বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্ব : ১৯২


১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১:৩২ : অপরাহ্ণ

বাজেটের সাথে বাংলাদেশের  অগ্রগতির প্রতিবেদনের সংকলন  মূল্যায়ন করতে হবে

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঢাকায় অসংখ্য নিরীহ সাধারণ বাঙালি নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, পুলিশকে হত্যা করে। ওই রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্ত দল আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। পরিকল্পিত গণহত্যার মুখে সারাদেশে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষ গড়ে তোলে মুক্তিবাহিনী। গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ চালিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে যখন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। মুক্তিবাহিনীর কাছে পরাজয়ের লজ্জা এড়াতে স্বাধীনতা যুদ্ধকে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। ৩ ডিসেম্বর ভারতে বিমান হামলার মাধ্যমে যুদ্ধে লিপ্ত হয় পাক বাহিনী। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের মুখে পর্যদুস্ত ও হতোদ্যম পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যুদ্ধ বিরতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর কোন ঘোষণা ছাড়াই ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান ৯৩,০০০ হাজার সৈন্যসহ যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে আত্মসমর্পণের দলিলে সই করে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীনতার সেই প্রেক্ষাপট বর্তমান প্রজন্মের কাছে অজানা। নতুন প্রজন্মের কাছে  স্বাধীনতার সঠিক  ইতিহাস তুলে ধরতেই বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ) বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ দলিলপত্র (১-১৫ খণ্ড) এর ভিত্তিতে ধারাবাহিক ভাবে প্রচার করছে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ।

আজ প্রচারিত হলো  পর্ব : ১৯২

(ছ) কারিগরি সহায়তা সংক্রান্ত সব বিষয় বজায় রাখার জন্য একদিকে সরকার এবং প্রতিষ্ঠানের মাঝে সমন্বয় করতে হবে।

পরিদর্শন ও তদন্ত অধিদপ্তর  (আয়কর) :

অধিদপ্তরের অধীনে একটি পৃথক সংগঠন থাকবে যার কাজ হবে ঠিকাদারদের ছোট-বড় লেনদেন ও লভ্যাংশের রশিদ বাংলাদেশের সকল আয়কর অফিস থেকে সংগ্রহ ও সরবরাহ করা।

অধিদপ্তরের পরিচালকদের (আয়কর) কাজ হবে নিম্নরূপঃ

১। কারিগরি কাজের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একজন বিশেষায়িত অফিসার দায়িত্বে থাকবে।

২। বাজেটের সাথে বাংলাদেশের সকল অগ্রগতির প্রতিবেদনের সংকলন তুলনামূলক  মূল্যায়ন করতে হবে।

৩। বিভিন্ন প্রকার দক্ষ এবং কার্যকরী অর্থনৈতিক নির্দেশনার বিবেচনা করতে হবে।

৪। আইন প্রয়োগকারী তদন্ত সংস্থা সকল কার্যকলাপের মূল্যায়ন,রক্ষণাবেক্ষণ  এবং সংকলনের জন্য নিবিড় নজরদারি করবে।

৫। গেজেটেড এবং নন-গেজেটেড কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ও সৃষ্টিশীল কাজের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

৬। রাজস্ব বোর্ডের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে গেজেটেড এবং নন-গেজেটেড কর্মকর্তাদের পরীক্ষা আয়োজন এবং সম্পন্ন করতে হবে।

৭। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বি-করারোপ চুক্তি বিধানের প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাজ করবে এই কমিটি।

৮। আপীলের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সহকারী কমিশনারের কার্যালয় পরিদর্শন করতে হবে।

৯। অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট এবং এই সংক্রান্ত উদ্ভূত  সকল ব্যাপারে রাজস্ব বোর্ডকে পরামর্শ দেয়া।

১০। নতুন কর এলাকা তৈরির জন্য কর কমিশনারকে পরামর্শ প্রদান।

(a) তদন্ত শাখাঃ

এই শাখা বৃহদাকার কর ফাঁকির মামলার ব্যাপারে বিস্তারিত পর্যালোচনা এবং গভীর তদন্ত করবে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় সংগঠন হিসাবে এটি অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখবে এবং তথ্য সংগ্রহ করবে।এই শাখা কর্মকর্তাদের তদন্ত করতে সাহায্য করবে এবং প্রয়োজনীয় কারিগর সহযোগিতা দিবে। আয়কর কর্মকর্তাদের মধ্যে দূর্নীতির ব্যাপারেও এই শাখা কাজ করবে।

৭। পরিদর্শন অধিদপ্তর – শুল্ক ও আবগারিঃ

এট নির্বাহী নিরীক্ষার জন্য একটি সংস্থা হিসেবে কাজ করবে।

প্রশাসনিক আবগারি ও রীতি-নীতি ও সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে রাজস্ব আদায় করা।

