বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ব্রেকিং নিউজ

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ১৩০


১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ৯:০০ : পূর্বাহ্ণ

আমাদের একটা মাইক্রোফোন ছিল, যখন আমাদের কর্মীরা সভার প্রচার করছিল ঘোড়ার গাড়ি করে নবাবপুর রাস্তায়, তখন বেলা তিনটা কি চারটা হবে, একদল মুসলিম লীগ কর্মী-গুণ্ডাও বলতে পারা যায়, আমাদের কর্মীদের মেরে মাইক্রোফোনটা কেড়ে নিয়ে যায়।


আজ প্রকাশিত হলো পর্ব : ১৩০

জনাব শামসুল হক সাহেব একটু ব্যস্ত ছিলেন, কারণ তাঁর বিবাহের দিন ঘনিয়ে এসেছে। আমাকেই পার্টির সমস্ত কাজ দেখতে হত। যদিও তাঁর সাথে পরামর্শ করেই করতাম। তিনি আমাকে বললেন, “প্রতিষ্ঠানের কাজ তুমি চালিয়ে যাও।” আমাদের মধ্যে এত মিল ছিল যে কোন ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনাই ছিল না। আমি বুঝতে পারতাম মওলানা সাহেব, হক সাহেবকে অপছন্দ করতে শুরু করেছেন। সুযোগ পেলেই তাঁর বিরুদ্ধে বলতেন। আমি চেষ্টা করতাম, যাতে ভুল বোঝাবুঝি না হয়। যদিও মওলানা সাহেব প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পেতেন না। এই সময় একজনের অবদান অস্বীকার করলে অন্যায় করা হবে। বেগম আনোয়ারা খাতুন এমএলএ প্রতিষ্ঠানের জন্য যথেষ্ট কাজ করতেন। দরকার হলে টাকা পয়সা দিয়েও সাহায্য করতেন। আতাউর রহমান সাহেবকে ডাকলেই পাওয়া যেত। তিনি পূর্বে রাজনীতি করেন নাই এবং রাজনৈতিক জ্ঞানও তত ছিল না।

লেখাপড়া জানতেন, কাজ করার আগ্রহ এবং আন্তরিকতা ছিল। আমার সাথে তাঁর একটা সম্বন্ধ গড়ে উঠতে লাগল। জেলায় জেলায় সোহরাওয়ার্দী সাহেবের সমর্থকরা আওয়ামী লীগে যোগদান করতে শুরু করল। এই সময় কলকাতায় ইত্তেহাদ কাগজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী সাহেব কলকাতা ত্যাগ করে করাচি চলে গিয়েছেন। মানিক ভাই ঢাকা এসে পৌঁছেছেন প্রায় নিঃস্ব অবস্থায়।  তিনিও এসে মোগলটুলীতে উঠেছেন। সোহরাওয়ার্দী সাহেব সামান্য কিছু কাপড় ছাড়া আর কিছু নিয়ে আসতে পারেন নাই। ভারত সরকার তাঁর সর্বস্ব ক্রোক করে রেখেছে। অনেকে শুনে আশ্চর্য হবেন, শহীদ সাহেবের কলকাতায় নিজের বাড়ি ছিল না। ৪০ নম্বর থিয়েটার রোডের বাড়ি, ভাড়া করা বাড়ি। তিনি করাচিতে তাঁর ভাইয়ের কাছে উঠলেন, কারণ তাঁর খাবার পয়সাও ছিল না।

আরো পড়ুন: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্ব : ১৯২

ঢাকার পুরানা নেতাদের মধ্যে কামরুদ্দিন সাহেব যোগদান করেন নাই পার্টিতে। তবে আবদুল কাদের সর্দার আমাদের অর্থ দিয়েও সাহায্য করছিলেন। তাঁর অর্থবল ও জনবল দুইই ছিল। ঢাকার খাজা বংশের সাথে জীবনভর মোকাবেলা করেছেন। গরিবদের সাহায্য করতেন, তাই জনসাধারণ তাঁকে ভালবাসত। আমরা এখনও জেলা কমিটিগুলি গঠন করতে পারি নাই। তবে দু’একটা জেলায় কমিটি হয়েছিল। চট্টগ্রামে এম. এ. আজিজ ও  জহুর আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে এবং যশোর খড়কীর পীর সাহেব ও হাবিবুর রহমান এডভোকেটের নেতৃত্বে। মশিয়ুর রহমান সাহেব ও খালেক সাহেব সাহায্য করেছিলেন, কিন্তু প্রকাশ্যে তখনও যোগদান করেন নাই। ফরিদপুরে সালাম খান সাহেবের নেতৃত্বে অর্গানাইজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৯৪৯ সালের ভিতরেই আমরা সমস্ত জেলায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব ঠিক করেছি। ছুটি থাকলেই আমরা সমস্ত জেলায় বের হব। সাড়া যা পাচ্ছি তাতে আমাদের মধ্যে একটা নতুন মনোবলের সৃষ্টি হয়েছিল।

নবাবজাদা লিয়াকত আলী খান মওলানা সাহেবের টেলিগ্রামের উত্তর দেওয়ারও দরকার মনে করলেন না। আমরা জানতে পারলাম তিনি ১১ই অক্টোবর ঢাকায় আসবেন। তিনি প্রেস রিপোর্টারদের কাছে বললেন, “আওয়ামী লীগ কি তিনি জানেন না।”

আমরা ১১ই অক্টোবর আরমানিটোলা ময়দানে সভা আহ্বান করলাম। আমাদের একটা মাইক্রোফোন ছিল, যখন আমাদের কর্মীরা সভার প্রচার করছিল ঘোড়ার গাড়ি করে নবাবপুর রাস্তায়, তখন বেলা তিনটা কি চারটা হবে, একদল মুসলিম লীগ কর্মী-গুণ্ডাও বলতে পারা যায়, আমাদের কর্মীদের মেরে মাইক্রোফোনটা কেড়ে নিয়ে যায়। একটা ঘোড়ার গাড়িতে মাত্র তিনজন কর্মী ছিল। কোন আইনশৃঙ্খলা দেশে নাই বলে মনে হচ্ছিল।

পরিকল্পনা : ইয়াসীন হীরা

গ্রন্থনা : সৈয়দ গোলাম নবী

সম্পাদনায় : মনির ফয়সাল /আবির হাসান 

আগের পর্ব পড়ুন : বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পর্ব : ১২৯

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
February 2020
FSSMTWT
« Jan  
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031