বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ব্রেকিং নিউজ

তৃণমূলের আলোকিত যুবক সৈকতের সাফল্যের গল্প


১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১:০০ : পূর্বাহ্ণ

আলমগীর হোসেন সৈকত। শুধু একটি নাম নয়- একজন নিষ্ঠাবান, মেধাবী, পরিশ্রমী, আত্মপ্রত্যয়ী আলোকিত মানুষ। ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস থাকলে  যে অনেক দূর যাওয়া যায় তার প্রমাণ তিনি। একসময় টিউশনি করে নিজের পড়ার খরচ যোগানো তরুণ সৈকত এখন সমাজে প্রতিষ্ঠিত এলিট। তার খ্যাতির আলো ছড়িয়েছে সারা দেশে।  তৃণমুল থেকে ওঠে আসা এ যুবক এখন আত্মপ্রত্যয়ী যুবকদের জন্য মডেল। একসময় পথহারানো এ যুবক এখন যুবকদের পথের দিশারী। আত্ম কর্মস্থানের জন্য স্থানীয়, জেলা জাতীয় পর্যায়ে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার।  আলমগীর হোসেন সৈকত বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ) হেড অব নিউজ ইয়াসীন হীরা’র কাছে তার জীবনের সফলতার গল্প শুনিয়েছেন। যার চুম্বকাংশ তুলে ধরা হয়েছে।

আশির দশকে আলমগীর হোসেন সৈকতের বাবা এবিএম হোসেন ছিলেন চট্টগ্রামের পাহাড়তলীস্থ একে খান টেক্সটাইল মিলের শ্রমিক নেতা। নেতৃত্বের গুণে তিনি মিলটির শ্রমিক লীগের সিবিএ সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। জীবনে হেরে না যাওয়া, নেতৃত্বের গুণটি তিনি বাবার কাছ থেকে পান। ৫ ভাই ১ বোনের মধ্যে সৈকতই ছিল বড়। বাবা যে বেতন পেতেন তাতে ৫ জনের লেখাপড়া, ভরণপোষণ করতে বেশ কষ্টই হচ্ছিল। বিষয়টি  সৈকতকে তাড়না দেয়। সিদ্ধান্ত নেন টিউশনি করে নিজের পড়ার খরচটুকু জোগাড় করবেন। টিউশনি পেয়ে গেলেন। পড়াতেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজনের ছোট ভাইকে।

পড়ালেখার পাশাপশি চুংকিং নামে একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে চাকুরি নিলেন। পেলেন ম্যানেজারের দায়িত্ব।পাশ করলেন স্নাতক। সিজলিং নামে একটি রেস্টুরেন্টের অংশীদার হলেন। কর্মদক্ষতার কারণে পরবর্তীতে পরিচালক হন সিলভার স্পুপন রেস্টুরেন্টের।এবার এগিযে যাবার পালা।

২০১২ সালে কযেকজনকে নিযে  ‌মিঠাই সুইটস এন্ড বেকার  নামে একটি  মিষ্টি প্রস্তুতকারি কারখানা শুরু করলেন।কারখানাটির সার্বিক পরিচালনার দায়িত্ব পান ।

 

আলমগীর হোসেন সৈকত

কিন্তু দুধে ভেজাল দিচ্ছিল সরবরাহকারি। কয়েকবার সরবরাহকারি বদল করা হলেও দুধের ভেজাল বন্ধ হচ্ছিল না। এ অবস্থায় নিজেই গাভী পালনের সিদ্ধান্ত নিলেন।  ২০১৬ সালের দিকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানা ইউনিট যুব উন্নয়ন  কর্মকর্তা জাহান উদ্দিনের উৎসাহ ও প্রেরণায় গবাদি পশু পালন, মৎস্য ও কৃষি সংক্রান্ত ৩ মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে সীতাকুন্ডের সলিমপুরের এক কক্ষের একটি  ঘরে দু’টি গাভী নিয়ে আলমগীর সৈকত শুরু করেন খামার। একটি গাভি কিনলেন নিজের টাকায়, অন্যটি কিনে দিলেন  মিঠাই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন। সূচনা হলো সংগ্রামের আরেক অধ্যায় ।

আত্মপ্রত্যয়ী সৈকত এবার মনযোগ দেন খামারটি বড় করার। সিদ্ধান্ত নিলেন ব্যাংক ঋণ নেওয়ার।  সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক জুবলী রোড শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইসহাক। দিলেন ১০ লাখ টাকার ঋণ। কেনা হলো বেশ কয়েকটি গাভী। সব দুধই মিঠাই এর মিষ্টি তৈরীতে সরবরাহ করা হয়। বাজারে খাঁটি দুধের মিষ্টি হিসাবে ‘মিঠাই’ জনপ্রিয়তা পেতে থাকে। বাড়তে থাকে চাহিদাও।

আলমগীর হোসেন সৈকত এবার পূবালী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখা ইনচার্জ আব্দুর রহীমের সহায়তা চাইলেন। সাড়াও পেলেন। আরো ১০ লাখ টাকা ঋণ পেলেন। গাভীর সংখ্যা বেড়ে হলো ৩০।  খামারের নামকরণ করেন ‘স্বদেশ ফ্রেশ মিল্ক’।

আলমগীর হোসেন সৈকতের প্রকল্পের বর্তমান মূলধন ১ কোটি ১১ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা, যেখানে বার্ষিক নীট আয় ১৮ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা। চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি কেন্দ্র রয়েছে মিঠাইয়ের। যাতে কাজ করছে ২৫ থেকে ৩০ জন।

চারিদিকে সৈকতের সাফল্যের গল্প ছড়িয়ে পড়লো। যুব উন্নয়ন মন্ত্রনালয়ের নজরে এলো ‘স্বদেশ ফ্রেশ মিল্ক’ খামার।   ২০১৯ সালে খোদ যুব ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের ডিজি শহীদুজ্জামান (বর্তমানে স্বরাষ্ট্র সচিব সুরক্ষা ও পাসপোর্ট) পরিদর্শনে এলেন। মুগ্ধ হন সৈকতের পরিরেশ সম্মত, উন্নত প্রযুক্তির খামারটি দেখে। তারই ধারাবাহিকতায়   সফল আত্মকর্মী হিসাবে জাতীয় যুব পুরস্কার-২০১৯ পেয়েছেন চট্টগ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মো. আলমগীর হোসেন সৈকত। বাংলাদেশের যুব সমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বীকৃতিস্বরুপ তাকে এ পদক দেয়া হয়।

‌‘দক্ষ যুব গড়ছে দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে জাতীয় যুব পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তার হাতে এ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। সততা এবং অধ্যাবসায় থাকলে মানুষ যে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে তার উদাহরণ সৈকত।

কিন্তু গল্পের এখানেই শেষ নয়- পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দু’জন অতিথিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সঙ্গে নেয়ার সুযোগ পেয়েছিল সৈকত। পরিবারের সদস্যরা সাধারণত অতিথি হন এক্ষেত্রে।সে হিসাবে অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপ্তরা পরিবারের সদস্যদের  নিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে। কিন্তু সৈকত এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তিনি সঙ্গে নিয়েছিলেন তাঁর পথের দিশারী ও অভিভাবক পোর্টল্যান্ড গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) ও মিঠাই এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন এবং তার  ঘনিষ্ট বন্ধু  দি “বাস্কেট সুপার শপের ” ম্যানেজার আতিকুর রহমানকে।  এখানেই সৈকত স্থাপন করলেন কৃতজ্ঞতার অন্য এক নজির!

 

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
February 2020
FSSMTWT
« Jan  
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031