অধিদপ্তর মূলত নিম্নলিখিত কাজগুলো করবেঃ

(a) এই অধিদপ্তর শুল্ক ও আবগারি আইন (ভূমি অধিগ্রহণ) এবং এই সংক্রান্ত বাস্তব সমস্যার প্রতিবেদন দেখবে এবং সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করবে। সেই সাথে শুল্ক ও আবগারি আইন প্রণালী আত্নস্থ করে তদনুযায়ী উন্নয়নের জন্য রাজস্ব বোর্ডকে পরামর্শ দিবে।

(b) শুল্ক,কর ও আবগারি বিভাগের জন্য নিত্যনতুন নিয়মাবলী ও নির্দেশনা সংকলন এবং রক্ষণাবেক্ষণ করবে ; সেই সাথে সাধারণ জনগণকে আবগারি আইন সম্পর্কে তথ্য দিবে।

(c) রাজস্ববোর্ডের হয়ে, শুল্ক ও আবগারি কর্মকর্তাদের পরীক্ষা গ্রহণের জন্য একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করবে।

সেখানে পরিদর্শন অধিদপ্তরের কিছু আঞ্চলিক ইউনিট হতে পারে।

৮। রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তরঃ

এই অধিদপ্তর সাড়া বাংলাদেশ জুড়ে চোরাচালান সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে গবেষণা করবে এবং চোরাচালান বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

অধস্তন দপ্তর

অধস্তন দপ্তরগুলো নিম্নরূপ

১। কোম্পানির আঞ্চলিক পরিচালকদের কার্যালয়

২। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় কোম্পানি রেজিস্টারের কার্যালয়

৩। ঢাকা,চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলের শুল্ক আদায়কারী কর্মকর্তা

শুল্কভবনের মূল কাজ হচ্ছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া পণ্যের উপর কর আরোপ ও শুল্ক আদায় করা। তাছাড়া তারা আমদানি ও রপ্তানি আইন অনুযায়ী প্রশাসক হিসাবে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকে। প্রতিটা শুল্কভবন রাজস্ব বোর্ডের সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন। প্রতিটা শুল্ক কর্মকর্তা শুল্ক আদায়কারী কর্মকর্তার অধীনস্থ। অন্যান্য ছোট বড় বন্দরের শুল্ক আদায় শুল্কবিভাগ দেখাশোনা করে।

৪। ঢাকা,চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনার আবগারি আদায়কারী কর্মকর্তা।

আবগারি সংগ্রাহকগন শুল্ক সংগ্রহের জন্য সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত। স্থলবন্দর ও নদীবন্দরেও শুল্কও তারা আদায় করবে শুধু চট্টগ্রাম ও খুলনা ছাড়া।

৫। আয়কর বিভাগ

আয়কর বিভাগের প্রশাসনিক সেট আপ বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়।  জেলা ইউনিট,প্রতিটি জেলা ইউনিট একটি কমিশনারের অধীনস্থ।  এই ইউনিট গুলো সেই সব মামলা বা মামলার শ্রেণী নিয়ে কাজ করে যেগুলোতে  পদ্ধতিগত ভাবে কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয় অথবা হিসাবের পুঙ্খানুপুঙ্খ  তদন্ত প্রয়োজন হয়। এই মামলা গুলো রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক বিশেষভাবে তাদের ওপর আরোপিত হতে পারে।

(৬) পরিসংখ্যান শাখা (আয়-কর)।

এর দায়িত্ব হল আয়কর পরিসংখ্যান সংকলন, বিভিন্ন শ্রেনীর ব্যক্তিদের মোট আয় এবং পরিশোধিত কর, বিভিন্ন ব্যবসা, বানিজ্য, শিল্প, পেশার আয়ের শ্রেনী বিভাগ সংক্রান্ত কাজ  গুলো  করা।

(৭) পরিসংখ্যান ও গোয়েন্দা শাখা (আবগারি)।

পরিসংখ্যান ও গোয়েন্দা বিভাগ মুলত বিভিন্ন আবগারি পন্য সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সংগ্রহ, ছক আকারে তালিকাভুক্ত করা এবং সেগুলো ব্যাখ্যা করার কাজ করে।  কাস্টমস শুল্কের সাপেক্ষে বিভিন্ন শর্তাবলীর ওপর নির্মিত কাস্টমসের কাজ সংক্রান্ত দরকারি পরিসংখ্যান গুলোর

কম্পাইল ও এই শাখা  করে।

(৩) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়  কার্যাবলি ও সংগঠন

পররাষ্ট্র মন্ত্রণলয় নিম্ন লিখিত বিষয় গুলোর সাথে সম্পর্কযুক্ত কাজের  দায়িত্বে থাকবেঃ

