্রপতিরনিকটপ্রতিবেদনপেশকরবে।

 

পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা

গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী

সম্পাদনায় : আবির হাসান

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
February 2020
FSSMTWT
« Jan  
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031