বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ব্রেকিং নিউজ


বিষয় :

বসন্ত-ভালোবাসা দিবস রাঙাবে সাভারের গোলাপ গ্রাম


১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ৩:৫৭ : অপরাহ্ণ

সাভার প্রতিনিধি:  বাংলা মাসের সঙ্গে ইংরেজি মাসের এক কাকতলীয় মিলনে মিলে গেছে বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস। আর এতে ব্যস্ততা বেড়েছে সাভারের বিরুলিয়ার গোলাপ গ্রামের চাষীদের। দুই বড় দিবসকে ঘিরে দিনে লাখ টাকার ফুল বেচাকেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্যাপুর, কমলাপুর, শ্যামপুর, আক্রান, মোস্তাপাড়া, বাগ্নিবাড়ীসহ প্রায় বিশ গ্রামে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ হয়। ইউনিয়নের প্রায় তিনশো হেক্টর জমিতে গোলাপ, রজনীগন্ধ্যা, গ্লাডিওলাস ও জারবেরা প্রজাতির ফুল চাষ হচ্ছে। তবে এসব গ্রামে শুধুমাত্র আড়াইশো হেক্টর জমিতেই চাষ হয় গোলাপ।

এছাড়া বিরুলিয়া, আইঠর ও আকরানসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রায় ৮ হেক্টর জমিতে জারবেরা ফুলের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়েছে। তবে বিদেশী প্রজাতির এই ফুল চাষ ব্যয় বহুল হওয়ায় শুধুমাত্র বড় ফুল ব্যবসায়ীরাই এর চাষ করছেন। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ এই বিভিন্ন প্রজাতির ফুলচাষ পেশার সাথে পুরোপুরি জড়িত।

প্রতি বছর দেশের অভ্যন্তরীণ ফুলের বাজারে প্রায় ২৫-৩০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয় এখান থেকেই। তবে এ বছর পহেলা ফাল্গুন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা এই তিন দিবস ঘিরে প্রায় তিন কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

চাষিরা জানালেন, আসন্ন তিন দিবস (বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, বসন্ত বরণ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস) ঘিরে ফুল কেটে বাজারে নিয়ে আসা এবং পরিচর্যায় মহাব্যস্ত সময় পার করছেন । তারা বলেন, প্রতিবছর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসসহ ফেব্রুয়ারি মাসের তিনটি বিশেষ দিনকে টার্গেট করে ফুলের বাজার ধরতে এ অঞ্চলের ফুলচাষিরা ব্যাপক প্রস্তুতি নেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকেই চাষিরা ফুল কেটে বাজারে নিয়ে আসছেন। এসব ফুল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছেন পাইকার ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিনের মত ফুলের বাগানে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কেউ জমিতে পানি দিচ্ছেন। কেউ ওষুধ ছেটাচ্ছেন। কেউবা আগাছা পরিষ্কার করছেন আপন মনে।

স্থানীয় কৃষক আল আমিন জানালেন, ৩ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করেছেন তিনি। মেরিন্ডা জাতের গোলাপ চাষ করলেও এবছর শৈত্য প্রবাহের কারণে ফুলের ফলন কম হয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফুলের দাম বাড়ায় ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগেও প্রতিটি গোলাপ ৩-৫ টাকা বিক্রি হত। তবে এখন সেটা ৮-১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আরেক চাষি সজিব হোসেন বলেন, প্রতিবছর ভালোবাসা দিবস, বসন্তের সময় ফুলের চাহিদা বেড়ে যায়। এসময় প্রতিটি ফুল পাইকারী ২০-৩০ টাকা দরে বিক্রি করা যায়। ফুলের চাষ কিছুটা কম হলেও তা পূরণ করা যাবে।

এদিকে গোলাপ গ্রামে নতুন করে চাষ শুরু হয়েছে জারবেরা ফুলের। বিরুলিয়ার আইঠর গ্রামের ফুল চাষী আশরাফ মিয়া ও নাছির উদ্দিন জানালেন, ৭-৮ বছর আগে ভারত থেকে বিদেশি জারবেরা ফুল নিয়ে আসেন তারা। অন্যান্য এলাকায় এই ফুলের চাষ প্রচলন না থাকায় তারা লাভবান হতে থাকেন। পরে জারবেরার চাষ বাড়িয়ে দেন তারা। তারা বলেন, সামনে কয়েকদিনের ব্যবধানে তিনটি দিবস থাকায় ফুলের চাহিদা বেড়েছে। আর জারবেরা ফুল ১০-১৫ দিন পর্যন্ত সতেজ থাকে বিধায় বাজারে এর চাহিদাও অনেক বেশি। গত কয়েক দিন ধরেই তারা ৮-১০ টাকা দরে প্রতিটি জারবেরা ফুল পাইকারি বিক্রি করছেন। তবে ফুল বিক্রির এই মৌসুমে বর্তমান মূল্যের দ্বিগুণ দামে ফুল বিক্রি করতে পারলে তারা অধিক লাভবান হবেন। তবে সম্প্রতি বিদেশ থেকে কিছু প্লাস্টিক জাতের ফুল আমদানির কারণে তাজা ফুলের বাজারমূল্য কমছে বলে জানান এই দুই ব্যবসায়ী।

এদিকে শুধু বিরুলিয়ার স্থানীয় বাজারেই প্রতিদিন তিন থেকে চার লাখ টাকার ফুল বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিরুলিয়া ফুল চাষী সমিতির আহ্বায়ক মুহাম্মদ নাসির। তিনি বলেন, প্রতিবছর বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ফুলের বাজার জমে ওঠে। ইতোমধ্যে বাজারে ফুলের বিক্রি বেড়েছে। তবে সরকারি ভাবে ফুল সংরক্ষণ ও তা রপ্তানী করা গেলে এখানকার চাষীরা অধিক লাভবান হতো বলেও মন্তব্য করেন ফুল চাষী সমিতির এই মুখপাত্র।

সাভারের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজিয়াত আহমেদ বলেন, সাভারের বিরুলিয়ার ফুল দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখে। এখানকার লাল মাটি ফুল চাষের জন্য উপযোগী হওয়া ব্যাপক হারে ফুল উৎপাদন হয়ে থাকে। তাই চারা রোপন, বাগান পরিচর্যা ও কীটনাশক প্রয়োগসহ যাবতীয় বিষয়ে আমরা চাষীদের সার্বিক সহযোগিতা করে থাকি। তিনি বলেন, সাভারের এই ফুলে বছরে প্রায় ২৫-৩০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়ে থাকে। এই মৌসুমে প্রায় ৩ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এছাড়া ফুল সংরক্ষণ ও তা বিদেশে রপ্তানীর ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা। ফুলের হাট গোলাপ গ্রাম- স্থানীয় চাষিদের উৎপাদিত ফুল বিক্রির জন্য গোলাপ গ্রামে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী বাজার। প্রতিদিন সকালে সূর্য উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে এ হাটে ফুলের বেচাকেনা জমে ওঠে, যা সকাল ১০টা পর্যন্ত চলে। দেশের একমাত্র পাইকারি ফুলের এ হাটে সারাদেশের ব্যবসায়ীরা ফুল কিনতে আসেন।

বিএনএনিউজ/এসজিএন

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
February 2020
FSSMTWT
« Jan  
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031