বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ব্রেকিং নিউজ

৬ নেতা ৭ সমীকরণ, উত্তর রাতে


১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ৭:০৪ : অপরাহ্ণ

।। মুহাম্মদ জুলফিকার হোসেন ।।

অপেক্ষা ১৯ জনের। তবে কৌতূহলের কেন্দ্রে আছেন ছয় নেতা। প্রশ্ন একটাই। কে পাচ্ছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। উত্তরটাও মিলে যেতে পারে খুব শিগগির। সব ঠিক থাকলে আজ রাতে!

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, এবারের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে ছয় নেতার মধ্যে। তবে মনোনয়ন ফরম কেনা অন্য ১৩ জনের যেকোনো একজন নৌকার টিকিট পেয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

আরও পড়ুন : তুফানে ওলটপালট সব হিসাব!

মনোনয়ন প্রক্রিয়ার শেষ মুহূর্তে এসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে মোট ছয়জন নেতার নাম। নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, সদস্য ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম, সদস্য হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তুফান এবং চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের মধ্যে যেকোনো একজন মনোনয়ন পেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আজ শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য সভায় চট্টগ্রামের মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

আরও পড়ুন : ‘হঠাৎ’ আলোচনায় বিএসসি-সুজন, আছেন ছালামও!

জানা যায়, এবারের চসিক নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। এরমধ্যে সাংগঠনিক শক্তি, সংগঠনের ভেতরে বিরোধী পক্ষের অবস্থান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিবেচনায় শুরুর দিকেই থাকবে। একইসঙ্গে কেন্দ্রে প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে তদবিরও মনোনয়নের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে মনোনয়নের সমীকরণ মেলাতে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডকে আলোচিত ছয় প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা ছাড়াও বিবেচনায় আনতে হবে আরও একটি বিষয়। চসিকের বর্তমান মেয়র হিসেবে আ জ ম নাছির উদ্দীনের অগ্রাধিকার প্রার্থী বাছাইয়ের সমীকরণে যোগ করবে বাড়তি মাত্রা।

আরও পড়ুন : নওফেলে কৌতূহল, স্ট্যান্ডবাই মনজুর!

আলোচিত ছয় প্রার্থীর শক্তির জায়গা কোথায়? দুর্বলতাই বা কী কী? সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছে বিএনএ। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

আ জ ম নাছির উদ্দীন, বর্তমান মেয়র

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র হিসেবে শুরুতেই একধাপ এগিয়ে আছেন। তার শক্তির জায়গা নগরে সাংগঠনিক বলয়। মেয়র হিসেবে বিলবোর্ড উচ্ছেদ, নগরে সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছেন তিনি। আবার ফুটপাত হকারমুক্ত করা, জলাবদ্ধতার মতো নাগরিক সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে তিনি পূর্বসূরীদের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। এছাড়া পাঁচ বছরেও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়া কিংবা জলাবদ্ধতার মেগা প্রকল্প সিডিএ’র অনুকূলে বরাদ্দ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নাছিরের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে যথেষ্ট। এছাড়া এবার তিনি মনোনয়ন চাওয়ার পরও নগর আওয়ামী লীগের তিন সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষসহ মোট ১৮ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ নগরে বিরোধী শক্তির শক্ত অবস্থানকেই দিকনির্দেশ করে। সবমিলিয়ে প্রার্থী মনোনয়নে সাংগঠনিক অবস্থানের পাশাপাশি বর্তমান মেয়র পদের কারণে বাড়তি গুরুত্ব পেলেও সার্বিক বিবেচনায় আ জ ম নাছিরকে বড় ধরনের পরীক্ষার সামনেই পড়তে হবে।

খোরশেদ আলম সুজন, রাজনীতিক

নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। গত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সমস্যা-অসঙ্গতি নিয়ে কাজ করছে নাগরিক উদ্যোগ। এই সংগঠনের নেপথ্যের মূল মানুষটি খোরশেদ আলম সুজন। সংসদ ও মেয়র নির্বাচনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় বেশ কয়েকবার নাম আসলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পরও দল মনোনীত প্রার্থীর জন্য কাজ করে যাওয়া, দলীয় সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির কারণে এবার মেয়র প্রার্থিতায় দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে ভালোভাবেই এগিয়ে আছেন সুজন।