(১) বৈদেশিক বিষয়াবলি

(২) বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস, বাংলাদেশ বৈদেশিক প্রজ্ঞাপনের কূটনৈতিক ও বানিজ্যিক প্রতিনিধিত্ব

(৩) জাতিসংঘের সংগঠন, আন্তর্জাতিক সম্মেলন, সমিতি ও অন্যান্য সংগঠন

(৪) বিদেশি রাষ্ট্র গুলোর সাথে মধ্যস্থতা ও চুক্তি

(৫) পররাষ্ট্র অধিকার ও বহিঃসমর্পন

(৬) বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে দেশান্তরীত হওয়া, পাসপোর্ট, ভিসা, এবং বাংলাদেশের বাইরে তীর্থযাত্রা

(৭) মন্ত্রণালয় কিছু নির্দিষ্ট আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকবে

একটি সচিবালয় এবং কিছু অধীনস্ত দপ্তর নিয়ে মন্ত্রনালয় গঠিত হবে।  মন্ত্রণালয় প্রধানের পরে থাকবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী ও সংসদীয় সচিবগণ তাকে সহায়তা করতে পারে।

 

সচিবালয়

 

সচিবালয়ে থাকবেঃ

সচিব                          –                   ১ জন

অতিরিক্ত সচিব          –                  ১ জন

অতিরিক্ত রাষ্ট্রমন্ডলীয় সচিব   –     ১ জন

যুগ্ম সচিব                             –        ৩ জন বা ৪ জন

উপ সচিব                             –       ১০ জন বা ১৫ জন

সচিবের অধনস্ত                       –    ২০ জন

বিভাগীয় কর্মকর্তা                     –    ২৫ জন বা ৩০জন

যেভাবে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছিল তার  একটি চার্ট নিচে দেওয়া হল

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
পররাষ্ট্র মন্ত্রী
সচিব
অতিরিক্ত সচিবঅতিরিক্ত কমনওয়েলথ সচিব
উঃ সঃ সচিবউঃ সঃ সচিবআইন উপদেষ্টা উঃ সঃ সচিবউঃ সঃ সচিবআইন উপদেষ্টা
ডিএসডিএসডিএসডিএসডিএসডিএসডিএসডিএসডিএসডিএসডিএসডিএসডিএসডিএস
ইউএসইউএসইউএসইউএসইউএসইউএসইউএসইউএসইউএসইউএসইউএসইউএসইউএসইউএস

 

মন্ত্রণালয়ের খুব কম দপ্তর ছিল, এর মধ্যে কিছু প্রাদেশিক এবং কিছু ডিপ্লোম্যাটিক । ওই দপ্তর গুলো নিচের  উপদলে ভাগ করা হয়েছিলো ।

 

১. আমেরিকা অংশ                   :            উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিন আমেরিকার দেশ সমূহ বৈদেশিক সাহায্য

২. ভারতীয় অংশ                    :

৩. পশ্চিম অংশ                     :            ই ইউ ও ইউরোপ ( যুক্তরাজ্য , ইউ.এস.এস.আরেবং পুর্ব ইউরোপের                                            দেশ সহ)

৪. পূর্ব ইউরোপ                     :             ইউ.এস.এস.আর. এবং পূর্ব ইউরোপের বৈদেশিক সাহায্য

৫. কমলওয়েলথ ডিভিশন      :           যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউইজল্যান্ড এবং অন্যান্য কমওয়েলথ

রাষ্ট্র সমূহ।

৬. দক্ষিন পূর্ব এশিয়া             :       জাপান,ইন্দোনেশিয়া,চিন, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, মায়ানমার, ফিলিপাইন,

থাইল্যান্ড, মালে।

৭.মধ্য পূর্ব আফ্রিকা               :            সুদান, মিশর, সৌদি আব,লিবিয়া, মরোক্কো, জর্ডান, ইরান, তূর্কী, এবং

অন্যান্য আফ্রিকান দেশসমূহ।

৮. প্রটোকল ডিভিশন                 :             প্রোটোকল, অধিনায়কত্ব ও দেশান্তর

৯. প্রশাসনিক বিভাগ                :            প্রশাসন, নিজস্ব, গৃহরক্ষনাবেক্ষন প্রধান দপ্তর বাংলাদেশ বৈদেশিক মিশন

১০. বিহির্বিশ্বে প্রচার বভাগ          :

১১.  পররাষ্ট্র সেবা পরিদপ্তর ও অপহরণ :

১২. ঐতিহাসিক বিভাগ :

পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা

গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী

সম্পাদনায় : আবির হাসান

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
February 2020
FSSMTWT
« Jan  
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031