বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ব্রেকিং নিউজ

বিশ্ব ভালবাসা দিবস আজ


১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ৯:০৮ : পূর্বাহ্ণ

।।আর করিম চৌধুরী।।

বিশ্ব ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালবাসা দিবস আজ। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিনে প্রাসাদ থেকে কুঁড়েঘর সর্বত্রই হাতছানি দিয়ে ডাকছে ভালোবাসা। সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে দিনটি এক অনন্য দিন এটি। এই দিনে একে অন্যকে তাদের ভালোবাসা জানায় প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু-বান্ধব, স্বামী-স্ত্রী, মা-সন্তান, ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ মানুষেরা।

খুবই ঘটা করে আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে সমগ্র বিশ্বে এই দিনটিকে পালন করা হয়। এই দিনে ভালোবাসার মানুষদের দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো।এই দিনে প্রিয়জনকে ফুল ও বিভিন্ন সামগ্রী উপহার দেয় সবাই।প্রিয়জনের সঙ্গে দিনভর স্বর্গীয় সুখের অনুভূতিতে মেতে থাকবেন কপোত-কপোতীরা।  তারুণ্যের অনাবিল আনন্দ আর বিশুদ্ধ উচ্ছ্বাসে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও  এ দিনটি পালন করা হচ্ছে।

প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে ভ্যালেনটাইনস ডে সার্বজনীন হয়ে ওঠে ।প্রাচীন রোমে ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল রোমান দেব-দেবীর রানী জুনোর সম্মানে ছুটির দিন। জুনোকে নারী ও প্রেমের দেবী বলে লোকে বিশ্বাস করত। কারো করোমতে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস হওয়ার কারণ ছিল এটিই। আবার কেউ বলেন, রোমের সম্রাট ক্লডিয়াস ২০০ খ্রিস্টাব্দে দেশে বিয়ে প্রথা নিষিদ্ধ করেন। তিনি ঘোষণা দেন, আজ থেকে কোনও যুবক বিয়ে করতে পারবে না। যুবকদের জন্য শুধুই যুদ্ধ। তার মতে, যুবকরা যদি বিয়ে করে তবে যুদ্ধ করবে কারা? সম্রাট ক্লডিয়াসের এ অন্যায় ঘোষণার প্রতিবাদ করেন এক যুবক। যার নাম ভ্যালেন্টাইন। অসীম সাহসী এ যুবকের প্রতিবাদে খেপে উঠেছিলেন সম্রাট। রাজদ্রোহের শাস্তি হিসেবে ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে তার মাথা কেটে নেয়া হয়।ভালোবাসার জন্য ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগকে স্মরণ করতে তখন থেকেই এ দিনটিকে  ভ্যালেন্টাইন দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

তবে এটিও সর্বজন স্বীকৃত নয়।এখানেও দ্বিমত আছে।কারও কারও মতে, প্রাচীন রোমে ভ্যালেন্টাইন নামে একজন চিকিৎসক ছিলেন। তিনি রোগীদের প্রতি ভীষণ সদয় ছিলেন। অসুস্থ মানুষের ওষুধ খেতে কষ্ট হয় বলে তেঁতো ওষুধ ওয়াইন, দুধ বা মধুতে মিশিয়ে খেতে দিতেন তিনি। সেই ডাক্তার খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। প্রাচীন রোমে খ্রিস্টধর্ম তখন মোটেও জনপ্রিয় ছিলনা। এই ধর্মে বিশ্বাসীদের শাস্তি দেয়া হতো।একদিন রোমের এক কারা প্রধান তার অন্ধ মেয়েকে চিকিৎসার জন্য ভ্যালেন্টাইনের কাছে নিয়ে এসেছিলেন। ভ্যালেন্টাইন কথা দিয়েছিলেন তার সাধ্যমতো চিকিৎসা করবেন তিনি। মেয়েটির চিকিৎসা চলাকালিন হঠাৎ একদিন রোমান সৈন্যরা এসে ভ্যালেন্টাইনকে বেঁধে নিয়ে যায়। ভ্যালেন্টাইন বুঝতে পেরেছিলেন, খ্রিস্টান হওয়ার অপরাধে তাকে মেরে ফেলা হবে। ২৬৯ খ্রিষ্টাব্দে বা কারও মতে ২৭০খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি রোম সম্রাট ক্লডিয়াসের আদেশে ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।তার আগে ভ্যালেন্টাইন অন্ধ মেয়েটিকে বিদায় জানিয়ে একটি চিরকুট লিখে রেখে যান। তাকে হত্যার পর চিরকুটটি দেন মেয়েটিকে কারা প্রধান। এতে লেখা ছিল, ‘ইতি তোমার ভ্যালেন্টাইন’। মেয়েটি চিরকুটের ভেতরে বসন্তের হলুদ ত্রৌকস ফুলের আশ্চর্য সুন্দর রং দেখতে পেয়েছিল কারণ, ইতোমধ্যে ভ্যালেন্টাইনের চিকিৎসায় মেয়েটির অন্ধ দু’চোখে দৃষ্টি ফিরে এসেছিল। ভালবাসার এসব কীর্তির জন্য ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে পোপ জেলাসিয়ুস ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে এই দিনটিকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে হিসেবে পালন করে আসছে মানুষ।

৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয়, তখন সেন্ট ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু করা হয়। দিনটি যুক্তরাষ্ট্র বা পাশ্চাত্য সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।কালক্রমে এটি  ইউরোপ থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে প্রতিটি দিনই ভালোবাসার দিন, ভালোবাসা প্রকাশের দিন। তবুও বছরের একটি বিশেষ দিনকে বেছে নেয়া হয়েছে ভালোবাসা দিবস হিসেবে।

বিএনএনিউজ২৪.কম/এস জি নবী

 

Print Friendly and PDF

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
February 2020
FSSMTWT
« Jan  
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031