আবদুচ ছালাম, সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান

নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ার পর থেকেই মেয়র পদে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে চট্টগ্রামে সিডিএ’র ইতিহাসে সবচেয়ে বাজেটের (প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা) উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হয়। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনকে পাশ কাটিয়ে সিডিএ’র অনুকূলে জলাবদ্ধতার মেগা প্রকল্প বরাদ্দ তার প্রতি কেন্দ্রের সুদৃষ্টিকেই দিকনির্দেশ করে। এছাড়া তার সময়েই একনেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, একাধিক ফ্লাইওভার, বাকলিয়া এক্সেস রোডসহ বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। সবমিলিয়ে বরাবরই কেন্দ্রের সুনজরে থাকা ছালাম দলীয় মনোনয়ন পেলে খুব বেশি অপ্রত্যাশিত কিছু হবে না।

মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি

একসময় প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখন পুরোদন্তুর ব্যবসায়ী নেতা মাহবুবুল আলম। তিনি এবারই প্রথম দলীয় মনোনয়ন চাইলেন। দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম চেম্বারের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন মাহবুবুল আলমের সাংগঠনিক দক্ষতাকেই তুলে ধরে। তবে শুধু চেম্বারই নয়, চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সংগঠন খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামের দৃষ্টান্ত মাহবুবুলের আশার পালে ভালোভাবেই হাওয়া দিতে পারে। ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না হয়েও পর পর দুইবার মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পান। মাহবুবুল তাই আশা করতেই পারেন।

হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তুফান, ব্যবসায়ী নেতা

এবারের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী প্রার্থিতার ক্ষেত্রে বড় চমক হতে পারেন হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তুফান। বঙ্গবন্ধুর প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য জহুর আহমেদ চৌধুরীর ছেলে হেলাল উদ্দিন ১২ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন ফরম কেনার পর থেকেই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রার্থিতাকে নিয়ে উড়তে থাকে নানা গুঞ্জন। ব্যবসায়ী নেতা হেলাল বিজিএমইএ ও চট্টগ্রাম চেম্বারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। যুবলীগ হয়ে বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত আছেন তিনি। তার মেজ ভাই মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীকে ইতোমধ্যেই দলের নগর সভাপতি করা হয়েছে। হেলাল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইলেও শেষ পর্যন্ত নিরাশ হয়ে ফেরেন। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে, এবার মেয়র মনোনয়নে নৌকার টিকিট পেয়ে চমক দেখাতে পারেন হেলাল উদ্দিন।

মোহাম্মদ মনজুর আলম, সাবেক মেয়র

কাউন্সিলর থেকে মেয়র, সংসদ নির্বাচন থেকে স্থানীয় সরকার, আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে বিএনপির প্রার্থিতা, আবার আওয়ামী লীগে ফেরা, মোহাম্মদ মনজুর আলমকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক এই মেয়র এবার আওয়ামী লীগের হয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। যদিও দলের তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটি বড় অংশ তার প্রার্থিতার বিরোধীতা করছেন। তারপরও শেষ মুহূর্তে বাজির পাশা উল্টে মনজুর আলম মনোনয়ন পেয়ে গেলে খুব বিস্ময়ের কিছু হবে না। সাংগঠনিক ঝামেলা (বিভক্তি) এড়াতে বিএনপির মতো আওয়ামী লীগও তাকে মনোনয়ন দিচ্ছে কিনা তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে কৌতূহলের শেষ নেই।

প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত মোট ১৯ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। বাকি ১৩ জন হলেন নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, প্রাক্তন মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ও তার ছেলে মুজিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা একেএম বেলায়েত হোসেন, মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইনসান আলী, মোহাম্মদ ইউনুস, প্রবাসী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ এরশাদুল আমীন, প্রাক্তন সাংসদ মইন উদ্দিন খান বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান,  প্রাক্তন কাউন্সিলর রেখা আলম চৌধুরী ও দীপক কুমার পালিত।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী আগামীকাল রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) চসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

আরো সংবাদ

আর্কাইভ
February 2020
FSSMTWT
« Jan  
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031